)
পার্থ চৌধুরী: কাটোয়ার বুড়ো বাবু ওখানে বসে ছিপ ফেলছেন। এভাবেই দলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়কে ঈঙ্গিতপূর্ণ আক্রমণ করলেন রাজ্যের গ্রন্থাগারমন্ত্রী সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী (Siddiqullah Chowdhury)। একটি ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে (Viral Video) দেখা যাচ্ছে তাঁর নির্বাচন কেন্দ্র মন্তেশ্বরের কাছে শ্রীধরপুরে ২১ জুলাই প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখছেন তিনি।সেখানেই তিনি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়-সহ শাসকদলের জেলার নেতাদের নাম না করে সরব হন।
তিনি বলেন, সারা বর্ধমান জেলার রাজনীতিতে আমরা হলাম এক নম্বর। মন্তেশ্বরে এক নম্বর। পরপর তিনবার জিতেছি। বিধানসভায় এক নম্বর। আমাদের ট্যারা চোখে দেখা যাবে না। সে বর্ধমানেই থাকুক, আর কাটোয়ার বুড়োবাবু থাকুক। রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে সিদ্দিকুল্লাহ আরও বলেন, কাটোয়ায় বসে ছিপ বা হুইল দিয়ে মাছ ধরা যাবে না।
২ জুলাই শ্রীরামপুরের সভায় গিয়ে হুমকি তিনি দিয়ে বলেন, কাটোয়া আমার দু-আঙুলের মধ্যে। ওখানে আমার বাড়ি। আমার জন্ম। আমি চল্লিশ বছর ধরে সমাজের কাজ করছি। কেউ বলুক আমায় এক টাকা, ফুটো পয়সা দিয়েছে। আমি একবার পুকুর খুলে দিলে কোথাকার জল কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে! বর্ধমানে বসে নানা কথা বলা হচ্ছে। আমাদের ছেলেমেয়েরা কাজ করে না? ঘাস কাটি আমরা? এসব অন্যায় কথা মেনে নেওয়া যাবে না।
প্রসঙ্গত, ৩ জুলাই মন্তেশ্বর এলাকায় মন্ত্রীকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখান বেশ কিছু মানুষ। মন্ত্রী তার গাড়িতে হামলার অভিযোগও করেন। তার গাড়িতে এবং তার উপর আক্রমণের অভিযোগ করেন। তাকে খুনের চক্রান্তের অভিযোগ করেন। দলেরই পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আহমেদ শেখ এই কাণ্ডের পিছনে আছে বলে দাবি করেন। এমনকি বর্ধমানের পুলিস সুপারের অফিসে অভিযোগ জানাতেও আসেন। সেখানে এর বিচার না হলে দল ছাড়ার হুমকি দেন।
সেদিন এবং পরের দিন দলের জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় সাফ জানিয়ে দেন দলের পতাকা নিয়ে কেউ বিক্ষোভ দেখায়নি। ক্ষোভ থাকলে গণতান্ত্রিকভাবে তার প্রতিবাদ কেউ করতে পারে। আর আহমেদ শেখ ঘটনাস্থলেই ছিলেন না। মন্ত্রী আক্রান্ত হয়েছেন কী না তা বলতে পারবেন না বলেও তিনি জানান। এখন সিদ্দিকুল্লাহর এই বক্তব্যের ভিডিয়ো সামনে আসায় শাসকদলের অভ্যন্তরে অনৈক্যের ছবিটা আবার সামনে চলে এল।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)