)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: এখন হোয়াটসঅ্যাপে নিষিদ্ধ (Whatsapp Blocked User) বা ব্লকড্ হওয়া ব্যক্তিদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকবে না! সাইবার জালিয়াতি (Cyber Scam) এবং স্ক্যাম রুখতে সরকার এমন একটি নিয়ম চালুর কথা বিবেচনা করছে যার অধীনে হোয়াটসঅ্যাপে নিষিদ্ধ ব্যবহারকারীদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্মেও (Other social media app) ব্লক করে দেওয়া হবে। এই বিষয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে। এই নিয়মটি কার্যকর হলে সেই সব অপরাধীদের থামানো যাবে, যারা একটি অ্যাপ থেকে ব্লক্ড হওয়ার পর অন্য অ্যাপে গিয়ে সাধারণ মানুষকে টার্গেট বানায়। অর্থাত্ কাউকে বারবার বিরক্ত করে হোয়াটসঅ্যাপে ব্লকড হলে, ছদ্মবেশে অনেকে অন্য সোশাল মিডিয়া অ্যাপ থেকে স্ক্যাম করে সাধারণ মানুষকে। এবার সেই রাস্তা বন্ধ। অন্য কোনও সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ থেকে আর এই কাজ করা যাবে না।
প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ অ্যাকাউন্ট ব্লক করে হোয়াটসঅ্যাপ সাইবার জালিয়াতি রোখে। এর মধ্যে যেমন জালিয়াতির সাথে জড়িত ব্যক্তিরা থাকেন, তেমনি হোয়াটসঅ্যাপের নির্দেশিকা লঙ্ঘনকারীর লোকেরাও থাকেন।একটি বড় নেটওয়ার্ক কাজ করে এর পিছনে। হোয়াটসঅ্যাপ তাদের মাসিক কমপ্লায়েন্স রিপোর্টে (compliance reports) এই তথ্য নিয়মিত প্রদান করে। তবে মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, জালিয়াতি বন্ধের জন্য এই ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। হোয়াটসঅ্যাপের রিপোর্ট স্বচ্ছতা বাড়ালেও, স্ক্যামারদের অন্য প্ল্যাটফর্মে গিয়ে অপরাধ করা থেকে আটকাতে পারে না।
সরকারের নতুন প্রস্তুতি এখন সরকার হোয়াটসঅ্যাপে নিষিদ্ধ অ্যাকাউন্টগুলোকে সমস্ত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে ব্লক করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, হোয়াটসঅ্যাপ এখন এই নিষিদ্ধ নম্বরগুলো সরকারের সাথে শেয়ার করবে, যাতে সেগুলোকে অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও ব্লক করা যায়। উল্লেখ্য যে, বেশিরভাগ স্ক্যামার মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করেই মানুষকে প্রতারিত করে। একবার অ্যাকাউন্ট তৈরি হয়ে গেলে অনেক ক্ষেত্রে সিম কার্ড ছাড়াও সেটি ব্যবহার করা যায়, যার ফলে প্রতারকদের খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়ে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার 'সিম বাইন্ডিং' (SIM binding) বাধ্যতামূলক করেছে। এটি বাস্তবায়িত হওয়ার পর, সক্রিয় সিম কার্ড ছাড়া ব্যবহারকারীরা হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম বা স্ন্যাপচ্যাটের মতো কোনো মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারবেন না।
ওটিপি (OTP) ভিত্তিক অ্যাপগুলোর ভূমিকা
প্রতারকরা প্রায়ই হোয়াটসঅ্যাপ এবং টেলিগ্রামের মতো জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপগুলো ব্যবহার করে, কারণ একবার ফোন নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট সেটআপ করে ফেললে সেটি সশরীরে সিম কার্ড ছাড়াই ব্যবহার করা যায়। এর ফলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর পক্ষে এই অপরাধীদের খুঁজে বের করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। জালিয়াতিমূলক কার্যক্রম মোকাবিলা করার জন্য একটি সিম কার্ড কখন ইস্যু করা হয়েছে এবং এর সাথে যুক্ত তথ্যগুলো নির্ভুল কি না, তা খুঁজে বের করা অত্যন্ত জরুরি।
ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সাবেক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা রাকেশ মাহেশ্বরী ব্যাখ্যা করেছেন যে, জনগণের কাছে মাসিক প্রতিবেদন পেশ করার মূল লক্ষ্য ছিল এই প্ল্যাটফর্মগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি করা। তিনি আরও যোগ করেন যে, যদি এমন কোনো সুনির্দিষ্ট সমস্যার উদ্ভব হয় যার গভীর তদন্ত প্রয়োজন, তবে সরকারের সেই ক্ষমতা রয়েছে যাতে তারা প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছে আরও বিস্তারিত তথ্য দাবি করতে পারে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)