)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ১৮ দিন মহাকাশে চক্কর কাটার পর নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরলেন শুভাংশু শুক্লা। স্পেসএক্স ড্রাগনের মহাকাশযান 'গ্রেস', যা ভারতের শুভাংশু শুক্লা ও আরও তিনজন মহাকাশচারীকে নিয়ে গিয়েছিল মহাকাশের উদ্দেশ্যে। ১৪ জুলাই মহাকাশচারীরা ভারতীয় সময় বিকেল ৪টে ৩৫ মিনিটে এটি ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন (ISS)-এর হারমনি মডিউল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়। দুপুর ৩টে বেজে ১ মিনিটে পৃথিবীতে ফেরেন শুভ্রাংশ।
'গ্রেস' মহাকাশযানটি প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়া উপকূলের কাছে স্প্ল্যাশডাউন পদ্ধতিতে জলে অবতরণ করে। জলে নামার পরই উদ্ধারকারী জাহাজ সেখানে পৌঁছে মহাকাশচারীদের বের করে আনে। তবে এখন মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে, মহাকাশযানটি মাটিতে না নেমে কেন জলে নামে?
প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক, কী এই স্প্ল্যাশডাউন?
স্প্ল্যাশডাউন হল এমন একটি পদ্ধতি, যেখানে মহাকাশযান পৃথিবীতে ফিরে এসে সোজা কোনো সমুদ্র বা বিশাল জলভাগে অবতরণ করে। এটি সাধারণত প্যারাস্যুটের সাহায্যে ধীরে ধীরে নিচে নামে এবং তারপর জলে আসতে করে স্পর্শ করে।
মহাকাশযান জলেই কেন নামানো হয়?
আসলে, যখন একটি মহাকাশযান পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন তার গতি থাকে প্রতি ঘণ্টায় হাজার হাজার কিলোমিটার। এত বেশি গতির কারণে বাতাসের সঙ্গে ঘর্ষণ হয় এবং প্রচুর তাপ তৈরি হয়, যা মহাকাশযানের ক্ষতি করতে পারে। এই তাপ থেকে রক্ষা পেতে মহাকাশযানের চারপাশে একটি বিশেষ তাপরোধক আবরণ (heat shield) লাগানো থাকে। বায়ুমণ্ডলে ঢোকার পরে মহাকাশযানের গতি কমানোর জন্য প্যারাস্যুট ব্যবহার করা হয়। যখন স্পেস ক্যাপসুল সমুদ্রে পড়ে, তখন তার গতি হয় আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ মাইল প্রতি ঘণ্টা—যা তুলনামূলকভাবে অনেক ধীর। নাসা এই গতি কমানোর জন্য অ্যারোব্রেকিং (aerobraking) নামের একটি কৌশল ব্যবহার করে, যেখানে বায়ুমণ্ডলের ঘর্ষণ কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে গতি কমানো হয়।
যেকোনও পদ্ধতির সুবিধা ও অসুবিধা থাকে। আমরা আগে জানব, স্প্ল্যাশডাউনের সুবিধা কী?
মহাকাশযানকে জলে নামানোর পিছনে রয়েছে বিজ্ঞান এবং যুক্তি—দু’টোই। মহাকাশযান অবতরণের সময় জল প্রাকৃতিক কুসনের (cushion) মতো কাজ করে। আসলে যখন কোনও মহাকাশযান জলে নামে, তখন মাটির তুলনায় অনেক কম ধাক্কা লাগে। ফলে মহাকাশচারীদের শরীরে এবং মহাকাশযানের গায়ে কম ক্ষতি হয়। এমনকি যন্ত্রপাতিগুলিও অনেক বেশি নিরাপদ থাকে।
এই কারণেই NASA, SpaceX এবং অন্যান্য মহাকাশ সংস্থাগুলি মহাকাশযানকে জলে বা সমুদ্রে অবতরণ করায়। আরও একটা বড় সুবিধা হল-যদি অবতরণের হিসাব কিছুটা ভুলও হয়, অর্থাৎ কিছু মাইল এদিক-ওদিক হয়, তবুও সমুদ্রের মধ্যে জায়গার অভাব নেই। সমুদ্র বড় ও ফাঁকা, তাই নিরাপত্তার দিক থেকে এটি অনেক বেশি সুবিধাজনক। পাশাপাশি সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, জলের পৃষ্ঠ মসৃণ ও নিরাপদ। অন্যদিকে, মাটিতে অবতরণ করলে পাহাড়, ঢালু বা অমসৃণ জমির কারণে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে।
স্প্ল্যাশডাউনের অসুবিধা কী?
স্প্ল্যাশডাউনের সেরকম কোনও অসুবিধা নেই। আসলে, এই পদ্ধতির যেমন সুবিধা আছে, তেমনি কিছু গুরুত্বপূর্ণ অসুবিধাও আছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, স্থলে (মাটিতে) অবতরণ আরও নিরাপদ হতে পারে। হ্যাঁ, মাটির উপরে জায়গা শক্ত হলেও, প্যারাস্যুটের সাহায্যে নিরাপদে অবতরণ করানো সম্ভব। অন্যদিকে, যদি জলে কোনো সমস্যা হয়—যেমন ঢেউ, স্রোত, বা আবহাওয়ার অবনতি—তাহলে মহাকাশচারীদের উদ্ধার করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ফাঁকা ও বিশাল সমুদ্রেও অনেক সমস্যা রয়েছে। একসময়, স্প্ল্যাশডাউনের পর ক্যাপসুল খুঁজে পেতে এবং সেগুলোকে নিরাপদে তোলার জন্য একসঙ্গে অনেক নৌবাহিনীর জাহাজ লাগত। এতে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ হত।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)