Dilip Ghosh: ভোটারদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, 'কেউ যদি আপনাদের ভয় দেখায়, ভোট দিতে বাধা দেয় বা ফোনে চমকায়-- ভয় পাবেন না। শুধু তাদের নাম নথিভুক্ত করে আমাদের দিন। সে আগামী দিনে কী ভাবে ভোট দেয়, তা আমি দেখে নেব।'

ই. গোপি: ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের পারদ চড়ছে। আর প্রচারের ময়দানে নেমে বরাবরের মেজাজে ধরা দিলেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। মঙ্গলবার সকালে খড়গপুরের কৌশল্যা ও বারোবেটিয়া এলাকায় প্রচারে বেরিয়ে রাজ্যের শাসকদল এবং পুলিসকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। সাফ জানালেন, সাধারণ মানুষকে কেউ ভয় দেখালে বা ভোটদানে বাধা দিলে তার পরিণাম ভালো হবে না। এমনকি পুলিসকেও বুথের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
জনসম্পর্ক
মঙ্গলবার সকালে স্ত্রী রিঙ্কু মজুমদার ঘোষকে সঙ্গে নিয়ে প্রচারে বের হন দিলীপ ঘোষ। দিন শুরু করেন খড়গপুর পুরসভার ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের কৌশল্যা এলাকা থেকে। এরপর তিনি পৌঁছন বারোবেটিয়াতে। সেখানে এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেন এবং তাদের অভাব-অভিযোগ শোনেন। নতুন বছরের শুরুতে রাজ্যে ‘নতুন সরকার’ গড়ার ডাক দিয়ে তিনি বলেন, 'সারা দেশে পরিবর্তন হচ্ছে, কেবল বাংলা পিছিয়ে রয়েছে। আমরা ভারতকে পশ্চিম দিকে (উন্নতির দিকে) নিয়ে যাচ্ছি, আর পশ্চিমবঙ্গ এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের দিকে।'
উদ্বাস্তু সমস্যা
বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ বাংলার ইতিহাস ও উদ্বাস্তুদের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, 'আমাদের পূর্বপুরুষরা পশ্চিমবঙ্গকে সোনার বাংলা বানিয়েছিলেন। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ওপার বাংলা থেকে এসে এই রাজ্য তৈরি করেছিলেন বলেই আজ আমরা এখানে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছি। নয়তো আমাদের উদ্বাস্তু হয়ে অন্যত্র আশ্রিত থাকতে হতো।' তিনি আরও বলেন যে, যারা ভিটেমাটি এবং কুলদেবতা ছেড়ে এপারে এসেছেন, মোদী সরকার তাদের নাগরিকত্ব (CAA) দিয়ে সম্মানের জীবন নিশ্চিত করেছে।
দুর্নীতির অভিযোগ
তৃণমূল সরকারকে ‘চোরের সরকার’ বলে আক্রমণ করে দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন, বাংলায় এমন কিছু নেই যা চুরি হয়নি। তার কথায়, 'ছাত্রদের স্টাইপেন্ডের টাকা থেকে শুরু করে মিড-ডে মিল-- সবই লুট হচ্ছে। আবাস যোজনার বাড়ি, শৌচালয় এমনকি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকাতেও কাটমানি খাচ্ছে এই সরকারের লোকেরা।' তিনি দাবি করেন, উচ্চশিক্ষা বা উন্নত চিকিৎসার জন্য বাংলার মানুষকে আজও ভিনরাজ্যে ছুটতে হচ্ছে, যা রাজ্যের প্রশাসনিক ব্যর্থতার সবথেকে বড় প্রমাণ।
ছাপ্পা ভোট রুখতে হুঁশিয়ারি
খড়গপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে দিলীপ ঘোষের সবথেকে বড় আক্রমণ ছিল গত নির্বাচনের ‘ছাপ্পা ভোট’ নিয়ে। বারোবেটিয়াতে মন্দিরের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, 'গতবার এই বুথ থেকে ছাপ্পা ভোট দেওয়া হয়েছিল। এবার কোনও গুন্ডা-বদমাইশকে ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হবে না। কোনও বুথ জ্যাম করার ক্ষমতা কারও নেই।'
ভোটারদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, 'কেউ যদি আপনাদের ভয় দেখায়, ভোট দিতে বাধা দেয় বা ফোনে চমকায়-- ভয় পাবেন না। শুধু তাদের নাম নথিভুক্ত করে আমাদের দিন। সে আগামী দিনে কী ভাবে ভোট দেয়, তা আমি দেখে নেব।'
প্রশাসনের সমালোচনা করে তিনি বলেন, 'কোনও পুলিসকে এবার বুথের ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। সেন্ট্রাল ফোর্স বা কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়েই ভোট করানো হবে। এবার ভোট হবে স্বচ্ছ।'
পরিবর্তনের ডাক
বিহার, উত্তরপ্রদেশ এমনকি কাশ্মীরের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, মোদী সরকার চাইলে জঙ্গলরাজ এবং উপত্যকার হিংসা বন্ধ করতে পারে, তবে পশ্চিমবঙ্গ কেন পারবে না? তিনি খড়গপুরের মানুষকে উদাহরণ তৈরির আহ্বান জানান এবং জোর দিয়ে বলেন, 'এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদায় ঘণ্টা বেজে গিয়েছে। খড়গপুর থেকেই পরিবর্তনের ঢেউ শুরু হবে।'
দিলীপ ঘোষের এই চড়া সুরের প্রচারকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। নির্বাচনের মুখে তাঁর এই মন্তব্য ভোটারদের মনে কতটা সাহস জোগায় এবং শাসকদলের পক্ষ থেকে এর কী পাল্টা প্রতিক্রিয়া আসে, এখন সেটাই দেখার।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)