)
মৌমিতা চক্রবর্তী: সুকান্ত মজুমদারের পরে রাজ্য বিজেপির সভাপতি হবেন কে, এনিয়ে বহুদিন ধরেই জল্পনা ছিল। বুধবার সেই জল্পনার অবসান। রাজ্য বিজেপির নতুন সভাপতি হচ্ছেন শমীক ভট্টাচার্য। বুধবার বেলা গড়াতেই ফোন আসে জে পি নাড্ডার। তার পরই স্পষ্ট হয়ে যায় রাজ্য বিজেপির ব্যাটন যাচ্ছে শমীক ভট্টাচার্যের হাতেই। এমনটাই সূত্রের খবর। আজই ওই পদে মনোনয়ন জমা দেবেন শমীক ভট্টাচার্য।
রাজ্য বিজেপি সূত্রে খবর দলের রাজ্য় সভাপতি হওয়ার দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে ছিলেন শমীক। ফলে জল্পনা ছিল তিনিই হতে চলেছেন রাজ্য় বিজেপির নতুন সভাপতি। সেই জল্পনাতেই এবার সিলমোহর পড়ল। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল ২০২৬ সালের ভোটের আগে বিশাল দায়িত্ব আসতে চলেছে শমীকের কাঁধে।
এদিকে, এনিয়ে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, এখনওপর্যন্ত দলের পক্ষ থেকে আমাকে নমিনেশন করবার জন্য কোনও নির্দেশ দেওয়া হয়নি। পার্টির যে পদ্ধতি রয়েছে তার উপরে ভিত্তি করে জানানো হবে কাকে ঐক্যমতের ভিত্তিতে নমিনেশন করতে হবে। যা ঘোষণা তা আগামিকাল হবে। এখনওপর্যন্ত রাজ্য সভাপতিক কোনও নিশ্চয়তা নেই।
২০১৪ সালে প্রথম উপনির্বাচন জয়ী। বিজেপি বিধায়ক বসিরহাট দক্ষিণ থেকে (২০১৪-১৬)। ২০১৬ তে বসিরহাট দক্ষিণে ভোটে দাঁড়িয়ে পরাজিত হন দীপেন্দু বিশ্বাসের কাছে । ২০১৯ এ লোকসভা নির্বাচনে দমদম কেন্দ্র থেকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সৌগত রায়ের কাছে পরাজিত হন। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে রাজারহাট গোপালপুর থেকে লড়াই করেন অদিতি মুন্সীর বিরুদ্ধে।
গত ৪ এপ্রিল রাজ্যসভার সাংসদ হন। ২০২৪ এ কোর কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন।
হাওড়া জেলা থেকে জনসংঘের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিজেপিতে রয়েছে দীর্ঘ ৪৪ বছর। শমীক ভট্টাচার্য ঘনিষ্ট মহলে এও বলেন তিনি নাবালক বয়স থেকে বিজেপির কর্মী । কারণ তিনিই ১৮ বছর আগে থেকে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। ১৯৮০ সালে হওয়া বিজেপির প্রথম রাজ্য সভাপতি পদপ্রাপ্তি থেকে থেকে আজকের সুকান্ত মজুমদার; সকল নেতৃত্বের রাজ্য সভাপতি হওয়ার সাক্ষী শমীক ভট্টাচার্য।
আগামী ২৬ এর নির্বাচনে বিজেপির লক্ষ্য রাজ্য দখল করা। সেই লক্ষ্যে বিজেপির প্রথম টার্গেট জেলার ভোট । সেই জেলার ভোটকে জয় করতে হলে এমন এক নেতার প্রয়োজন যিনি এই রাজ্য তথা প্রত্যেকটি জেলাকে চেনেন । একথা বলাই বাহুল্য যে রাজ্যের ২৪টি জেলা বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের নখদর্পণে।
শমীক ভট্টাচার্যের রাজ্য বিজেপির সভাপতি হওয়ার খবর শুনে দলের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, আমাদের পার্টি গণতান্ত্রিক পার্টি। দলের সংবিধান অনুযায়ী প্রতি ৩ বছর অন্তর নির্বাচন হয়। গোটা দেশেই তা চলছে। পশ্চিমবঙ্গতেও তা চলছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে আমরা নেতা নির্বাচন করি, তাঁর নেতৃত্বে কাজ করি।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)