জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: গোটা বিশ্ব যখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম মেধার দৌড়ে শামিল, তখন ভারতের জন্য এক অত্যন্ত গর্বের খবর। মার্কিন মুলুকের বিশ্বখ্যাত স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এআই প্রতিযোগিতার নিরিখে ভারত বিশ্বে তৃতীয় স্থান দখল করেছে। এই তালিকায় ভারত কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চিনের পিছনেই রয়েছে। এই চমকে দেওয়া র্যাঙ্কিংয়ে দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ব্রিটেন, কানাডা এবং জার্মানির মতো উন্নত দেশগুলিকেও পিছনে ফেলেছে আমাদের দেশ।
Add Zee News as a Preferred Source
স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির 'গ্লোবাল এআই ভাইব্রেন্সি টুল' এই তালিকা তৈরি করেছে। রিপোর্টটি দেশের প্রযুক্তিগত বাস্তুতন্ত্র এবং শক্তিশালী মেধাভিত্তি এআই-এর বিশ্ব দৌড়ে ভারতকে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে সাহায্য করছে, সেই দিকেই ইঙ্গিত করে।
আরও পড়ুন- UPI Payment Without Internet: এবার বিনা ইন্টারনেটেই UPI পেমেন্ট! জানুন স্মার্টফোনে সেট আপ কীভাবে করবেন...
স্ট্যানফোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ৭৮.৬ 'ভাইব্রেন্সি স্কোর' নিয়ে তালিকায় সবার শীর্ষে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা চিনের স্কোর ৩৬.৯৫। আর চমক দেখিয়ে ভারত ২১.৫৯ স্কোর নিয়ে তৃতীয় স্থান নিশ্চিত করেছে। এই স্কোর ভারত-সহ বেশ কয়েকটি উন্নত অর্থনীতির দেশকে পেছনে ফেলে দিয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, সিঙ্গাপুর, জাপান, কানাডা, জার্মানি এবং ফ্রান্স। বিশেষত, ভারতই একমাত্র নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ যারা বিশ্ব তালিকায় এত উপরে জায়গা করে নিল। এই ঘটনা দেশের এআই প্রেক্ষাপটে ভারতের অনন্য অবস্থানকে তুলে ধরল।
এই ভাইব্রেন্সি স্কোর তৈরির জন্য কয়েকটি মূল সূচককে একত্রিত করা হয়েছে। সেগুলির মধ্যে রয়েছে গবেষণা ও উন্নয়ন , মেধা বা প্রতিভার সহজলভ্যতা , বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক প্রভাব , পরিকাঠামো এবং নীতি ও শাসনব্যবস্থা ।
এই সূচকগুলির মধ্যে 'মেধা' বিভাগে ভারত প্রথম তিনের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে। এর থেকেই প্রমাণিত হয় যে, প্রযুক্তি ও ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে ভারতের বিশাল এবং দক্ষ কর্মী বাহিনী কতটা মজবুত। শুধু তাই নয়, ভারতে এআই-এর ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগ, গবেষণার বৃদ্ধি, একটি শক্তিশালী স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম এবং ইঞ্জিনিয়ারিং ও ডেভেলপারদের বিশাল পুল এই র্যাঙ্কিংকে জোরদার করেছে। বলা যায়, 'দমদার' ভারতীয় প্রতিভা যে বিশ্বের নজর কেড়েছে, তা স্ট্যানফোর্ড রিপোর্টই প্রমাণ করে দিল।
স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির এই র্যাঙ্কিং ভারতের জন্য এক বিশাল আশার সঞ্চার করলো। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং এআই প্রতিযোগিতার মধ্যে একটি যোগসূত্র থাকলেও, রিপোর্টে বিশ্বব্যাপী একটি বৃহত্তর উদ্বেগের কথাও বলা হয়েছে যদি এআই-এর বৃদ্ধির সুযোগের অসমতা থাকে, তবে বিশ্বজুড়ে বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন- Personal Data Leak: আপনার গোপনীয়তা বলে আর কিছু নেই! একটা মাত্র ফোন নম্বর দিয়ে সব ভারতীয়র লোকেশন, ব্যক্তিগত তথ্য দেখাচ্ছে প্রক্সিআর্থ...
তবে সব মিলিয়ে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চিনের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ভারতের এই অগ্রগতি বিশ্বমঞ্চে আমাদের দেশের মর্যাদা বাড়ালো। প্রযুক্তি ক্ষেত্রে যে ভারত এখন আর কোনও অংশে পিছিয়ে নেই, এই রিপোর্ট তারই জ্বলন্ত প্রমাণ।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)