)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: 'এন্ড অফ অ্যান এরা'! ভারতীয় সেনায় ৬২ বছরের সার্ভিস দেওয়ার পর অস্তাচলে বহু যুদ্ধের বিশ্বস্ত যোদ্ধা মিগ-২১ ফাইটার জেট (MiG-21)। ভারতীয় বায়ুসেনা (IAF) সেপ্টেম্বরে সোভিয়েত যুগের যুদ্ধবিমানের অবশিষ্ট স্কোয়াড্রনগুলিকে পত্রপাট বিদায় জানাবে। আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর চণ্ডীগড় এয়ারবেস থেকে শেষবার উড়বে মিগ-২১ এর শেষ স্কোয়াড্রন। ১৯৫৫ সালে মিগ ২১ প্রথমবার আকাশে ডানা মেলেছিল। বায়ুসেনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয় ১৯৬৩ সালে। ১৯৬৫ ও ১৯৭১ এর যুদ্ধে লড়া এই মিগই কিন্তু অনেকের কাছে 'ফ্লাইং কফিন'! কারণ 'ঘাতক মিগ ২১' কেড়েছে ২০০ পাইলট ও ৫০ সাধারণের প্রাণ।
তেজস মার্ক-ওয়ানএ
মিগ এখন ইতিহাসের পাতায়। আর এবার তার জায়গা নিচ্ছে তেজস মার্ক-ওয়ানএ (Tejas Mark 1A)। ৯৭টি লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট বা এলসিএ কেনার জন্য ৬২ হাজার কোটি টাকার চুক্তি পাস হয়ে গিয়েছে কেন্দ্রের এক উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে। এবার হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL) এই দেশীয় বিমানগুলি উৎপাদন শুরু করতে পারবে। প্রায় ₹৪৮,০০০ কোটি মূল্যের ৮৩টি বিমানের অর্ডারের পর এটি মার্ক ওয়ানএ জেটের জন্য দ্বিতীয় বড় অর্ডার।
এমকে-ওয়ানএ-র মূল বৈশিষ্ট্য এবং আপগ্রেড:
উন্নত অ্যাভিওনিক্স এবং রাডার: এমকে-ওয়ানএ -তে একটি উন্নত এইএসএ রাডার এবং আরও পরিশীলিত ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে একটি রাডার ওয়ার্নিং রিসিভার (আরডব্লিউআর) এবং অ্যাডভান্সড সেল্ফ প্রোটেকশন জ্যামার (এএসপিজে) পড।
উন্নত অস্ত্রশস্ত্র: এটি বিয়ন্ড ভিজুয়াল রেঞ্জ (বিভিআর) অর্থাত্ দৃশ্যমান পরিসরের বাইরে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপে সক্ষম। রয়েছে আকাশ থেকে আকাশ/ভূমি ক্ষেপণাস্ত্র এবং উন্নত স্বল্প পাল্লার আকাশ থেকে আকাশ ক্ষেপণাস্ত্র (এএসআরএএএম) দিয়ে সজ্জিত।
দেশীয় ডিজিটাল ফ্লাই-বাই-ওয়্যার সিস্টেম: এমকে-ওয়ানএ -তে ডিজিটালি নিয়ন্ত্রিত ফ্লাই-বাই-ওয়্যার সিস্টেম রয়েছে। যা ঐতিহ্যবাহী যান্ত্রিক ফ্লাইট নিয়ন্ত্রণগুলিকে প্রতিস্থাপন করে চালচলন এবং নিয়ন্ত্রণ বাড়ায়।
উন্নত রক্ষণাবেক্ষণ: এমকে-ওয়ানএ -তে রক্ষণাবেক্ষণযোগ্যতা উন্নত করার জন্য এবং টার্নঅ্যারাউন্ড সময় কমানোর জন্য ডিজাইন করা বৈশিষ্ট্যগুলি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা অপারেশনাল প্রস্তুতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নেটওয়ার্ক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম: যোগাযোগ এবং নেটওয়ার্কিং ক্ষমতা উন্নত করার জন্য একটি সফ্টওয়্যার-সংজ্ঞায়িত রেডিও (এসডিআর) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আরও কিছু কথা...
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী হ্যালকে ভীষণ ভাবে সমর্থন করে দেশীয় বিমান উৎপাদনে তৈরির প্রচেষ্টার কারণে। সম্প্রতি তিনি তেজসের একটি প্রশিক্ষক বিমান উড়িয়েছেন, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি এই কাজ করেছেন। মার্ক-ওয়ানএ-র ৬৫% এরও বেশি যন্ত্রাংশ দেশীয়, যা মহাকাশ প্রযুক্তিতে স্বনির্ভরতার জন্য ভারতের প্রচেষ্টাকে তুলে ধরে। প্রাক্তন বায়ুসেনা প্রধান ভিআর চৌধুরী স্পেন সফরের সময় অতিরিক্ত বিমান কেনার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছিলেন হ্যাল ২০০ টিরও বেশি এসিএ মার্ক টু জেট এবং সমসংখ্যক পঞ্চম প্রজন্মের উন্নত মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফ্টের জন্য আরও অর্ডার পেতে পারে। এই প্রকল্পগুলি আত্মনির্ভর ভারত এবং 'মেক ইন ইন্ডিয়া' উদ্যোগের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ। সম্প্রতি, প্রতিরক্ষা অধিগ্রহণ কাউন্সিল হেলিকপ্টার অর্জন এবং যুদ্ধবিমান আপগ্রেড করার জন্য ১.6 লক্ষ কোটি টাকার প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে। প্রথম তেজস বিমানটি ২০১৬ সালে পরিষেবাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। বর্তমানে দু'টি আইএএফ স্কোয়াড্রন এগুলি পরিচালনা করছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)