West Bengal Assembly Election 2026: ৫ বছর আগে যে রাজু শাহি ও সরিতা শাহির বিরুদ্ধে লড়াই করে রাজেশ নিজের জমি শক্ত করেছিলেন, আজ তাঁদেরই দলে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিকে রাজেশ নিজের 'সম্মানে আঘাত' হিসেবে দেখছেন।

অরূপ বসাক: বিধানসভা নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে বাগরাকোটের রাজনীতিতে এল চাঞ্চল্যকর মোড়। দীর্ঘদিনের গোষ্ঠী কোন্দল এবার প্রকাশ্য বিদ্রোহের রূপ নিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রধান মুখ তথা জেলা কমিটির সম্পাদক রাজেশ ছেত্রী পদত্যাগ করে নিজেকে নির্বাচনী প্রচার থেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা করেছেন। ইস্তফার নেপথ্যে ‘পুরনো শত্রু’র পুনরুত্থানই প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েকদিন আগে বাগরাকোটের রাজনীতিতে রাজেশ ছেত্রীর ঘোর বিরোধী হিসেবে পরিচিত ওয়াশাবাড়ি চা বাগানের রাজু শাহিকে জেলা কমিটির সম্পাদক হিসেবে মনোনীত করে জেলা নেতৃত্ব।
উল্লেখ্য, পাঁচ বছর আগে রাজু শাহি ও তাঁর স্ত্রী সরিতা শাহির বিরুদ্ধে লড়াই করেই এলাকায় নিজের রাজনৈতিক ভিত্তি মজবুত করেছিলেন রাজেশ। এবার সেই বিরোধী গোষ্ঠীকেই গুরুত্ব দেওয়ায় সম্মানের প্রশ্নে আপস করতে নারাজ তিনি।
মাল ব্লকের বাগরাকোটের মিনা মোড়ে দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজেশ ছেত্রী জানান, 'দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। এখনও দলে আছি, তবে নির্বাচনের কাজ থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ সরিয়ে নিচ্ছি। এলাকায় কোনো গোষ্ঠী কোন্দল বা অশান্তি আমি চাই না। এবার নির্বাচনের যাবতীয় দায়িত্ব বিরোধী গোষ্ঠীর।'
১৯'-র লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের ৯০০০ ভোটের ব্যবধান কমিয়ে গত ২৪' র লোকসভা নির্বাচনে মাত্র ৩৫০-এ নামিয়ে আনার নেপথ্যে রাজেশের বড় ভূমিকা ছিল। তার নেতৃত্বেই চা বাগান ঘেরা বাগরাকোটে লড়াই চালিয়েছিল তৃণমূল। রাজেশ ছেত্রীর এই সিদ্ধান্তে শিলমোহর দিয়েছেন তাঁর অনুগামীরাও। দলের যুব শাখার অঞ্চল সভাপতি শৈলেন শর্মা, ট্রেড ইউনিয়নের জন প্রকাশ ওরাও, ওম নারায়ণ খেস, বাগরাকোট অঞ্চল কমেটির চেয়ারম্যান সোলোমাইট লামা-সহ একাধিক নেতা নিজ নিজ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। ফলে সংগঠনের ভেতরে ভাঙন আরও স্পষ্ট হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে চাপে পড়েছেন মাল বিধানসভার তৃণমূল প্রার্থী বুলু চিক বরাইক এবং দলীয় নেতৃত্ব। ভোটের গুরুত্ব মাথায় রেখে কোনো পক্ষকে ক্ষুব্ধ না করে কীভাবে সমাধান সূত্র বের করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে ফোনে জানিয়েছেন প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট রোহিত চিক বরাইক। যদিও রাজেশ বিরোধী গোষ্ঠীর তরফে এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। ভোটের মুখে বাগরাকোটে এই অন্তর্দ্বন্দ্ব তৃণমূলের সংগঠনকে কতটা প্রভাবিত করে, এখন সেটাই দেখার।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)