Heavywight TMC leader joined BJP: তবে শুভেন্দু অধিকারী যখন তৃণমূল ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন, তখন থেকেই দিবাকর জানার বিরুদ্ধে ‘ভেতরে ভেতরে শুভেন্দু অনুগামী’ হওয়ার অভিযোগ ওঠে।

কিরণ মান্না: ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে পূর্ব মেদিনীপুরের রাজনীতির ময়দান ফের উত্তপ্ত। ভোটের মুখে জেলা রাজনীতির অন্দরে বড়সড় রদবদল। দীর্ঘদিন তৃণমূলের সঙ্গে ঘর করার পর, অবশেষে ঘাসফুল শিবিরের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখালেন তমলুকের দাপুটে নেতা দিবাকর জানা।
শনিবার তমলুক জেলা বিজেপি কার্যালয়ে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজেপির জেলা সভাপতির হাত ধরে দলীয় পতাকা তুলে নেন তিনি।
নেপথ্যে 'শুভেন্দু ঘনিষ্ঠতা'?
দিবাকর জানার বিজেপিতে যোগদান নিছক কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এর শিকড় অনেক গভীরে। জেলা রাজনীতিতে দিবাকর জানা একসময় তৃণমূলের অত্যন্ত প্রভাবশালী মুখ ছিলেন। তিনি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং জেলা পরিষদের সদস্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদ সামলেছেন।
তবে শুভেন্দু অধিকারী যখন তৃণমূল ত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেন, তখন থেকেই দিবাকর জানার বিরুদ্ধে ‘ভেতরে ভেতরে শুভেন্দু অনুগামী’ হওয়ার অভিযোগ ওঠে।
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি ছিল, দলে থেকেও তিনি তলে তলে বিজেপির সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিলেন এবং বিরোধী শিবিরের রণকৌশলে সাহায্য করছিলেন। এই ‘অন্তর্ঘাত’-এর অভিযোগে আজ থেকে প্রায় পাঁচ বছর আগে তৃণমূল কংগ্রেস তাকে দল থেকে সাসপেন্ড করে। সেই থেকে তিনি রাজনৈতিকভাবে কিছুটা কোণঠাসা থাকলেও নিজের অনুগামী মহলে যথেষ্ট সক্রিয় ছিলেন।
জেলা কার্যালয়ে গেরুয়া বরণ
এদিন তমলুক জেলা বিজেপি কার্যালয়ে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বিজেপির জেলা সভাপতির হাত থেকে পতাকা নেওয়ার পর দিবাকর জানা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, 'সম্মানের সঙ্গে কাজ করতেই আমি আজ বিজেপিতে সামিল হলাম।'
জেলা বিজেপি নেতৃত্বের মতে, দিবাকরের মতো অভিজ্ঞ এবং দাপুটে সংগঠক দলে আসায় তমলুক ও সংলগ্ন এলাকায় বিজেপির সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে। বিশেষ করে বুথ স্তরে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে ভাঙন ধরাতে দিবাকর জানা বড় ভূমিকা নিতে পারেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
ময়দানে নামার অঙ্গীকার
যোগদান পর্ব শেষ হতেই আক্রমণাত্মক মেজাজে পাওয়া গেল এই নেতাকে। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান:
'দীর্ঘদিন ধরে অপদস্থ হতে হয়েছে। যে আদর্শ নিয়ে তৃণমূল করেছিলাম, তা এখন আর নেই। আজ থেকে আমি পুরোদমে বিজেপি প্রার্থীর হয়ে ময়দানে নামব। তমলুকের মাটিতে পদ্ম ফোটানোই এখন আমার একমাত্র লক্ষ্য।'
তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তার হাত ধরে আগামী দিনে আরও অনেক তৃণমূল কর্মী-সমর্থক বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন। যারা বর্তমানে তৃণমূলে থেকেও দমবন্ধ করা পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছেন, তাদের জন্য বিজেপির দরজা খোলা আছে বলেও তিনি দাবি করেন।
রাজনৈতিক প্রভাব
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা বরাবরই অধিকারী পরিবারের গড় হিসেবে পরিচিত। শুভেন্দু অধিকারীর বিজেপি গমনের পর জেলার তৃণমূল সংগঠনে বড়সড় ভাঙন ধরেছিল।
দিবাকর জানার মতো নেতা, যিনি একসময় তৃণমূলের পঞ্চায়েত স্তর থেকে জেলা স্তর পর্যন্ত দাপিয়ে বেড়িয়েছেন, তার বিজেপিতে যাওয়া তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে।
কেন এই যোগদান গুরুত্বপূর্ণ?
সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা: দিবাকর জানা দীর্ঘ সময় পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদে থাকায় প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক—উভয় ক্ষেত্রেই তার গভীর অভিজ্ঞতা রয়েছে।
শুভেন্দু ফ্যাক্টর: শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তার পুরনো সুসম্পর্ক বিজেপিকে এই এলাকায় বাড়তি সুবিধা দেবে।
তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি: সাসপেন্ডেড নেতাদের এভাবে বিরোধী শিবিরে সক্রিয় হওয়া তৃণমূলের নিচু তলার কর্মীদের মনোবল ভাঙতে পারে।
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া
দিবাকর জানার দলবদল নিয়ে জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এতে দলের কোনো ক্ষতি হবে না। তাদের মতে, 'যিনি পাঁচ বছর আগেই দলবিরোধী কাজের জন্য বহিষ্কৃত হয়েছেন, তার যাওয়ায় দলের ভোটব্যাঙ্কে কোনও প্রভাব পড়বে না। তিনি আগে থেকেই বিজেপির হয়ে কাজ করছিলেন, আজ শুধু সেটা আনুষ্ঠানিকভাবে সামনে এল।'
ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা না হলেও, মেদিনীপুরের মাটিতে যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। একদিকে তৃণমূল যখন তাদের ঘর গোছাতে ব্যস্ত, তখন বিজেপি একের পর এক প্রভাবশালী স্থানীয় নেতাদের দলে টেনে চমক দিচ্ছে।
দিবাকর জানার এই ‘ঘর ওয়াপসি’ না কি ‘নতুন শুরু’—তার উত্তর দেবে আগামীর নির্বাচনী ফলাফল। তবে আপাতত তমলুকের রাজনৈতিক অলিন্দে আলোচনার কেন্দ্রে শুধুই এই ‘শুভেন্দু অনুগামী’ দাপুটে নেতা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)