)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতীয় বায়ুসেনা আকাশে নজরদারি ক্ষমতা জোরদার করার জন্য ক্রমাগত কাজ করে চলেছে। আর এবার পাকিস্তান-বাংলাদেশ-চিনের বাড়বাড়ন্ত বুঝে নেবে ভারত। ভারতের হাতে 'ডিআরডিও-র (DRDO) তৈরি 'নেত্র এমকেটু' (Netra MkII)। যা 'নেত্র এমওয়ান'-এর উন্নত সংস্করণ। ভারতীয় বিমান বাহিনীকে বাস্তব-সময়ের পরিস্থিতিগত সচেতনতা, হুমকি সনাক্তকরণ এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার জন্য এক শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম প্রদানের জন্য ডিজাইনড 'নেত্র এমকেটু'...
কী এই 'নেত্র এমকেটু'?
'নেত্র এমকেটু' ভারতের পরবর্তী প্রজন্মের এয়ারবর্ন অ্যান্ড আর্লি ওয়ার্নিং বিমান (এইডব্লিউঅ্যান্ডসি)। চলতি বছর জুলাইয়ে যা অধিগ্রহণের জন্য অনুমোদন করেছে কেন্দ্র। এটি একটি এয়ারবাস এ-৩২১ বিমানের মোতায়েন করা হবে। উল্লেখযোগ্য ভাবে উন্নত সহনশীলতার সঙ্গেই ৩০০-ডিগ্রি কভারেজ সহ আরও শক্তিশালী গ্যালিয়াম নাইট্রাইড ভিত্তিক অ্যাক্টিভ ইলেকট্রনিকলি স্ক্যানড অ্যারে (এইএসএ) রাডার এবং উন্নত যুদ্ধ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা প্রদান করবে। প্রায় ১৯০০০ থেক ২০০০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের লক্ষ্যই হল ভারতকে আকাশ নজরদারিতে আরও উন্নত করা।
মূল বৈশিষ্ট্য এবং ক্ষমতা
বিমান কাঠামো: 'নেত্র এমকেটু-তে সেকেন্ড-হ্যান্ড এয়ারবাস এ-৩২১ বিমানে জুড়বে। যা পূর্ববর্তী এমব্রেয়ার ইআরজে১৪৫ প্ল্যাটফর্মের তুলনায় উন্নত সহনশীলতার সঙ্গেই পেলোড ক্ষমতা এবং অপারেশনাল রেঞ্জ প্রদান করবে।
রাডার সিস্টেম: এটিতে একট উন্নত, জিএএন ভিত্তিক এইএসএ রাডার সিস্টেম থাকছে। যার মধ্যে একটি প্রাথমিক ডোরসাল অ্যান্টেনা এবং একটি সেকেন্ডারি নোজ-মাউন্টেড রাডার থাকবে।
৩০০ ডিগ্রি রাডার কভারেজ: এই ডুয়াল-রাডার পদ্ধতিট ৩০০-ডিগ্রি নজরদারি আর্ক প্রদান করে, 'নেত্র এমওয়ান' ২৪০ ডিগ্রি কভারেজ দিত। তার তুলনায় উল্লেখযোগ্য আপগ্রেডেশন। হুমকি ট্র্যাক করার ক্ষমতাও উন্নত।
ডিটেকশন রেঞ্জ: নতুন রাডার সিস্টেমটি উন্নত সনাক্তকরণ রেঞ্জ প্রদান করবে। যা ৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূর থেকে স্টেলথ বিমান, ব্যালিস্টিক মিসাইল এবং ড্রোন ট্র্যাক করতে সক্ষম।
বর্ধিত যুদ্ধ ব্যবস্থাপনা: 'নেত্র এমকেটু'তে আকাশসীমা নজরদারি এবং যুদ্ধ ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা আরও আধুনিক। সমন্বিত স্যাটকম এবং স্থল, বিমান এবং নৌ সম্পদের সঙ্গে নিরাপদ যোগাযোগ এবং সমন্বয়ের জন্য এনক্রিপ্ট করা ডেটা লিঙ্ক অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
উন্নয়ন ও অধিগ্রহণ
প্রকল্প অনুমোদন: ২০২৫ সালের জুলাই মাসে নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রিসভা কমিটি ওরফে সিসিএস 'নেত্র এমকেটু' প্রকল্প অনুমোদন করে।
অধিগ্রহণ: ছ'টি পুরনো এয়ারবাস এ-৩২১ বিমানকে 'নেত্র এমকেটু' প্ল্যাটফর্মে রূপান্তরের জন্য এয়ার ইন্ডিয়া থেকে অধিগ্রহণ করা হবে।
সময়সীমা: প্রথম 'নেত্র এমকেটু' ২০৩৩ সালের মধ্যেই সেনাকে ডিআরডিও সরবরাহ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ২০২৯ সালের দিকে উন্নয়নমূলক পরীক্ষা শুরু হবে।
স্বদেশীয়: ডিআরডিও দ্বারা এই সিস্টেমটি তৈরি হয়েছে, যা ভারতের স্বদেশীয় রাডার প্রযুক্তিতে একটি বড় অগ্রগতি।
উদ্দেশ্য এবং কৌশলগত গুরুত্ব
বিমান প্রতিরক্ষা বৃদ্ধি: 'নেত্র এমকেটু' ভারতীয় বিমান বাহিনীর দূরপাল্লার নজরদারি এবং প্রাথমিক সতর্কতা ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।
আঞ্চলিক হুমকি মোকাবেলা: আকাশপথে নজরদারি সম্পদের আঞ্চলিক ব্যবধান কমিয়ে চিন এবং পাকিস্তান সহ উন্নত হুমকি মোকাবেলা করার জন্য এই সিস্টেমটি তৈরি করা হয়েছে।
সমন্বিত বিমান কমান্ড এবং নিয়ন্ত্রণ: এটি ভারতের সমন্বিত বিমান কমান্ড এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকে সমর্থন করে, যা যুদ্ধক্ষেত্র ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা প্রদান করে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)