Sheikh Hasina Next Step: এবার কী করবেন হাসিনা? নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে ফের 'এসকেপ', অন্য দেশে অন্য কোনও খানে? আত্মসমর্পণ, না, লড়াই?

Sheikh Hasina Next Step: কোনো নির্দিষ্ট মামলায় বা রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে কী হতে পারে? মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে তাঁর সামনে কী কী আইনি বা রাজনৈতিক বিকল্প-- আপিল, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা, দেশত্যাগ-- থাকতে পারে।

সৌমিত্র সেন | Updated By: Nov 17, 2025, 07:46 PM IST
Sheikh Hasina Next Step: এবার কী করবেন হাসিনা? নিরাপদ আশ্রয় ছেড়ে ফের 'এসকেপ', অন্য দেশে অন্য কোনও খানে? আত্মসমর্পণ, না, লড়াই?

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: কোনো নির্দিষ্ট মামলায় বা রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে (Sheikh Hasina) মৃত্যুদণ্ড (capital punishment) দেওয়া হলে কী হতে পারে? মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে তাঁর সামনে কী কী আইনি বা রাজনৈতিক বিকল্প-- আপিল, রাষ্ট্রপতির ক্ষমা, দেশত্যাগ-- থাকতে পারে। এই পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার সম্ভাব্য কৌশল বা পদক্ষেপ কী হতে পারে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (International Crimes Tribunal) ঢাকায় শাস্তি পেলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু এর পরে কী হবে?

Add Zee News as a Preferred Source

আরও পড়ুন: India Sheikh Hasina: হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পরে ভারতের পদক্ষেপ কী হবে? কেন বার বার ইউনূসের দিক থেকে আসছে চাপ

মৃত্যুদণ্ডের সাজা

ঢাকায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করার পর ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর তাঁর মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করেছে। তিনি ২০২৪ সালে দেশব্যাপী ছাত্র আন্দোলনের সময় ঘটে যাওয়া সহিংসতার জন্য অভিযুক্ত, যার ফলে প্রায় ১৪০০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এই রায়ের পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, হাসিনা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন কি না, এবং তাঁর কাছে আর কী কী আইনি বিকল্প অবশিষ্ট রয়েছে।

৬০ দিনের মধ্যে

আইসিটি আইন, ১৯৭৩-এর ধারা ২১ অনুযায়ী, শেখ হাসিনার বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আপিল করার অধিকার রয়েছে। আপিলের সময়সীমা: রায়ের তারিখ থেকে ৬০ দিন। যদি ৬০ দিনের মধ্যে কোনো আপিল করা না হয়, তাহলে আইসিটি-র দেওয়া এই দণ্ডটি চূড়ান্ত এবং কার্যকর বলে গণ্য হবে।

ভারত কি সংকটে?

শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান তাঁর জন্য অসুবিধা বাড়াতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। ভারতে নির্বাসিত থাকাটা হাসিনার পক্ষে একটি সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। তবে তাঁর আইনজীবীরা আপিলের প্রস্তুতি নিতেই পারবেন। ভারতের কাছে শেখ হাসিনার আশ্রয় চাওয়া নিয়ে ভারত সরকার দ্বিধায় থাকতে পারে। কারণ তাঁকে স্থায়ী আশ্রয় দিলে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে অবনতি হতে পারে। 

আপিল

তবে, আপিল তৈরি করার কাজটি তাঁর আইনজীবীরা ভারত থেকেও করতে পারবেন। এর অর্থ হল, কেবলমাত্র আইনজীবীরা একা আপিল দাখিল করতে পারবেন না। যদি হাসিনা নিজে বাংলাদেশে উপস্থিত না হন, তবে সেই আপিলটি আইনত দাখিল হয়েছে বলে গণ্য হবে না। যদিও বিচারের সময় তাঁর উপস্থিতি বাধ্যতামূলক ছিল না, তবে আপিল শুরু করার সময় তাঁকে অবশ্যই হেফাজতে (custody) থাকতে হবে।

নতুন পথ?

সুতরাং, সংক্ষেপে ভারতে অবস্থানরত হাসিনার সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল, দেশে ফিরে এসে আত্মসমর্পণ করা অথবা ভারত থেকেই প্রত্যর্পিত (extradition) হওয়ার ঝুঁকি নেওয়া। কোনটির মধ্যে যাবেন তিনি? না কি, এর কোনওটিতেই যাবেন না, বেছে নেবেন সম্পূর্ণ অন্য কোনও পথ? সময়ই বলবে।

হাসিনার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ

হাসিনার বিরুদ্ধে প্রধান অভিযোগ, তিনি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে সরকারবিরোধী গণআন্দোলনের সময় ছাত্রযুবদের উপর পুলিসকে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। হেলিকপ্টার, ড্রোন এবং প্রাণঘাতী অস্ত্রপ্রয়োগ করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। দেড় হাজার মানুষকে হত্যার অভিযোগ তুলেছে রাষ্ট্রপক্ষ।হাসিনার প্রতি অভিযোগ, ক্ষমতায় থাকার জন্য সংগঠিত ভাবে হামলা চালানো হয়েছে। বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনের সময় কাকে ফোনে কী আদেশ দিয়েছিলেন হাসিনা, সামনে এসেছে সেটা। সেই ফোনালাপ পড়ে শুনিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ, হাসিনা নাকি হেলিকপ্টার, ড্রোন, মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। হেলিকপ্টার থেকে বোমাবর্ষণ করতে বলেছিলেন। হাসিনা বলেছিলেন, একটাকেও ছাড়ব না। রাজাকারদের ছাড়িনি। এদেরও ফাঁসি দিয়ে দেব! টেলিফোন বার্তায় শোনা গিয়েছে, রাজাকারদের মতো আন্দোলনকারীদেরও ফাঁসি দেওয়ার কথা বলছেন তিনি। একে 'অসম্মানজনক মন্তব্য' বলে উল্লেখ করা হয়। বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার, বিচারপতি মহম্মদ শফিউল আলম মাহমুদ এবং বিচারক মহম্মদ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর ট্রাইব্যুনাল ছিল এটি। এর জন্য ঢাকা জুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল রবিবার রাত থেকেই। বিক্ষিপ্ত ভাবে অশান্তি হচ্ছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

আরও পড়ুন: Sheikh Hasina Verdict: ফোনে কাকে কী বলছেন হাসিনা? গোপন সেই 'ডায়ালগ' পড়ে শোনাচ্ছেন বিচারপতি! হাসিনা বলছেন, 'কাউকে ছাড়ব না...'

ভারত কী বলছে?

রায় ঘোষণার পরে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক একটি বিবৃতি জারি করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় সম্পর্কে তারা অবহিত। বাংলাদেশে শান্তি গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতা রক্ষার্থে নিকট প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশের মানুষের পক্ষে যেটা সবচেয়ে উপযোগী সেটা করতেই দায়বদ্ধ ভারত। শেষ পর্যন্ত সব পক্ষের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বজায় থাকবে। 

(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের AppFacebookWhatsapp ChannelX (Twitter)YoutubeInstagram পেজ-চ্যানেল)

About the Author

Soumitra Sen

পেশায় দীর্ঘদিন। প্রিন্ট মিডিয়ায় শুরু। ওপিনিয়ন পেজ এবং ফিচারই সবচেয়ে পছন্দের। পাশাপাশি ভ্রমণসাহিত্য, সংগীত ও ছবির মতো চারুকলার জগৎও। অধুনা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সেসবের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অ্যাস্ট্রো, লাইফস্টাইল, পপুলার সায়েন্স ও ইতিহাস-অ্যানথ্রোপলজিক্যাল বিষয়পত্তরও। আদ্যন্ত কবিতামুগ্ধ. তবু বিভিন্ন ও বিচিত্র বিষয়ের লেখালেখিতে আগ্রহী। সংবাদের অসীম দুনিয়ায় উঁকি দিতে-দিতে যিনি তাই কখনও-সখনও বিশ্বাস করে ফেলেন-- 'সংবাদ মূলত কাব্য'!

...Read More

.