সন্দীপ ঘোষ চৌধুরী: রাজ্যে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত এক নার্স। তাঁর রক্তের নমুনা পুণেয় পরীক্ষা করার পর তা পজিটিভ এসেছে। অন্য এক নার্সও সন্দেহজনক অবস্থায় রয়েনছে। জানা যাচ্ছে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত ওই নার্স অসুস্থ অবস্থায় কাটোয়ায় কার কার সংস্পর্শে এসেছিলেন তা খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্যদপ্তরএকটি বিশেষ টিম গঠন করেছে।
Add Zee News as a Preferred Source
নিপা ভাইরাসে আক্রান্তের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করে তাদের স্বাস্থ্যের অবস্থার খোঁজ খবর নিচ্ছেন পূর্ব বর্ধমান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। অজানা ভাইরাসে আক্রান্ত নার্স শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে ২ জানুয়ারি কাটোয়ার এক চিকিৎসককে দেখিয়েছিল। কাটোয়ার ব্যক্তিগত চেম্বারে চিকিৎসক তরুণীকে চিকিৎসা করেছিল বলে জানা যায়।
ওই চিকিৎসক সিদ্ধেশ্বর গুপ্ত জানান, এক তরুণী এসেছিলেন জ্ঞান হারিয়ে অসুস্থতা বোধ করছিলেন। আমার কাছে চিকিৎসা করিয়েছিলেন। আমি অস্বাভাবিক কিছু দেখি নি। জ্বর,গা ব্যথা বা অন্যকিছু অস্বাভাবিক উপসর্গ ছিল না। ৩ জানুয়ারি তরুণী ফের সংজ্ঞাহীন হলে পরিবারের সদস্যরা কাটোয়া মহকুমা হাসপাতাল তরুণীকে নিয়ে আসে। কাটোয়া হাসপাতালের চিকিৎসকরা অবস্থা অবনতি দেখে তরুণীকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করে। তরুণীর অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তরুণীকে বারাসাত নারায়ণ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে পরীক্ষা করে জানা যায় তরুণী নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত। নিপা ভাইরাসের যে উপসর্গ তার কিছুই ওই তরুণীর মধ্যে ছিল না। তার উপরে নিপা বাংলায় খুব একটা দেখা যায় না। এটা কেরালায় হয় শুনেছি। এটা কারও মনের মধ্যই আসবে না।
আরও পড়ুন-ঘরে বাইরে প্রবল চাপ, ধর্মঘটের পরই Blinkit-Instamart আর দেবে না ১০ মিনিটে ডেলিভারি
আরও পড়ুন-ছিনতাই করে পালানোর সময় PhonePe-তে মিষ্টির দাম মেটানোই কাল হল, ওই ক্লু ধরেই পুলিস...
তরুণীর পরিবার সূত্রে খবর, ওই তরুণী নার্স বারাসাত নারায়ণ হাসপাতালে কাজ করেন। ৩১ ডিসেম্বর চাকরির পরীক্ষা দিতে গুসকরা শহরে গিয়েছিল। কাটোয়া শহরে ফ্লাট থাকলেও তরুণী গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন।
নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত দু’জন স্বাস্থ্যকর্মীকে ইতিমধ্যেই বারাসতের হাসপাতালের আইসিইউ আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি রাখা হয়েছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া রুখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে কড়া সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নির্দেশ অনুযায়ী, হাসপাতালের সমস্ত কর্মী ও চিকিৎসকদের জন্য মুখে মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে।
এদিকে, নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত ওই তরুণী নার্সের বাড়ি স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সংক্রমণ রুখতে মঙ্গলবার সকালে স্বাস্থ্য দপ্তর ও স্থানীয় পঞ্চায়েতের স্বাস্থ্য প্রতিনিধিরা যৌথভাবে ওই বাড়ির চারদিক জীবাণুমুক্ত করেন। বাড়ি ও আশপাশের এলাকা স্যানিটাইজ করা হয়। এই ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে আত্মীয় ও প্রতিবেশীরা জানান, ভয় লাগছে, আতঙ্কের মধ্যেই দিন কাটছে। যদিও পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন যে পদক্ষেপ নিচ্ছে, তা মেনেই চলতে হচ্ছে বলে জানান তাঁরা। তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে এবং আতঙ্ক কমাতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও উদ্যোগ নেওয়ার দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সংক্রমণ ছড়ানো রুখতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি আক্রান্ত নার্সের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করা হচ্ছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)