)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বর্তমান সময়ে রিক্রুটাররা একটি অত্যন্ত চাপের পরিবেশে কাজ করছেন। তাঁদের একদিকে দক্ষ ট্যালেন্ট পাইপলাইন তৈরি করতে হচ্ছে, অন্যদিকে বৃহৎ পরিসরে নিয়োগ সম্পন্ন করতে হচ্ছে এবং একই সঙ্গে ব্যবসায়িক প্রভাবও স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হচ্ছে— সবই সময়ের বিরুদ্ধে লড়াই করে। নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন আর কেবল প্রতি নিয়োগে খরচের হিসাবে মূল্যায়িত হচ্ছে না; এটি ক্রমে ব্যবসার উৎপাদনশীলতার সূচকের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ছে।
এই পরিবর্তন নিয়োগ প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে একটি রূপান্তরকাল নির্দেশ করছে। রিক্রুটারদের অগ্রাধিকার এখন কেবল বাস্তবায়ন নয়, বরং কৌশলগত চিন্তায় সরে যাচ্ছে—যেখানে দ্রুত নিয়োগের পাশাপাশি স্মার্টভাবে কাজ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটেই LinkedIn ও Zee Media–র যৌথ উদ্যোগে তৈরি সিরিজ ‘Beyond AI, CVs & JDs with LinkedIn’–এর দ্বিতীয় পর্বে আলোচনা করেন রুচি আনন্দ, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ট্যালেন্ট ও লার্নিং সলিউশনস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট, LinkedIn এবং সঞ্জীব জৈন, চিফ অপারেটিং অফিসার, Wipro। আলোচনায় উঠে আসে, এই পরিবর্তনের মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া কীভাবে রূপান্তরিত হচ্ছে এবং কেন আরও বুদ্ধিদীপ্ত নিয়োগ ফলাফলের ক্ষেত্রে AI কেন্দ্রীয় ভূমিকা নিতে শুরু করেছে।
‘সঠিক যোগ্যতা’ নির্ধারণে রিক্রুটারদের ওপর বাড়তে থাকা চাপ
নিয়োগ সংক্রান্ত চাপের মধ্যেই রিক্রুটারদের বাস্তবতা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। আগে যেখানে কাজের বিবরণীর সঙ্গে জীবনবৃত্তান্ত মেলানো ছিল তুলনামূলকভাবে সরল একটি প্রক্রিয়া, এখন সেখানে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ব্যবসার চাহিদাকে প্রভাবিত করছে এবং তার ফলে প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনও ক্রমাগত বদলে যাচ্ছে।
এর পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক আবেদন এবং প্রাসঙ্গিক বা যোগ্য প্রার্থীর অভাব রিক্রুটারদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। রুচি আনন্দ এই পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, রিক্রুটাররা একসঙ্গে একাধিক ‘ট্যাক্স’ দিচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, একটি হল ‘সুইচ ট্যাক্স’, যেখানে ব্যবসার চাহিদা বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে কাজের ভূমিকাও বদলাচ্ছে। আরেকটি হলো ‘স্ক্রল ট্যাক্স’, যেখানে বিপুল সংখ্যক প্রোফাইলের ভিড় থেকে প্রাসঙ্গিক প্রার্থী খুঁজে বার করতে হচ্ছে।
এই সব চাপ একসঙ্গে রিক্রুটারদের আরও উদ্দেশ্যনির্ভর ও দক্ষতাভিত্তিক পদ্ধতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। LinkedIn–এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতের অর্ধেকের বেশি রিক্রুটার সাংস্কৃতিক উপযুক্ততার দিকে বিশেষভাবে নজর দিচ্ছেন। একই সঙ্গে ৬৪ শতাংশ রিক্রুটার জানিয়েছেন, প্রযুক্তিগত ও মানবিক দক্ষতার সঠিক সমন্বয় থাকা প্রার্থী শনাক্ত করা এখনও কঠিন।
কৌশলগত অগ্রাধিকার হিসেবে নিয়োগের গতি
নিয়োগের গতি এখন আর শুধু একটি পরিচালনগত সূচক নয়; এটি একটি প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা হয়ে উঠেছে। LinkedIn–এর গবেষণা অনুযায়ী, ৫৮ শতাংশ রিক্রুটার মনে করেন দ্রুত নিয়োগ শীর্ষ প্রতিভায় পৌঁছনোর সুযোগ বাড়ায়। তবে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দেরি হওয়ার বেশিরভাগ কারণই ইচ্ছাকৃত নয়, বরং কাঠামোগত।
ভারতে অর্ধেকের বেশি রিক্রুটার জানিয়েছেন, একাধিক স্তরের অনুমোদন প্রক্রিয়া ধীরগতির নিয়োগের অন্যতম প্রধান কারণ। রুচি আনন্দ এই পরিস্থিতিকে তৃতীয় একটি ‘ট্যাক্স’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যাকে তিনি ‘স্টল ট্যাক্স’ বলেন। তাঁর ব্যাখ্যায়, এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে প্রার্থীর প্রস্তুতির অভাব নয়, বরং প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়ার গতি থেমে যায়।
নিয়োগ প্রক্রিয়া থমকে গেলে প্রার্থীরা আগ্রহ হারান এবং প্রতিষ্ঠান সময় ও সুযোগ—দু’টিই হারায়। ফলে গতি মানে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়; বরং এমন বাধা দূর করা, যাতে গুণগত মান বজায় রেখেই রিক্রুটাররা ধারাবাহিক গতি ধরে রাখতে পারেন।
এই প্রত্যাশা পূরণে AI–এর ভূমিকা
এই জায়গাতেই AI কার্যকর প্রভাব ফেলছে। বিচারবোধের জায়গা দখল না করে, AI রিক্রুটারদের গুণগত মান, গতি এবং পরিসরের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করছে। LinkedIn–এর গবেষণা অনুযায়ী, ৪৫ শতাংশ রিক্রুটার জানিয়েছেন AI নিয়োগ প্রক্রিয়ার দক্ষতা বাড়ায় এবং ৪২ শতাংশ বলেন, এটি তাঁদের পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ থেকে মুক্ত করে, ফলে উচ্চ-মূল্যসম্পন্ন কাজে সময় দেওয়া সম্ভব হয়।
এই পর্বে সঞ্জীব জৈন ব্যাখ্যা করেন, “কাজের বিবরণী তৈরি, প্রাথমিক স্ক্রিনিং এবং প্রার্থী র্যাঙ্কিং–এর মতো ক্ষেত্রে হাতে করা পরিশ্রম কমিয়ে AI রিক্রুটারদের প্রার্থী সংযোগ, অভিজ্ঞতা এবং গভীর মূল্যায়নের দিকে মনোযোগ দিতে সাহায্য করে।” এর ফল শুধু দ্রুত নিয়োগ নয়, বরং আরও ভালো নিয়োগ। জটিলতা সামলানো থেকে সরে এসে ব্যবসার কৌশলগত অংশীদার হিসেবে নিজেদের ভূমিকা আরও শক্তিশালী করতে AI রিক্রুটারদের সহায়তা করছে।
‘Beyond AI, CVs & JDs with LinkedIn’–এর দ্বিতীয় পর্বটি দেখুন: LINK
(Disclaimer: This article is from the Brand Desk. User discretion is advised.)