)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সমুদ্রে চিনের ক্রমাগত বাড়বাড়ন্ত। তবে আর চুপ থাকল না ভারত। চিনের চোখরাঙানি রুখতে ভারত দিল একেবারে ফ্রিগেট দাওয়াই! ভারতীয় নৌসেনার নৌবহরে জুড়ল ভয়ংকর এক জোড়া যুদ্ধজাহাজ। আজ মঙ্গলবার (২৬ অগস্ট) ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপকারী আইএনএস হিমগিরি (INS Himgiri) ও আইএনএস উদয়গিরি (INS Udaygiri) নৌসেনার হাতে তুলে দেওয়া হল প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের উপস্থিতিতে। নিলগিরি ক্লাসের জোড়া স্টেলথ ফ্রিগেট সুপারসনিক ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে শত্রুদেশের যুদ্ধজাহাজকে পলকে ভস্মীভূত করে দিতে সক্ষম। হিমগিরি এবং উদয়গিরি, উভয়ই 'মেড-ইন-ইন্ডিয়া' যুদ্ধজাহাজ, যা প্রজেক্ট ১৭ আলফার (Project 17 Alpha, P-17A) অন্তর্ভুক্ত। আত্মনির্ভর ভারতেরই ফসল এই যুদ্ধজাহাজ।
হিমগিরি-উদয়গিরি
এই প্রথমবার দেশের জোড়া নামজাদা শিপইয়ার্ডের একই সময়ে দুই যুদ্ধজাহাজ তৈরি হল। কলকাতার গার্ডেন রিচ শিপবিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স তৈরি করেছে হিমগিরি। ওদিকে মুম্বইয়ের মাজাগাঁও ডক শিপবিল্ডার্সের তৈরি উদয়গিরি। দ্বৈত কমিশনিংয়ে ভারতের ক্রমবর্ধমান জাহাজ নির্মাণ দক্ষতাই প্রমাণ করে। ভারত এখন তিনটি ফ্রিগেট স্কোয়াড্রন নিয়ে গর্ব করতে পারে। আইএনএস নিলগিরির পর সমুদ্র কাঁপাবে হিমগিরি-উদয়গিরি। যা দেশীয় ক্ষমতার দ্বারা দেশের শিল্প-প্রযুক্তিগত ক্ষমতা এবং আঞ্চলিক শক্তি ভারসাম্য প্রদর্শন করে। উদয়গিরি এবং হিমগিরির নকশার সঙ্গেই গোপনীয়তা, অস্ত্র এবং সেন্সর সিস্টেমে ব্যাপক উন্নতি হয়েছে এবং এগুলি বিভিন্ন ধরণের সামুদ্রিক অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম। নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ডিজাইন ব্যুরো ডব্লিউডিবি দু'টি জাহাজ ডিজাইন করেছে। প্রকৃতপক্ষে, উদয়গিরি হল ডব্লিউডিবি-র দ্বারা ডিজাইন করা ১০০ তম জাহাজ। প্রতিটি যুদ্ধজাহাজই প্রায় ৬৭০০ টন ওজনের। পি-১৭ এ ফ্রিগেটগুলি পূর্ববর্তী শিবালিক-শ্রেণীর ফ্রিগেটগুলির তুলনায় প্রায় পাঁচ শতাংশ বড়।
আইএনএস উদয়গিরি
আইএনএস হিমগিরি
(প্রতিটি জাহাজে অন্যান্য অস্ত্রও রয়েছে- যার মধ্যে সুপারসনিক সারফেস-টু-সারফেস ক্ষেপণাস্ত্র, মাঝারি-পাল্লার সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র, একটি ৭৬ মিমি এমআর গান এবং ৩০ মিমি এবং ১২.৭ মিমি ক্লোজ-ইন ওয়েপন সিস্টেম। সেইসঙ্গে সাবমেরিন/জলতলীয় অস্ত্র ব্যবস্থা)
ইন্দো-প্যাসিফিক, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ভূমিকা
ভারতের জন্য মূল চ্যালেঞ্জ হল চিনের ক্রমবর্ধমান সামুদ্রিক সম্প্রসারণ, যা 'স্ট্রিং অফ পার্লস' নীতির অধীনে গোয়াদর (পাকিস্তান), হাম্বানটোটা (শ্রীলঙ্কা), চট্টগ্রাম (বাংলাদেশ) এবং জিবুতিতে তার দখল প্রতিষ্ঠা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে, নীলগিরি শ্রেণির ফ্রিগেটগুলি ভারতের জন্য একটি শক্তিশালী প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে। ফ্রিগেটগুলি কেবল সমুদ্র বাণিজ্য রুটগুলিকেই রক্ষা করবে না, বরং মালাক্কা প্রণালী থেকে আফ্রিকা পর্যন্ত ভারত মহাসাগর অঞ্চলে ভারতের নৌ উপস্থিতিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলবে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)