)
প্রদ্যুৎ দাস: ভোটের ফল বেরোতেই জলপাইগুড়ি তৃণমূলের অন্দরের কঙ্কালসার দশা প্রকাশ্যে। এবার দলের জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, বালি পাচার এবং নিয়োগ দুর্নীতির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে সরব হলেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের রাজ্য কমিটির প্রভাবশালী সদস্য দেবজিৎ সরকার ওরফে ডিস্কো। তাঁর দাবি, দলের একাংশ নেতা পদের বিনিময়ে লক্ষ লক্ষ টাকা লেনদেন করছেন।
দেবজিৎ সরকারের দাবি, তৃণমূলের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুড সাপ্লাইয়ে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১৮ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছে। শুধু তাই নয়, টিএমসিপি-র জেলা সভাপতির পদ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে ১৪ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তাঁর। এই প্রসঙ্গে তিনি প্রতীক জৈন নামক এক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে জানান, সরাসরি ক্যামাক স্ট্রিট থেকে ফোন করে এই দাবি জানানো হয়েছিল।
নিজের দলের নেতাদের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দিয়ে দেবজিৎ জানান, কর্মীরা আক্রান্ত হলেও জেলা সভাপতি মহুয়া গোপ বা অন্য নেতৃত্ব তাঁদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দেবজিৎ অভিযোগ করেন। জলপাইগুড়ি পুরসভার কাজকর্ম নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই ছাত্র নেতা।
সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তির খুনের ঘটনার নেপথ্যেও দলের কিছু নেতার যোগ থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন দেবজিৎ। পাশাপাশি তিনি আক্ষেপের সুরে বলেন, 'তৃণমূল নেতারা দূরে সরে গেলেও এখন বিজেপি নেতারাই খোঁজ নিচ্ছেন।' বিজেপির প্রতি তাঁর এই 'নরম' সুর এবং দলের বিরুদ্ধে এমন 'বোমা' ফাটানোয় তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
ভোটের হারের পর দেবজিৎ সরকারের এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে অস্বস্তিতে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেবজিতের এই অভিযোগ কেবল গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নয়, বরং দলের অন্দরে থাকা গভীর ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ। যদিও এই বিষয়ে জেলা তৃণমূলের উচ্চপদস্থ কোনো নেতার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, শুক্রবার তৃণমূল দলের রাজ্য কমিটি মোট ৫জনকে শোকজ় করেছে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে। তার মধ্যেই পাপিয়া ঘোষ রয়েছেন। তার কাছে ইতিমধ্যে চিঠিও পৌঁছে গিয়েছেন। ২৪ঘণ্টার মধ্যে তাঁকে উত্তর দিতে বলা হয়। তিনি উত্তর দিতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন।
পাপিয়া বলেন, 'আমি দলের বিরুদ্ধে কোনও কথা বলিনি। আমি আই প্যাকের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। আই প্যাক আর দল এক নয়। ওদের জন্য দলের ক্ষতি হচ্ছে তা আমি দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সীকে জানিয়েছিলাম। অনেক সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মোবাইলে মেসেজ করেছি আমাদের জেলার নানান সমস্যা নিয়ে। কিন্তু কাজ হয়নি।'
এছাড়া গৌতম দেব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'ওঁকে আমি ব্যক্তিগতভাবে বলেছি। গৌতম দেব আমাদের মতই দলের একজন সদস্য। ওঁকে বলা মানে দলকে বলা নয়। আর বলব না কেন, উনি প্রার্থী হওয়ার পর একটা নির্বাচন কমিটি করেনি। আমরা যারা জেলায় আছি তাদের সঙ্গে আলোচনা করেনি। আমাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায়নি। একারণেই এই ভরাডুবি হয়েছে।'
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)