)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান আদানির বিদ্যুৎ সংস্থা আদানি পাওয়ার জানিয়েছে, বাংলাদেশের সঙ্গে পাওয়ার সাপ্লাই সংক্রান্ত বকেয়া অর্থপ্রদানের বিষয়ে উদ্ভূত বিতর্ক সমাধানের জন্য তারা আন্তর্জাতিক সালিশি প্রক্রিয়া গ্রহণ করেছে।
সংস্থাটি ভারতের বিশাল ব্যবসায়ী গৌতম আদানি নেতৃত্বাধীন এবং ২০১৭ সালে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের সঙ্গে স্বাক্ষরিত বিদ্যুৎ চুক্তির আওতায় সরবরাহকৃত বিদ্যুতের বকেয়া অর্থ নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘ বিবাদ চলছে।
ঝাড়খণ্ডে আদানি গোষ্ঠীর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র থেকে সমগ্র বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। ২০১৭ সালের চুক্তি অনুসারে, ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে রফতানি করা হয় ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। কিন্তু গত অক্টোবরে এই সরবরাহের পরিমাণ অর্ধেকে নামিয়ে এনেছিল মুহাম্মদ ইউনূস পরিচালিত অন্তর্বর্তী সরকার। তাদের কাছে আদানিদের বিদ্যুতের খরচ বাবদ বকেয়া ছিল সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি। জুন মাসের মধ্যে ৩৭০০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা ছিল। বাংলাদেশ দিয়েছে ৩২০০ কোটি টাকা। জুন মাসে এখনও পর্যন্ত আরও ৫০০ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে।
আদানি গ্রুপের একজন মুখপাত্রের বক্তব্যে বলা হয়েছে, 'কিছু খরচের উপাদান গণনা ও বিলিংয়ের ক্ষেত্রে মতবিরোধ রয়েছে। তাই উভয় পক্ষই বিতর্ক সমাধান প্রক্রিয়া গ্রহণে সম্মত হয়েছে এবং তারা দ্রুত, সহজ ও পারস্পরিক উপকারী সমাধানের আশা করছে।'
তবে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এখনো আলোচনা চলমান। তিনি বলেন, 'এই প্রক্রিয়া শেষ হলে, প্রয়োজন হলে আমরা আন্তর্জাতিক সালিশির পথে যাব।'
২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর বাংলাদেশে আমদানি খরচ বেড়ে গিয়েছিল। আদানিদের বকেয়া মেটাতে তখন থেকেই সমস্যায় পড়ে ঢাকা। দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও অস্থিরতা চরমে পৌঁছেছিল। যার ফলশ্রুতিতে ২০২৪ সালের অগস্টে পড়ে যায় শেখ হাসিনার সরকার। এই পরিস্থিতিতে শীতকালে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকায় গত বছরের শেষ দিকে আদানিদের থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিমাণ অর্ধেক করার কথা জানিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার। সরবরাহ কমে যাওয়ায় নভেম্বর থেকে গোড্ডায় একটিই ইউনিট চালু রেখেছিল আদানি গোষ্ঠী। পরে চলতি বছরের মার্চ থেকে আবার সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা হয় বাংলাদেশে।
আদানি পাওয়ার ভারতের পূর্বাঞ্চলে ১,৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক গোড্ডা পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, যা বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় এক দশমাংশ পূরণ করে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকার আদানির বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিল, গোড্ডা প্ল্যান্টের জন্য ভারত থেকে পাওয়া কর সুবিধা বিরোধীভাবে স্থগিত রাখায় তারা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।
বাংলাদেশ গত অর্থবছরে আদানিকে প্রতি ইউনিট ১৪.৮৭ টাকা হারে বিদ্যুতের দাম পরিশোধ করেছে, যা অন্যান্য ভারতীয় কোম্পানির সরবরাহকৃত বিদ্যুতের গড় ৯.৫৭ টাকার চেয়ে বেশি।
গত সপ্তাহে আদানি পাওয়ার জানায়, বাংলাদেশের কাছ থেকে তাদের পাওনা এখন অনেক কমে এসেছে। মে মাসে যেখানে বকেয়া ছিল প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার এবং বছরের শুরুর দিকে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছিল, এখন তা কমে ১৫ দিনের ট্যারিফ সমপরিমাণে নেমে এসেছে।
সংস্থাটি সোমবার আবার জানায়, ‘আদানি পাওয়ার বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতি অটুট রাখবে এবং নির্ভরযোগ্য, প্রতিযোগিতামূলক ও উচ্চমানের বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে থাকবে।’
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর আদানিদের সঙ্গে পূর্বতন সরকারের বিদ্যুৎ সংক্রান্ত চুক্তি তদন্তের আওতায় আনা হয়। এই চুক্তি খতিয়ে দেখার জন্য উচ্চ পর্যায়ের কমিটিও গঠন করেছিলেন ইউনূস।