প্রদ্যুত দাস: পুলিসের অভিযানে জলপাইগুড়িতে উদ্ধার চোলাই সহ চোলাই তৈরির সরঞ্জাম। মহিলাদের জন্য রাজ্য সরকারের লক্ষীর ভান্ডারসহ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধাগুলি না পাওয়ায় এবং চা-বাগানে কাজ না থাকায় চোলাই মদ বানাতে বাধ্য হচ্ছেন চা বলয়ের মহিলারা। বেলাকোবা শিকারপুর এলাকার টুম্পা ওরাও ক্যামেরার সামনে অকপটে স্বীকার করেন জমি জায়গা না থাকায়, এবং অভাবের তাড়নায় তারা এই ব্যবসায় নামতে বাধ্য হন
Add Zee News as a Preferred Source
আরও পড়ুন: হাতির আক্রমণে প্রাণ গেল যুবকের! শোকের ছায়া বড়দিঘি বনবস্তিতে...
গোপন সূত্রে খবরের ভিত্তিতে জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ থানার অধীনে বেলাকোবা ফাঁড়ির পুলিসের পক্ষ থেকে শিকারপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ফুলাটিপাড়া এলাকার জনতা ওরাঁও- এর বাড়িতে একটি অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কিছু জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয়। বাজেয়াপ্ত সামগ্রীর মধ্যে ছিল ২০ লিটার চোলাই মদ, ১০ কেজি বাকর, দুটি অ্যালুমিনিয়ামের হাঁড়ি এবং দুটি অ্যালুমিনিয়ামের ফানেল। এই সমস্ত সামগ্রী অবৈধ মদ প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হত বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তল্লাশির সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। তদন্তে উঠে এসেছে যে জনতা ওরাঁও ও তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে বেআইনিভাবে চোলাই মদ তৈরি ও স্থানীয়ভাবে বিক্রি করে আসছিল। তারা এই অবৈধ কার্যকলাপের মাধ্যমে ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে স্থানীয় জনগণের স্বাস্থ্য ও সমাজের ক্ষতি সাধন করে চলেছিলেন।
এই কর্মকাণ্ড শুধুমাত্র বেআইনি নয়, বরং সমাজে একটি অস্থির পরিবেশ তৈরির আশঙ্কা তৈরি করছিল। এলাকাবাসীর অভিযোগ অনুযায়ী, বহু তরুণ এই মদের কারণে বিপথে চলে যাচ্ছে এবং পারিবারিক কলহও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অভিযুক্ত জনতা ওঁরাও-এর স্ত্রী টুম্পা ওঁরাও বলেন, ‘চোলাই বিক্রি করেই সংসার চলাতে হচ্ছে। কোনও কাজ নেই। চা বাগানেও কোনও কাজ নেই। স্বামী মাঝেমধ্যে পাতা কাটে। আর এই মদ দিনে অল্প কিছু বিক্রি করে সংসার চলে। তাও পুলিস সবই নিয়ে গিয়েছে। এখন আর বানাবো না।’
আরও পড়ুন: মাঠজুড়ে দাঁড়িয়ে সারি সারি 'বাবা-মা', উচ্ছ্বসিত কৃষকরা
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিস বর্তমানে তাদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে এবং এলাকাবাসীর সহযোগিতায় অপরাধ দমন ও সমাজে শান্তি রক্ষার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের অভিযান লাগাতা আর চলবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা যায়।