Abhishek Banerjee: জেলায় এবারের নির্বাচনে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তাকে সরাসরি মোকাবিলা করতে নামলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কেশিয়াড়ির সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি এসআইআর-এ ৯০ লাখ মানুষের নাম বাদ গিয়েছে। এদের মধ্যে ৬০ লাখ হিন্দু ও ৩০ লাখ মুসলিম। তবে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে ঠিক কত নাম বাদ গিয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তার পরেও ভোটের আগে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে রাজ্যের ডিলিটেড ভোটারদের মধ্যে। ভোটের তালিকায় নাম না থাকলে কী হবে? নাগরিক অধিকার কি থাকবে? এনিয়ে সরব হলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শনিবার মুর্শিদাবাদের রেজিনগরে নির্বাচনী জনসভায় তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) ডিলিটেড ভোটারদের অধিকার ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন। পাশাপাশি হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) বিরুদ্ধে বিজেপির সঙ্গে সম্পর্কের অভিযোগ তুলে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন।
মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলায় এবারের নির্বাচনে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া নিয়ে যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল, তাকে সরাসরি মোকাবিলা করতে নামলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। রেজিনগরের (Rejinagar) প্রতাপ সংঘ মাঠের জনসভা থেকে তিনি ঘোষণা করেন, ৪ মে সরকার গঠনের পর প্রথম মাসের মধ্যেই যাঁদের নাম জোর করে বাদ দেওয়া হয়েছে তাঁদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে।
মুর্শিদাবাদ জেলায় এই সংখ্যাটা নেহাত ছোট নয়। পরিসংখ্যান বলছে, শুধু এই জেলাতেই সাড়ে চার লক্ষেরও বেশি মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে। ডিটেনশন ক্যাম্প আর নাগরিকত্ব নিয়ে যে ভয় বহুদিন ধরে এই অঞ্চলের সংখ্যালঘু মানুষের মনে জমাট বেঁধে আছে, অভিষেক সেই প্রসঙ্গেও সরাসরি কথা বললেন। তাঁর বক্তব্য, বাংলায় NRC হতে দেওয়া হবে না, গত পাঁচ বছরে যেমন হয়নি, আগামিতেও হবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এই দুটি বার্তার লক্ষ্য আসলে একই। মুর্শিদাবাদের সংখ্যালঘু ভোটব্যাংককে নিশ্চিত করতে চাইছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC), যে ভোট এবার কিছুটা টলমলে বলে দলের ভিতরেও আশঙ্কা রয়েছে।
তবে এদিনের সভার সবচেয়ে ধারাল অংশ ছিল হুমায়ুন কবীরকে (Humayun Kabir) ঘিরে। অভিষেক সরাসরি প্রশ্ন তুললেন, একটি ভিডিয়োয় হুমায়ুনকে বিজেপির (BJP) সঙ্গে আর্থিক লেনদেনের কথা বলতে দেখা গিয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, সেটা যদি সত্যিই ভুয়ো হয়, তাহলে তাঁর দলের রাজ্য সভাপতি পদত্যাগ করলেন কেন? আর কেনই বা আসাদউদ্দিন ওয়েইসির (Asaduddin Owaisi) দল এআইএমআইএম (AIMIM) তাঁর থেকে দূরত্ব তৈরি করল?
হুমায়ুন অবশ্য দাবি করেছেন, ওই ভিডিয়ো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দিয়ে তৈরি। তৃণমূল সেই ব্যাখ্যা মানতে রাজি নয়।
রেজিনগর কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী আতাউর রহমান (Ataur Rahman)। আর হুমায়ুন কবীর একই সঙ্গে নওদা (Nawda) ও রেজিনগর, দুই আসন থেকেই লড়ছেন। ফলে এই কেন্দ্রের লড়াইয়ে আঁচটা এমনিতেই বেশি ছিল, অভিষেকের সভার পর তা আরও তীব্র হল।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)