পাবলিক ওয়াশরুমের হ্যান্ড ড্রায়ার—পরিষ্কার ও ইকো-ফ্রেন্ডলি মনে হলেও, সত্যিটা কিন্তু একটু ভয়ঙ্কর!
এই মেশিনগুলো বাইরে থেকে তাজা বা ফিল্টার করা বাতাস নেয় না। ওরা টানে ঠিক ওই টয়লেটের বাতাস—যেখানে ভাসছে অদৃশ্য ব্যাকটেরিয়া, ধুলো, এমনকি মলকণাও!
প্রতিটি ফ্লাশের সময় বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে অতি সূক্ষ্ম জলকণা—"toilet plume"। এই কণাগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভেসে থাকে ঘরে।
যখন হ্যান্ড ড্রায়ার চালান, সেটা এই দূষিত বাতাস টেনে নিয়ে আবার আপনার হাতের ওপর ফুঁ দেয়! ফল? সদ্য ধোওয়া হাত মুহূর্তেই হয়ে যায় জীবাণুতে ভরা।
জেট এয়ার ড্রায়ার বা হাই-পাওয়ার ড্রায়ার সবচেয়ে বিপজ্জনক। এক গবেষণা বলছে— এরা পেপার টাওয়েলের তুলনায় ১,৩০০ গুণ বেশি জীবাণু ছড়ায়!
এই ড্রায়ার থেকে ছুটে আসা বাতাস গায়ে, মুখে, এমনকি পাশের মানুষ পর্যন্ত জীবাণু ছড়ায়।
বাথরুমে সবসময়ই আর্দ্রতা বেশি থাকে। এই স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে ছত্রাক ও ফাঙ্গাস জন্ম নেয় যা ড্রায়ার ঘুরিয়ে আবার হাতের ওপর এসে পড়ে!
ড্রায়ারের ফুঁয়ে থাকা অ্যালার্জেন, ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়া নাক, গলা, ও ত্বকে জ্বালা তৈরি করে।
অনেকে ভাবে, কাগজ বাঁচানো মানেই পরিবেশ বাঁচানো। কিন্তু হ্যান্ড ড্রায়ার বারবার একই জীবাণু বাতাস ঘুরিয়ে দেয়। সেই 'ইকো' আসলে 'ইকো-হ্যাজার্ড' হয়ে ওঠে!
পেপার টাওয়েল! এগুলো শুধু হাত শুকোয় না, বরং ধোওয়া হাতে থাকা জীবাণুও মুছে ফেলে।
হ্যান্ড ড্রায়ার নয়, নিজে থেকে বাতাসে শুকোতে দিন হাত। তাতে জীবাণুর ঝুঁকি অনেক কম।
পরের বার হ্যান্ড ড্রায়ারের আওয়াজ শুনলে, ভাবুন একবার, সেই বাতাসে কী উড়ছে, আপনি জানেন তো?