)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে একটি ক্রমবর্ধমান অসামঞ্জস্য স্পষ্ট হয়ে উঠছে—দক্ষতার চাহিদা বদলাচ্ছে কাজের ভূমিকাগুলোর তুলনায় অনেক দ্রুত। এর ফলে নিয়োগকর্তা ও কর্মজীবীদের কাছে চাকরির প্রস্তুতির সংজ্ঞাও বদলাচ্ছে। এখন বিষয়টি আর কেবল অতীত অভিজ্ঞতাকে একটি নির্দিষ্ট ভূমিকায় মেলানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং গুরুত্ব পাচ্ছে পরিবর্তনশীল ভূমিকার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা।
এই বাস্তবতাই উঠে এসেছে LinkedIn ও Zee Media–র যৌথ উদ্যোগে তৈরি সিরিজ ‘Beyond AI, CVs & JDs with LinkedIn’–এর দ্বিতীয় পর্বে। আলোচনায় অংশ নেন LinkedIn-এর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ট্যালেন্ট ও লার্নিং সলিউশনস বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট রুচি আনন্দ এবং Wipro-র চিফ অপারেটিং অফিসার সঞ্জীব জৈন । আলোচনায় AI–এর প্রভাবে দক্ষতার চাহিদায় পরিবর্তন এবং ভারতের বদলে যাওয়া চাকরির বাজারে ভবিষ্যৎ-প্রস্তুত থাকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
AI–এর যুগে দক্ষতা অর্জন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া
AI কাজের সংজ্ঞা ও কাজ সম্পাদনের পদ্ধতিতে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনকে আরও দ্রুত করছে। রুচি আনন্দ জানান, ২০৩০ সালের মধ্যে আজকের কাজগুলোতে সফল হতে যে দক্ষতাগুলো প্রয়োজন, তার প্রায় ৭০ শতাংশই পরিবর্তিত হবে। এর ফলে দক্ষতার জীবনচক্র ছোট হয়ে আসছে এবং কর্মজীবীদের নিয়মিতভাবে নতুন দক্ষতা অর্জনের প্রয়োজন বাড়ছে।
এই পরিবর্তনকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সঞ্জীব জৈন AI–এর প্রভাবের তুলনা করেন শিল্পবিপ্লবের সময় অ্যাসেম্বলি লাইনের সূচনার সঙ্গে, যা কাজের ধরন স্থায়ীভাবে বদলে দিয়েছিল। তাঁর মতে, বর্তমান সময়ে AI–এর প্রাথমিক জ্ঞান থাকাই প্রতিষ্ঠানগুলিকে বৃহৎ পরিসরে উদ্ভাবনের সুযোগ করে দেয়। এই কারণে অভিজ্ঞতার স্তর নির্বিশেষে, নেতৃত্বস্থানীয় ভূমিকাসহ সব ক্ষেত্রেই AI–সংক্রান্ত বোঝাপড়া ক্রমে একটি মৌলিক মানদণ্ড হয়ে উঠছে। তবে পেশাদারদের মধ্যে প্রকৃত পার্থক্য তৈরি হবে—AI–এর ভিত্তির ওপর তারা কী ধরনের দক্ষতা গড়ে তুলতে পারছেন, তার উপর।
নতুন দক্ষতার চাহিদায় মানবিক সক্ষমতার গুরুত্ব
AI–সংক্রান্ত দক্ষতা যখন একটি বেসলাইন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, তখন মানবিক সক্ষমতাগুলোই হয়ে উঠছে প্রধান পার্থক্যকারী উপাদান। রুচি আনন্দ বলেন, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, কৌশলগত চিন্তাভাবনা এবং উদ্ভাবন—এই দক্ষতাগুলো এখন প্রযুক্তি, ফিনান্স ও অপারেশনসসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে এই প্রযুক্তিগত ও মানবিক দক্ষতার সমন্বয় থাকা প্রার্থী খুঁজে পাওয়াই বর্তমানে নিয়োগকর্তাদের কাছে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। ভারতের ৬৪ শতাংশ রিক্রুটার জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক দক্ষতা থাকা প্রার্থী শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
শেখার সক্ষমতাই হয়ে উঠছে নিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ সূচক
এই ব্যবধান কমাতে প্রয়োজন ধারাবাহিক শেখা এবং সেই শেখার প্রমাণ স্পষ্টভাবে তুলে ধরা। রুচি আনন্দ বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন একটি ট্রাফিক সিগন্যালের উদাহরণ দিয়ে। তাঁর মতে, ব্যাখ্যাহীন কেরিয়ার ব্রেক বা কাজের পরিবর্তন রিক্রুটারদের কাছে ‘লাল সংকেত’ হিসেবে ধরা পড়ে। প্রার্থীদের উচিত প্রোফাইলে এই ধরনের পরিবর্তনের ব্যাখ্যা দেওয়া, যাতে নিয়োগকর্তারা একটি সম্পূর্ণ চিত্র পান।
গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতার উল্লেখ না থাকলে বা প্রোফাইল অসম্পূর্ণ হলে তা ‘হলুদ সংকেত’ হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্যদিকে, যেসব প্রোফাইলে স্পষ্ট প্রস্তুতির বার্তা থাকে—যেমন পরিষ্কার প্রোফাইল সারসংক্ষেপ, শক্তিশালী স্কিল তালিকা এবং ‘Open to Work’ ব্যাজের মাধ্যমে চাকরি খোঁজার ইচ্ছার স্পষ্ট ইঙ্গিত—সেগুলো রিক্রুটারদের কাছে ‘সবুজ সংকেত’ হয়ে ওঠে।
‘Open to Work’, নোটিস পিরিয়ড, বেতন প্রত্যাশা এবং আপডেটেড স্কিলের মতো ফিচারগুলো নিয়োগকর্তাদের দ্রুত এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে প্রার্থীর প্রস্তুতি মূল্যায়নে সাহায্য করে। তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বা তার বেশি স্কিল উল্লেখ থাকলে LinkedIn প্রোফাইল রিক্রুটারদের দ্বারা দেখা হওয়ার সম্ভাবনা ৫.৬ গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। পরিবর্তনশীল চাকরির বাজারে, যাঁরা শেখা, উদ্দেশ্য ও অভিযোজন ক্ষমতার স্পষ্ট সংকেত দিতে পারেন, তাঁরাই কেরিয়ার অগ্রগতির সুযোগ তৈরি করতে সক্ষম হচ্ছেন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)