)
দিব্যেন্দু সরকার: রাজ্যে নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের রেশ কাটতে না কাটতেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল হুগলির গোঘাট। শপথের ঠিক পরের দিনেই গোঘাটের নকুণ্ডা এলাকায় এক তৃণমূল নেতার রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য। মৃত যুবকের নাম সহদেব বাগ। তিনি স্থানীয় নকুণ্ডা পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য চায়না বাগের স্বামী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সহদেব বাগ গত রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে এলাকার তৃণমূল পার্টি অফিসের পিছন থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। মৃতদেহের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে এবং লাশের পাশ থেকেই একটি রক্তমাখা মুগুর উদ্ধার করেছে পুলিস। পরিবারের অভিযোগ, গত রাতে বাড়ি থেকে বেরোনোর পর আর ফেরেননি তিনি।
মৃতের পরিবারের দাবি, বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই সহদেবকে ক্রমাগত প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। তৃণমূলের অভিযোগ, যে পার্টি অফিসের পিছন থেকে দেহটি উদ্ধার হয়েছে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর সেটি বিজেপি দখল করে নিয়েছিল। এই পরিকল্পিত খুনের নেপথ্যে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের হাত রয়েছে বলে সরাসরি অভিযোগ করেছে তৃণমূল নেতৃত্ব ও নিহতের পরিবার।
খুনের অভিযোগ অস্বীকার করে বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে দলের কোনও যোগ নেই। তাদের দাবি, বিজেপি কোনওভাবেই খুনের রাজনীতি বা অশান্তিতে বিশ্বাসী নয়। এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল হতে পারে। পুলিস যথাযথ তদন্ত করলেই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।
ঘটনার খবর পেয়েই এলাকায় পৌঁছায় বিশাল পুলিস বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। পুলিস মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা এড়াতে পুলিসি টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। খুনের প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিস। নতুন সরকার গঠনের মুখেই এমন রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডে গোঘাট জুড়ে এখন আতঙ্কের পরিবেশ। মৃত তৃণমূল নেতার অনুগামীরা দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, এই একই ধরণের ঘটনা ঘটে বেলেঘাটায় পাঁচ দিন আগে। গত ৫ মে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে বিশ্বজিৎ পট্টনায়ক (৪৫) নামে এক তৃণমূল কর্মীকে খুনের অভিযোগ ওঠে। মৃত ব্যক্তি পেশায় একজন শ্যেফ ছিলেন এবং ভোট গণনার দিন এজেন্টের দায়িত্ব সামলেছিলেন বলে জানা যায়।
পরিবার সূত্রে খবর, ঘটনার দিন রাত ৮টা থেকেই বিশ্বজিতের ফোনে বারবার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের কল আসছিল। তাঁকে বাড়ির বাইরে বেরোনোর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। রাত সাড়ে ৯টা নাগাদ তিনি বাড়ি থেকে বেরোন। এর কিছুক্ষণ পরেই, রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ জনা ২৫ দুষ্কৃতী তাঁর বাড়িতে চড়াও হয় এবং বাড়ির প্রধান লোহার গেটটি হিঁচড়ে উপড়ে ফেলে দেয়। রাত ১১টা নাগাদ বাড়ি থেকে মাত্র ২০ মিটার দূরে বিশ্বজিৎবাবুকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এনআরএস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)