Dakshin Dinajpur Crime: সেই সময় গ্রামে চলছিল হরিবাসর। ভক্তিমূলক পরিবেশে আনন্দে মেতে উঠেছিল গ্রামের মানুষ। কিন্তু সেই আনন্দ মুহূর্তেই পরিণত হয় আতঙ্ক ও শোকে। হরিবাসর থেকে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন গ্রামবাসী রাস্তার উপর গলাকাটা অবস্থায় এক যুবককে ছটফট করতে দেখেন।

শ্রীকান্ত ঠাকুর: উৎসবের আবহে রক্তস্নাত দক্ষিণ দিনাজপুরের কুমারগঞ্জ। গ্রামজুড়ে যখন হরিবাসরের ভক্তিগীতি চলছে, ঠিক তখনই নিজের ঘরের ভেতর নৃশংসভাবে খুন হলেন এক যুবক। অভিযোগ, প্রেমিকের সঙ্গে ছক কষে স্বামী সুজিত দাসকে (৩০) হাত বেঁধে গলা কেটে খুন করে তাঁর স্ত্রী কৃষ্ণা দাস। রবিবার রাতে কুমারগঞ্জ ব্লকের সাফানগর পঞ্চায়েতের উত্তর কুমারগঞ্জ এলাকায় এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাত ১০টা নাগাদ যখন গ্রামের মানুষ হরিবাসরের আনন্দে মেতে ছিলেন, ঠিক তখনই এই ভয়াবহ কাণ্ড ঘটে। অভিযোগ, সুজিতকে তাঁর নিজের বাড়িতেই প্রথমে বেঁধে ফেলা হয় এবং তারপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রাণ বাঁচাতে মরিয়া হয়ে সুজিত ঘর থেকে বেরিয়ে প্রায় ৫০ মিটার দৌড়ে রাস্তায় চলে আসেন। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে ছটফট করতে দেখে গ্রামবাসীরা তড়িঘড়ি উদ্ধার করে কুমারগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় কুমারগঞ্জ থানার পুলিস। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিসের প্রাথমিক অনুমান এবং স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী, এই খুনের নেপথ্যে রয়েছে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক। ত্রিকোণ প্রেমের জেরেই স্বামীকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে স্ত্রী কৃষ্ণা দাস। ইতিমধ্যেই পুলিস অভিযুক্ত স্ত্রীকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। খুনের সময় তাঁর সঙ্গে আর কে বা কারা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে হরিবাসর থেকে ফিরে ছেলের নিথর দেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন মা লক্ষ্মী দাস। গোটা গ্রামে এখন শুধুই শোক আর আতঙ্কের পরিবেশ।
প্রসঙ্গত, কিছুদিন মধ্যপ্রদেশে এর থেকেও হাড়হিম ঘটনা ঘটে। গত ৭ এপ্রিল রাতে ২৮ বছর বয়সী দেবকৃষ্ণকে তাঁর নিজের বাড়িতেই ধারাল অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়। নিহতের স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা পুরোহিত পুলিসকে জানিয়েছিলেন যে, বাড়িতে ডাকাত দল ঢুকেছিল। তারা প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকার গয়না ও নগদ টাকা লুট করে এবং বাধা দেওয়ায় তার স্বামীকে খুন করে।
তবে তদন্তকারীরা যখন ঘটনার তথ্য মেলাতে শুরু করেন, তখন প্রিয়াঙ্কার বয়ানে অসংগতি ধরা পড়ে। শোকের আড়ালে লুকিয়ে থাকা রহস্য বেরিয়ে আসতে বেশি সময় লাগেনি। দেবকৃষ্ণের পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘকাল ধরেই দেবকৃষ্ণ এবং প্রিয়াঙ্কার মধ্যে অশান্তি চলছিল। নিহতের বোন জ্যোতি অভিযোগ করেন, ২৫ বছর বয়সী প্রিয়াঙ্কা প্রায়শই দেবকৃষ্ণকে তার গায়ের রঙ নিয়ে অপমান করতেন। প্রিয়াঙ্কা বলত, 'তুমি কালো, তুমি আমার যোগ্য নও, আমার আরও ভালো স্বামী প্রাপ্য।' এই পারিবারিক অশান্তির আড়ালে যে বড় কোনো ছক ছিল, তা কেউ বুঝতে পারেনি।
পুলিসি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, প্রিয়াঙ্কা রাজগড়ের বাসিন্দা কমলেশের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। তারা দুজনে মিলেই দেবকৃষ্ণকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। কমলেশ তার সহযোগী সুরেন্দ্র ভাটিকে ১ লক্ষ টাকার বিনিময়ে দেবকৃষ্ণকে মারার সুপারি দেয়। অগ্রিম হিসেবে দেওয়া হয় ৫০ হাজার টাকা।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)