কাঠঠোকরার জিভ তার শরীরের তুলনায় অত্যন্ত লম্বা। কিছু প্রজাতির কাঠঠোকরার জিভ তার মাথার পেছন দিয়ে ঘুরে গিয়ে গলায় পৌঁছে আবার মুখে ফিরে আসে। এটি একটি 'রিল ট্র্যাক'-এর মতো জটিল কাঠামো।
কাঠঠোকরার জিভের ভিতরে থাকে হাইয়াল অ্যাপারেটাস (hyoid apparatus) নামে একধরনের হাড় আছে। এটা জিভকে নিয়ন্ত্রণ করে। এর সাহায্যেই তারা গর্তের ভেতর থেকেও পোকামাকড় ধরে।
তাদের জিভে থাকে আঠালো লালা, যা পোকামাকড়কে আটকে ফেলতে সাহায্য করে।
কাঠঠোকরা গাছের গায়ে ঠোক্কর মেরে ছোট গর্ত তৈরি করে, তারপর সেই গর্তে জিভ ঢুকিয়ে পোকামাকড়, ডিম বা লার্ভা বের করে আনে।
এত জোরে গাছে ঠোকরালেও কাঠঠোকরার মাথা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। এর অন্যতম কারণ তার জিভ। হ্যাঁ, কাঠঠোকরার জিভ মাথার চারপাশ দিয়ে জড়ানো থাকে, অনেকটা হেলমেটের মতো।
জিভের অস্বাভাবিক দৈর্ঘ্য ও মোচড়ানোর গঠন প্রকৃতির জন্য একে প্রকৃতির বিস্ময় বলা হয়।
জিভের সাহায্যে গাছের গভীর থেকে খাবার তুলে আনা অন্য কোনো পাখির পক্ষে একেবারেই সম্ভব নয়।
জিভ মস্তিষ্ক রক্ষায়ও ভূমিকা রাখে।
কাঠঠোকরার জিভ শুধু তার খাদ্য সংগ্রহের হাতিয়ার নয়, বরং এটা তার টিকে থাকার, নিরাপত্তার, এবং প্রাকৃতিক অভিযোজনের এক আশ্চর্য উদাহরণ।
কাঠঠোকরার জিভ প্রাকৃতিক বিস্ময়।