Raniganj BJP candidate ex-wife VS present wife: ঘরের কোন্দল বাইরে। রাজনৈতিক মঞ্চে বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপি প্রার্থী পার্থ ঘোষের প্রাক্তন স্ত্রীর। সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বামীর হয়ে ব্যাট ধরলেন বর্তমান স্ত্রী। খারিজ করলেন সব অভিযোগ। কী অভিযোগ বিজেপি প্রার্থীর প্রাক্তন স্ত্রীর? জবাবে কী বলছেন বর্তমান স্ত্রী?

বাসুদেব চট্টোপাধ্য়ায়: প্রাক্তন বনাম বর্তমান! রানিগঞ্জে বিজেপি প্রার্থীর পারিবারিক যুদ্ধ! প্রাক্তন স্ত্রী তৃণমূলের মঞ্চে আর বর্তমান স্ত্রী সোশ্যাল মিডিয়ায়।
ভোটের লড়াই এবার রাজনৈতিক ময়দান ছাড়িয়ে ঘরের অন্দরের কোন্দলে। পশ্চিম বর্ধমান জেলার রানিগঞ্জের বিজেপি প্রার্থী পার্থ ঘোষের ব্যক্তিগত জীবনকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপি প্রার্থী পার্থ ঘোষের প্রাক্তন স্ত্রী পাপড়ি সিনহা তৃণমূল কংগ্রেসের পতাকা হাতে তুলে নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, রাজনৈতিক মঞ্চ থেকেই বিজেপি প্রার্থী তথা প্রাক্তন স্বামী পার্থ ঘোষের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ অভিযোগ করেন। যার আবার পালটা জবাব সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থীর বর্তমান স্ত্রী রেণুকা ঘোষ।
রানিগঞ্জের শিশুবাগানে তৃণমূল প্রার্থী কালোবরণ মণ্ডলের প্রচার সভায় উপস্থিত হয়ে পার্থ ঘোষের প্রাক্তন স্ত্রী দাবি করেন, অতীতে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার চালানো হয়েছে। তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, "আমার মতো আর কোনও মেয়ে যেন এমন কষ্টের শিকার না হয়। তাই আমি দিদির পাশে দাঁড়িয়েছি। প্রাক্তন স্বামীর চারিত্রিক পরিচয় জেনে তবেই যেন মানুষ ভোট দেন।"
প্রাক্তন স্ত্রীর এই অভিযোগকে পুরোপুরি রাজনৈতিক চক্রান্ত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী পার্থ ঘোষ। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি আদালতের নথি পেশ করেন। তিনি জানান, ২০০৭ সালে তাঁদের পারস্পরিক সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। সেই আবেদনের নথিতে তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী জানিয়েছিলেন যে তাঁদের মধ্যে কেবল মানসিকতার অমিল রয়েছে, অন্য কোনও অভিযোগ নেই। পার্থ ঘোষের প্রশ্ন, "১৯ বছর আগের ঘটনা আজ ভোটের মুখে হঠাৎ মনে পড়ল কেন?" তাঁর দাবি, "এটা স্পষ্টত তৃণমূলের একটি চক্রান্ত।"
একইভাবে এই ঘটনা সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব পার্থ ঘোষের বর্তমান স্ত্রী। বিবাদ যখন জনসমক্ষে, তখন স্বামীর সমর্থনে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন পার্থ ঘোষের বর্তমান স্ত্রী রেণুকা ঘোষ। একটি ভিডিয়ো বার্তায় তিনি দাবি করেছেন, তাঁর স্বামী একজন অত্যন্ত সজ্জন ব্যক্তি। তিনি বলেন, "আমরা দুই সন্তান নিয়ে অত্যন্ত সুখে ও শান্তিতে সংসার করছি। বিয়ের আগে আমি ওঁর ডিভোর্সের সমস্ত কাগজপত্র দেখে সন্তুষ্ট হয়েই বিয়ে করেছিলাম। ওঁর বিরুদ্ধে অতীতে কোনও নির্যাতনের রেকর্ড নেই। আজ তৃণমূলের থেকে টাকা নিয়ে বা রাজনৈতিক স্বার্থে এই ভিত্তিহীন অভিযোগগুলো করা হচ্ছে।"
সবমিলিয়ে রানিগঞ্জের এই 'পারিবারিক বনাম রাজনৈতিক' লড়াই এখন ভোটারদের মধ্যে মূল চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে। কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)