সন্দীপ ঘোষ চৌধুরী: ঝাড়খণ্ডে বাঙালি শ্রমিকের মৃত্যুর প্রতিবাদে তোলপাড় হল মুর্শিদাবাদ। কয়েকদিন আগেই ছত্তীসগঢ়ের রায়পুর থেকে পালিয়ে এসে প্রাণে বেঁচে ছিলেন পুরুলিয়ার ৪ শ্রমিক। এবার পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের ৩ ছাত্রকে নামিয়ে দেওয়া হল ট্রেন থেকে। তাদের দাবি, বাংলা বলায় তাদের ট্রেন থেকে নামিয়ে দেয় রেল পুলিস।
Add Zee News as a Preferred Source
রোজগারের টানে ওই তিন কিশোর যাচ্ছিলেন গুজরাতের সুরাত। পথে ছত্তীসগড়ে ট্রেনে তাদের জেরা করে পুলিস। তিন কিশোর হিন্দি বলতে পারেনি। তার পরেই তাদের ট্রেন থেকে নামিয়ে নেয় রেল পুলিস। কোনও কোনও মহল থেকে এমনও বলা হয়েছে যে নাবালক হওয়ার কারণেই তাদের আটক করেছে পুলিস। এনিয়ে সরব তৃণমূল কংগ্রেস।
বাঙালি ৩ ছাত্রের একজন হল কার্তিক দাস(১৬)। বাড়ি কেতুগ্রামের গঙ্গাটিকুরি পঞ্চায়েতের ঝামটাপুর গ্রামে। বাবা পেশায় দিনমজুর। কার্তিক স্থানীয় বরহান জয়দুর্গা উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির পড়ুয়া। তার সঙ্গে ছিল কার্তিকেরই পাড়ার রাকেশ দাস ও রতন দাস। তারা যাচ্ছিল সুরাতের একটি রুটি কারখানায় কাজ করতে।
আরও পড়ুন-বন্দে ভারত স্লিপারের টিকিট ক্যানসেল করলে কত টাকা ফেরত পাবেন, জেনে নিন...
আরও পড়ুন-প্রথম সাইক্লোথনে সাফল্য! ২৮ জানুয়ারি সূচনা হচ্ছে সিআইএসএফের সাইক্লোথনের দ্বিতীয় সংস্করণ
রাকেশের বাবা বাণেশ্বর দাসের দাবি, আমার ছেলে-সহ তিনজন দেড় মাস আগে সুরাটে গিয়েছিল। দু’সপ্তাহ আগে বাড়ি আসে। এরপর আবার একটি দল কাজে যাচ্ছিল। ওই দলে মুর্শিদাবাদের দুটি ছেলেও রয়েছে। শনিবার সন্ধেয় ফোন করে জানানো হয় ছত্তীসগঢ় স্টেশনে তিনজনকে নামানোর পর রায়পুরে রেলপুলিস আটক করে।
এরকম ঘটনা নিয়ে সরব কেতুগ্রামের বিধায়ক শেখ শাহনাওয়াজ। তিনি বলেন, বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে। ওদের উদ্ধার করে বাড়ি ফিরিয়ে আনার কথা বলেছি প্রশাসনকে।
এনিয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান গোপাল হাজরা বলেন, ছত্তীসগঢ়ে রেলপুলিস ওদের সঙ্গে কথা বলার সময় হিন্দি বলতে পারেনি। বাংলা বলার অপরাধে ওদের আটকে রাখা হয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)