)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অথবা এআইয়ের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে তার অপব্যবহারও। সম্প্রতি যুক্তরাজ্য সরকার ঘোষণা করেছে, তারা 'নিউডিফাই' অ্যাপ নিষিদ্ধ করতে চলেছে। এই অ্যাপগুলি এআই প্রযুক্তির সাহায্যে কারও পোশাক ডিজিটালি সরিয়ে নগ্ন ছবি তৈরি করতে সক্ষম, যা সম্পূর্ণ ভুয়ো হলেও দেখতে বাস্তবের মতো। এই ধরনের অ্যাপের মাধ্যমে নারীদের সম্মানহানিকর অবস্থায় উপস্থাপন করে ব্ল্যাকমেল এবং সাইবার হেনস্থার ঘটনা বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাজ্যের নতুন আইন অনুযায়ী, এই ধরনের অ্যাপ তৈরি ও ব্যবহার সম্পূর্ণ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। প্রযুক্তি সচিব লিজ কেনডাল স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, 'নারী ও কিশোরীদের অনলাইন এবং অফলাইনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের অগ্রাধিকার। প্রযুক্তিকে অস্ত্র করে তাঁদের হেনস্থা করা চলবে না।'
এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে যে ভারতে এই ধরনের অ্যাপ বা কনটেন্ট নিয়ে কী ধরনের আইন রয়েছে? ভারতীয় দণ্ডবিধি বা তথ্যপ্রযুক্তি আইনে সরাসরি 'নিউডিফাই' অ্যাপ নিষিদ্ধ করার কোনও স্পষ্ট ধারা নেই। তবে, কিছু বিদ্যমান আইন এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে।
ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি আইন, ২০০০ এর ৬৬ই ধারায় বলা হয়েছে, যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনও ব্যক্তির ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ডিজিটালি বিকৃত করে তা ছড়িয়ে দেয়, তবে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়াও, IPC-র ৪৯৯ (মানহানি), ৫০৯ (নারীর শালীনতা লঙ্ঘন), এবং ৩৫৪ (নারীকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা) ধারাও প্রযোজ্য হতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আইনগুলি যথেষ্ট নয়। কারণ, এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি হওয়া 'ডিপফেক' বা 'নিউডিফাইড' কনটেন্ট অনেক সময় বাস্তব ও ভুয়োর সীমারেখা মুছে দেয়। ফলে প্রমাণ সংগ্রহ এবং অপরাধ প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এছাড়া, এই ধরনের কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে, যার ফলে ক্ষতির মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়।
ভারতের সাইবার আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, 'ভারতে এখনই সময় এসেছে এআই ভিত্তিক যৌন হেনস্থা ও ভুয়ো কনটেন্টের বিরুদ্ধে স্পষ্ট ও কঠোর আইন প্রণয়নের। শুধু বিদ্যমান ধারার উপর নির্ভর করলে অপরাধীরা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যেতে পারে।'
এদিকে, কেন্দ্রীয় সরকার সম্প্রতি ডিজিটাল ইন্ডিয়া অ্যাক্ট নিয়ে কাজ করছে, যেখানে এআই ও ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে কিছু বিধান অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে তা এখনও খসড়া পর্যায়ে রয়েছে।
নারী অধিকার কর্মীরা বলছেন, 'এই ধরনের অ্যাপ নারীদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন। তাই আইনগত পদক্ষেপের পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।'
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রযুক্তি সংস্থাগুলির দায়িত্বও প্রশ্নের মুখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাপ স্টোরে এই ধরনের অ্যাপ কীভাবে অনুমোদন পায়, তা নিয়েও তদন্ত হওয়া উচিত। একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে, যাতে এই ধরনের কনটেন্ট দ্রুত সরিয়ে ফেলা যায়।
এআই প্রযুক্তি যেমন সম্ভাবনার দরজা খুলেছে, তেমনই তার অপব্যবহার সমাজে নতুন ধরনের হুমকি তৈরি করছে। যুক্তরাজ্যের মতো ভারতেও এখনই প্রয়োজন স্পষ্ট আইন, প্রযুক্তিগত নজরদারি এবং জনসচেতনতা না হলে এই ডিজিটাল দানবকে ভবিষ্যতে রোখা বড়ো কঠিন ।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)