সৌরভ চৌধুরী: রাত হলেই দরজায় টোকা। দরজা খুললেই নাকি ভোটার কার্ড, আধার কার্ড পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে! লুঠ করা হচ্ছে টাকা, সোনা গয়না! লোকমুখে ছড়িয়েছে গুজব। আর তাতেই আতঙ্কে কাঁপছে ঝাড়গ্রাম। পরিস্থিতি এমনই যে, রীতিমতো রাত জেগে গ্রামে পাহারা দিচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
Add Zee News as a Preferred Source
আরও পড়ুন: Pashchim Medinipur: আমার বউয়ের সঙ্গে শোয়! তীব্র রাগ, জিঘাংসায় প্রতিবেশী কার্তিককে তাঁর ঘরের বিছানাতেই পরপর কোপ অভয়ের...
ভোটের মুখে জঙ্গলমহলে নয়া আতঙ্ক। স্থানীয় সূত্রে খবর, গত কয়েক দিন ধরেই ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়া , সাঁকরাইল, গোপীবল্লভপুরের মতো বেশ কয়েকটি গ্রামে বাড়িতে দুষ্কৃতীদের অস্ত্র দেখানো, ভাঙচুর ও কাগজপত্র নষ্ট করার মতো ঘটনা লোকমুখে ছড়িয়ে পড়েছে। কিন্তু কারা এমন কাজ করছে? কেন-ইবা করছে? সে সম্পর্কে কোনও নির্দিষ্ট তথ্য জানা না গেলেও ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।
এদিকে মাধ্যমিক চলছে। অভিভাবকদের আশঙ্কা, নিরাপত্তাহীনতার কারণে মানসিক স্থিরতা নষ্ট হতে পারে পরীক্ষার্থীদের। অনেকের পক্ষেই পড়শোনার মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, এলাকায় গুজব ছড়াচ্ছে কিছু অসাধু ব্য়ক্তি। কিন্তু কেন? স্পষ্ট নয় এখনও।
সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিস। সন্ধ্য়ার পর ঝাড়গ্রামের এসডিপিও শামিম বিশ্বাস এবং আইসি কৌশিক কুমার সাউ নিজে গ্রামে গ্রামে মানুষকে বোঝাচ্ছেন। পুলিসি টহল-সহ একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া আশ্বাস দিচ্ছেন। জেলা পুলিসের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত লিখিত কোনও অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ডাকাতির কোনও ঘটনায় নজরে আসেনি।
এর আগে, ভূতের গুজবে বালুরঘাটে স্কুলের হস্টেল ছেড়েছিল ছাত্রীরা। বালুরঘাটের কালিকাপুর হাইস্কুলের মেয়েদের হস্টেলে থাকে পঞ্চম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ৭০ জন আদিবাসী ছাত্রী। তাদের দাবি, রাতে হস্টেলে নানারকম আওয়াজ শোনা যাচ্ছে। কেউ বলে নূপুরের আওয়াজ শুনেছে! কেউ আবার বলে মানুষের গলার আওয়াজ!অস্বাভাবিক সব আওয়াজ! এই গুজব ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র আতঙ্ক ছড়ায় ছাত্রীদের মধ্যে।
আতঙ্ক কাটানো চেষ্টা করেছিলেন স্কুলের শিক্ষকরা।। কিন্তু সে চেষ্টা বিফল হয়েছে। ছাত্রীদের মনে ভূতের উপদ্রবের বদ্ধমূল ধারণা দূর করা যায়নি। স্কুল সূত্রে খবর, মাসখানেক আগে ছাত্রীরা নিজেদের মধ্যেই 'ভূত ভূত' খেলা করতে গিয়ে, এক ছাত্রী ভয়ংকর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারপর সেই ছাত্রীর চিকিৎসা করিয়ে তাকে বাড়ি পাঠানো হয়। তারপর হঠাৎ করেই বিগত কয়েকদিন ধরে আবার এই ভূতের আতঙ্ক ছড়িয়েছে ছাত্রীদের মধ্যে।
ফলে হস্টেল ছেড়ে ব্যাগপত্র গুটিয়ে বাড়িমুখো হয় ছাত্রীরা। এই হস্টেল মেয়েদের এবং আদিবাসী সম্প্রদায়ের পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীরাই শুধু থাকার সুযোগ পায়। স্কুলের আরও একটি হস্টেল আছে। কিন্তু যেখানে শুধুমাত্র ছেলেরাই থাকতে পারে। সেই হস্টেলে কিন্তু তেমন কোনও ঘটনা ঘটেনি। পরিস্থিতি একেবারেই স্বাভাবিক।
আরও পড়ুন: Bengal Weather Update: উত্তুরে হাওয়ায় কাঁপছে বাংলা! ফেব্রুয়ারিতেও জমিয়ে শীত, আরও নামবে...
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)