)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষায় ব্যবস্থার জোর দেখেছে গোটা বিশ্ব। রাশিয়ার থেকে কেনা এস-৪০০ দূরপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ( India’s S-400 Missile Defence System) সব হিসেব বদলে দিয়েছে।
পুরাণের দেশ ভারতে এস-৪০০ পরিচিত 'সুদর্শন চক্র' নামেই। গত ৭-৮ মে রাতে মাঝ আকাশে, পাকিস্তানের সব মিসাইল ও ড্রোন একাই সে ফুঁ মেরে উড়িয়ে দিয়েছিল। ভারতের গায়ে বিন্দুমাত্র আঁচও পড়তে দেয়নি। পাকিস্তান সেদিনই বুঝে গিয়েছিল, যে ভারত কী জিনিস!
আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষমতা বাড়াতে ভারত মাইলস্টোন পদক্ষেপ নিতে চলেছে। রাশিয়ান মিডিয়া বলছে যে, পুতিনের দেশ থেকে উন্নত '৪০এনসিক্স' অতি-দীর্ঘ-পাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র ওরফে সারফেস-টু-এয়ার মিসাইলের (এসএম) অতিরিক্ত ব্যাচ অর্জনের আলোচনা শুরু করেছে।
'সুদর্শন চক্র'- কীভাবে রুদ্রমূর্তি ধারণ করে ভয়ংকর শক্তি বাড়াচ্ছে?
'৪০এনসিক্স' মিসাইলকে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ পাল্লার সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবেই দেখা হয়। যা খুব দূর পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং শত্রু যুদ্ধবিমান ধ্বংস করতে তৈরি হয়েছে। এস-৪০০-র সঙ্গে এই মিসাইল জুড়ে গেলে ভারতের আকাশসীমাকে আরও শক্তিশালী করে। অভেদ্য় দুর্গে পরিণত করবে। এস-৪০০-র এক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এই মিসাইল। যার ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত আক্রমণাত্মক পরিসর রয়েছে। যা এটিকে বিশ্বের আধুনিকতম দূরপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রগুলির মধ্যে একটি করে তুলেছে। ভারতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা শাখার প্রতিবেদন অনুসারে '৪০এনসিক্স', যুদ্ধবিমান, ইউএভি, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং এমনকি ব্যালিস্টিক বা হাইপারসনিক হুমকি সহ বিস্তৃত লক্ষ্যবস্তুকে বাধা দিতে সক্ষম। ক্ষেপণাস্ত্রটিতে উচ্চ নির্ভুলতার লক্ষ্যবস্তুর জন্য সক্রিয় রাডার হোমিং রয়েছে। এছাড়াও, এটি দিগন্তের বাইরেও কাজ করার ক্ষমতা রাখে, ভূমি-ভিত্তিক রাডার বা বায়ুবাহিত যানবাহন থেকে প্রাপ্ত তথ্য ব্যবহার করে, যা এটিকে যে কোনোও ঐতিহ্যবাহী ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের বাইরে গভীর-আক্রমণ লক্ষ্যবস্তুকে বাধা দিতে সক্ষম করে
ভারত কবে নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে?
চলতি বছর মে মাসে, ভারতীয় সেনা '৪০এনসিক্স' ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একটি পাকিস্তানি আইএসআর বিমানকে গুলি করে মাটিতে নামিয়েছিল। পাকিস্তান এই ঘটনার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি এখনও। কিছু বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেছেন যে, এই ঘটনাটি বিতর্কিত এলাকায় নিয়মিতভাবে বর্ধিত টহলরত প্ল্যাটফর্মগুলির বিরুদ্ধে প্রতিরোধের একটি শক্তিশালী উপায় হিসাবে অস্ত্রটির বৈধতা দেয়। রাশিয়ার থেকে ভারত ৫টি এস-৪০০ স্কোয়াড্রন কিনেছে। যার মধ্যে তিনটি ইতিমধ্যেই সক্রিয় এবং আগামী বছরের মধ্যে আরও দু'টি স্কোয়াড্রন আসবে বলেই আশা করা হচ্ছে। পাঁচটি এস-৪০০ স্কোয়াড্রনের জন্য রাশিয়ার সঙ্গে ভারত ৩৫০০০ কোটি টাকার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ২০১৮ সালে। ভারত এস-৫০০ কিনলে তাহলে ফের নতুন চুক্তি হবে। যদিও কিছু বছর আগে রাশিয়ার থেকে ভারত পেয়েছিল দারুণ প্রস্তাব। পুতিনের দেশ বলেছিল দুই দেশের যৌথ প্রযোজনায় ভারতে তৈরি হোক এস-৫০০।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)