Yuvasathi Scheme Big Update: এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল রাজ্যের শিক্ষিত বেকারদের কেবল মাসিক ভাতা প্রদান করা নয়, বরং তাদের নির্দিষ্ট কোনও পেশার জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং সেই প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া।

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাজ্য সরকার রাজ্যবাসীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে বরাবরই জনমুখী প্রকল্পের ওপর জোর দিয়ে আসছে। বিশেষ করে যুবসমাজের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একের পর এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।
সম্প্রতি ‘যুবসাথী’ (Yuvasathi) প্রকল্প নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নতুন ঘোষণা রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতীর মধ্যে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে। নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে একদিকে যেমন বেকারদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে, তেমনই তাদের কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে স্বাবলম্বী করার পথও প্রশস্ত করা হবে।
যুবসাথী প্রকল্পের প্রেক্ষাপট ও লক্ষ্য
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম সফল প্রকল্প হলো ‘যুবশ্রী’। তবে সেই প্রকল্পের পরিধিকে আরও বিস্তৃত করে এবং বর্তমান সময়ের কর্মসংস্থানের চাহিদাকে মাথায় রেখে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের সূচনা করা হয়েছে।
এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হল রাজ্যের শিক্ষিত বেকারদের কেবল মাসিক ভাতা প্রদান করা নয়, বরং তাদের নির্দিষ্ট কোনও পেশার জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং সেই প্রশিক্ষণ শেষে কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দেওয়া। মুখ্যমন্ত্রী বারবার জোর দিয়েছেন যে, বাংলার ছেলেমেয়েরা যেন কেবল সরকারি চাকরির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে উদ্যোক্তা হতে পারে।
মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বড় ঘোষণা
সম্প্রতি এক প্রশাসনিক সভায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যুবসাথী প্রকল্প নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের আওতায় থাকা যুবক-যুবতীদের ইন্টার্নশিপের সুযোগ আরও বাড়ানো হবে। রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইন্টার্ন হিসেবে কাজ করার সুযোগ পাবেন তারা, যার ফলে সরাসরি কাজের অভিজ্ঞতা অর্জন সম্ভব হবে।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, এই প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা মাসে ২,৫০০ টাকা করে স্টাইপেন্ড বা আর্থিক সহায়তা পাবেন। তবে এটি কেবল অনুদান নয়, এটি তাদের প্রশিক্ষণের সময়কার হাতখরচ হিসেবে গণ্য হবে। এর পাশাপাশি, যারা এই প্রকল্পের অধীনে প্রশিক্ষণ শেষ করবেন, তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার, যাতে তারা নিজস্ব স্টার্টআপ বা ছোট ব্যবসা শুরু করতে পারেন।
আবেদনের যোগ্যতা ও পদ্ধতি
যুবসাথী প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে মাধ্যমিক পাশ হতে হবে, তবে উচ্চশিক্ষিতরাও এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বয়স হতে হবে ১৮ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে। আবেদনকারীকে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জে নাম নথিভুক্ত থাকতে হবে।
আবেদন প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অনলাইন ভিত্তিক করা হয়েছে যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে। সরকারি পোর্টালে গিয়ে প্রয়োজনীয় নথিপত্র (যেমন আধার কার্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ডিটেইলস) আপলোড করে আবেদন করা যাবে। আবেদন যাচাইয়ের পর যোগ্য প্রার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্য নির্বাচন করা হবে।
প্রশিক্ষণের ক্ষেত্র ও কর্মসংস্থান
যুবসাথী প্রকল্পের একটি বিশেষ দিক হলো এর বৈচিত্র্যময় প্রশিক্ষণের তালিকা। তথ্যপ্রযুক্তি (IT), হস্তশিল্প, বিউটিশিয়ান কোর্স, অটোমোবাইল ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে শুরু করে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সরকার বিভিন্ন বেসরকারি শিল্প সংস্থার সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে, যাতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুবকদের সরাসরি প্লেসমেন্টের ব্যবস্থা করা যায়।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, "আমরা চাই না আমাদের ছাত্রছাত্রীরা শুধু ডিগ্রি নিয়ে বসে থাকুক। তাদের হাতে কাজ দিতে হবে। যুবসাথী প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা সেই পরিকাঠামো তৈরি করছি যেখানে শিক্ষা ও কর্মসংস্থান একই সুতোয় বাঁধা থাকবে।"
সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব
রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে যুবসমাজের মন জয় করতে এই প্রকল্প এক বড় হাতিয়ার। বিরোধীরা যদিও একে 'ভোটের রাজনীতি' বলে কটাক্ষ করেছেন, কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে এই প্রকল্প নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার যুবক-যুবতীরা যারা কারিগরি শিক্ষার জন্য শহরে আসতে পারেন না, তাদের জন্য এই প্রকল্প আশীর্বাদ স্বরূপ।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুবসাথী প্রকল্পের ফলে রাজ্যে দক্ষ শ্রমিকের সংখ্যা বাড়বে। যখন কোনো যুবক প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হয়, তখন সে কেবল নিজের কর্মসংস্থান করে না, বরং আরও কয়েকজনের কাজের সুযোগ তৈরি করে। এটি রাজ্যের সামগ্রিক জিডিপি বৃদ্ধিতেও সহায়ক হবে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ‘যুবসাথী’ প্রকল্প কেবল একটি সরকারি স্কিম নয়, এটি বাংলার যুবশক্তির ক্ষমতায়নের এক বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা বাস্তবায়িত হলে রাজ্যের বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে প্রকল্পের সাফল্য নির্ভর করবে এর সঠিক রূপায়ণ এবং দুর্নীতিরহিত বন্টন ব্যবস্থার ওপর। প্রশাসনিক তৎপরতা যদি সঠিক থাকে, তবে ‘যুবসাথী’ ভারতের অন্যান্য রাজ্যের কাছেও একটি মডেল প্রকল্প হিসেবে গণ্য হতে পারে। বাংলার প্রতিটি ঘরে শিক্ষিত ও দক্ষ যুবক তৈরি করাই এখন রাজ্য সরকারের মূল লক্ষ্য।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)