Saokat Molla challenged Arabul Islam: 'ক্যানিং পূর্বের মানুষ জানেন উন্নয়ন কারা করেছে। আরাবুল ওখানে বহিরাগত। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, ওকে ১ লক্ষের বেশি ভোটে হারাব। শুধু হারানো নয়, ওর জামানত জব্দ করে তবেই বাড়ি ফিরব।'

প্রসেনজিত্ সরদার: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই ভাঙড় এবং ক্যানিং পূর্বের রাজনৈতিক সমীকরণ নাটকীয় মোড় নিয়েছে। এক সময়ের সতীর্থ, আর বর্তমানে যুযুধান দুই শিবিরের সেনাপতি। ভাঙড়ের দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা ক্যানিং পূর্বের তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা এবার সরাসরি আক্রমণ শানালেন সদ্য আইএসএফ-এ যোগ দেওয়া এবং ক্যানিং পূর্বের আইএসএফ প্রার্থী আরাবুল ইসলামকে।
ভাঙড়ের ঘটকপুকুর এলাকায় এক বিশাল প্রচার মিছিল ও সভা থেকে শওকতের হুঙ্কার— 'ক্যানিং পূর্বে আরাবুল ইসলামের জামানত জব্দ হবে, ১ লক্ষ ভোটে হারাব ওকে।'
আরও পড়ুন:
ঘটকপুকুরে তৃণমূলের শক্তি প্রদর্শন
মঙ্গলবার ভাঙড়ের ঘটকপুকুর এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী শওকত মোল্লার সমর্থনে একটি বর্ণাঢ্য প্রচার মিছিল বের করা হয়। মিছিলে তৃণমূল কর্মীদের উন্মাদনা ছিল চোখে পড়ার মতো। কয়েক হাজার কর্মী-সমর্থক নিয়ে আয়োজিত এই মিছিল শেষে এক পথসভায় বক্তব্য রাখেন শওকত মোল্লা। শুরু থেকেই তার নিশানায় ছিলেন ভাঙড়ের প্রাক্তন বিধায়ক তথা বর্তমানের আইএসএফ প্রার্থী আরাবুল ইসলাম।
স্থান: ঘটকপুকুর, ভাঙড়।
বক্তা: শওকত মোল্লা (তৃণমূল প্রার্থী)।
টার্গেট: আরাবুল ইসলাম (আইএসএফ) ও নওশাদ সিদ্দিকী।
মূল দাবি: ১ লক্ষ ভোটে পরাজয় ও জামানত জব্দ।
বিতর্ক: আরাবুলের আইএসএফ-এ যোগদানের পিছনে 'টাকার খেলা'র অভিযোগ।
'বুলবুল' কটাক্ষ
বক্তৃতার শুরুতেই শওকত মোল্লা এক অভিনব কায়দায় আরাবুলকে আক্রমণ করেন। এক সময় দুজনেই তৃণমূলের হয়ে ভাঙড় সামলাতেন, কিন্তু এখন রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা বদলেছে। শওকত জানান, তিনি আরাবুলকে 'ভালোবেসে' একটি নতুন নাম দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'ওকে এখন থেকে আর আরাবুল নয়, 'বুলবুল' বলে ডাকবেন।' রাজনৈতিক মহলের মতে, আরাবুলের রাজনৈতিক গুরুত্ব হ্রাস পেয়েছে। শওকত তাই ব্যঙ্গ করেছেন
নওশাদ ও আরাবুলের ‘ডিল’ নিয়ে প্রশ্ন
শওকত মোল্লার ভাষণে সবথেকে বড় অভিযোগ ছিল আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে। আরাবুল ইসলামের আইএসএফ-এ যোগদান নিয়ে প্রশ্ন তুলে শওকত বলেন, 'আমি নওশাদ সিদ্দিকীকে প্রশ্ন করতে চাই, ঠিক কত টাকার বিনিময়ে আরাবুলকে আপনারা দলে নিয়েছেন?'
শওকতের অভিযোগ, আদর্শের কোনও মিল নেই, শুধুমাত্র আর্থিক লেনদেন এবং তৃণমূলের ক্ষতি করার লক্ষ্যেই এই অশুভ আঁতাত তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই জোট সাধারণ মানুষ গ্রহণ করবে না।
জামানত জব্দের চ্যালেঞ্জ
ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্র এখন আলোচনার কেন্দ্রে। সেখানে তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা নিজেই। তার বিরুদ্ধে আইএসএফ প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন আরাবুল। এই লড়াই নিয়ে আত্মবিশ্বাসী শওকত বলেন:
'ক্যানিং পূর্বের মানুষ জানেন উন্নয়ন কারা করেছে। আরাবুল ওখানে বহিরাগত। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, ওকে ১ লক্ষের বেশি ভোটে হারাব। শুধু হারানো নয়, ওর জামানত জব্দ করে তবেই বাড়ি ফিরব।'
ভাঙড় ও ক্যানিংয়ের নতুন সমীকরণ
আরাবুল ইসলাম দীর্ঘদিন তৃণমূলের 'তাজা নেতা' হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কিন্তু দলের সাথে দূরত্ব এবং পরবর্তীতে জেল-হাজতবাসের পর তিনি আইএসএফ-এর হাত ধরেন।
শওকতের দাবি, আরাবুল দলত্যাগ করায় তৃণমূলের কোনও ক্ষতি হয়নি, বরং দল আরও স্বচ্ছ হয়েছে। অন্যদিকে, আইএসএফ-এর পক্ষ থেকে এখনও শওকতের এই মন্তব্যের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে ভাঙড় ও ক্যানিং পূর্বের মানুষের কাছে এই লড়াই এখন প্রেস্টিজ ফাইট।
ভোটের নির্ঘণ্ট যত এগিয়ে আসছে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই অঞ্চলে রাজনৈতিক পারদ ততই চড়ছে। একদিকে নওশাদ সিদ্দিকীর আইএসএফ-এর উত্থান চেষ্টা, অন্যদিকে শওকত মোল্লার হাত ধরে তৃণমূলের দুর্গ রক্ষার লড়াই।
ঘটকপুকুরের সভা থেকে শওকত যে ভাষায় আক্রমণ শানালেন, তাতে স্পষ্ট যে আগামী দিনগুলোতে ক্যানিং পূর্ব ও ভাঙড়ের মাটিতে প্রচারের লড়াই আরও তিক্ত হতে চলেছে। এখন দেখার, শওকতের এই '১ লক্ষ ভোটের চ্যালেঞ্জ' ব্যালট বাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)