)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নতুন এবং উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের সঙ্গে ভয়ংকর সব ড্রোন তৈরি করছে ইরান। বিশ্বের অন্যতম সেরা সামরিক ব্যবস্থা প্রস্তুতকারক দেশ হিসেবে নিজেদের আলাদা জায়গা করে নিয়েছে আয়াতোল্লা আলি খামেনেইর দেশ। গত শনিবার ২০ সেপ্টেম্বর, তেহরানের আকাশে এক রহস্যময় বস্তু দেখা গিয়েছে। বেসরকারি ভাবে যা এক রহস্যময় ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবেই বর্ণনা করা হচ্ছে। সেই ভিডিয়ো রীতিমতো ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।
আইসিবিএম
গত রবিবার এক ইরানিয়ান সাংসদ বলেন যে, সাম্প্রতিক ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে ইরানের এক আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ওরফে আইসিবিএম উৎক্ষেপণের সফল পরীক্ষা ছিল। এই ক্ষেপণাস্ত্রটি স্পেস লঞ্চ ভেহিকেল (এসএলভি) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি হয়েছে। যাক পাল্লা ১০,০০০ কিলোমিটারেরও বেশি, এবং এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপে পৌঁছাতে পারে। কিন্তু এটা কি সত্য?
আরও পড়ুন: ১৪০ কোটির দেশে এবার এক ছাদের তলায় ৩০০০০ মানুষের বাস! আবাসনেই স্কুল-হাসপাতাল-অফিস
আইসিবিএম কী এবং ইরানের দাবি কী?
আইসিবিএম হল একটি দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যা ৫,৫০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল আঘাত হানতে পারে। বাতাসে উড়ে এবং পরে অবতরণ করে। এটি পারমাণবিক ওয়ারহেড বহন করতে পারে। ইরান দাবি করছে যে, এই নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি একটি এসএলভি (স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকেল) থেকে তৈরি, যা মহাকাশ তাদের কর্মসূচির অংশ ছিল। ইরানিয়ান সাংসদের দাবি যে, তারা সবচেয়ে উন্নত ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করে ফেলল। ভিডিওতে ধোঁয়ার চিহ্ন দেখা গিয়েছিল, যা উৎক্ষেপণের প্রমাণ হিসাবে দাবি করা হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা এই নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার (ডিআইএ, ২০২৫) একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ইরান যদি এখনই সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে ২০৩৫ সালে গিয়ে একটি আইসিবিএম তৈরি করতে পারবে।
ইরানের কাছে বর্তমানে কোন কোন ক্ষেপণাস্ত্র আছে?
বর্তমানে, ইরানের কাছে ২০০০-৩০০০ কিলোমিটার দূরত্বের মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল (এমআরবিএম) আছে, যেমন খোররামশাহর-৪ এবং ফাতাহ-২, কিন্তু আইসিবিএমের কোনও সুনির্দিষ্ট প্রমাণ নেই এখনও। অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ সমিতির রিপোর্ট অনুযায়ী ইরানের এসএলভি প্রোগ্রাম সিমোর্গ আইসিবিএমের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে এটি এখনও প্রোটোটাইপ পর্যায়ে রয়েছে। ইরানের কাছে ৩০০০-এরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র আছে, কিন্তু কোনও আইসিবিএম নেই।
স্বল্প-পাল্লার (এসআরবিএম): ৩০০-১০০০ কিলোমিটার, যেমন শাহাব-১।
মাঝারি-পাল্লার (এমআরবিএম): ১০০০-৩০০০ কিলোমিটার, যেমন খোররামশাহর-৪।
আইসিবিএম দাবি: ১০০০০+ কিলোমিটার, যা মার্কিন পূর্ব উপকূলে পৌঁছাতে সক্ষম। তবে, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা (ডিআইএ) বলছে যে ইরানের আইসিবিএমের জন্য উত্তর কোরিয়া বা অন্যদের সহায়তা প্রয়োজন।
কোন দেশগুলি ঝুঁকির মধ্যে আছে?
মধ্যপ্রাচ্য: ইসরায়েল (১৫০০ কিমি), সৌদি আরব (১২০০ কিমি), সংযুক্ত আরব আমিরশাহী (১০০০ কিমি)—এগুলি ইতিমধ্যেই লক্ষ্যবস্তু।
ইউরোপ: ফ্রান্স, জার্মানি, ব্রিটেন (৩০০০-৪০০০ কিমি)।
এশিয়া: ভারত (২৫০০ কিমি, কিন্তু আইসিবিএম থেকে আরও দূরে), পাকিস্তান (১৫০০ কিমি)।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র: পূর্ব উপকূল (নিউ ইয়র্ক ও ওয়াশিংটন) ১০০০০ কিমি পরিসরের মধ্যে।
ইরানের লক্ষ্য ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপর। ২০২৫ সালের ইসরায়েল-ইরান সংঘর্ষে, ইরান ৫০০টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। আইসিবিএমগুলি মার্কিন ঘাঁটিগুলির (কাতার, বাহারিন) জন্য হুমকি। তবে, ইরানের এসএলভি প্রোগ্রাম একটি আইসিবিএম পরীক্ষার স্তর, যা রাষ্ট্রসংঘের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে। ইরানের আইসিবিএম দাবি উদ্বেগের কারণ তো বটেই যদি তা প্রমাণিত হয়। সত্যি হলে এটি আমেরিকা, ইউরোপ এবং ইসরায়েলের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য হুমকি।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)