)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: খোদ ঢাকায় অজ্ঞাত পরিচিত হামলাকারীর গুলিতে খুন বিএনপি নেতা। তেজগাঁওয়ের তেজতুরি বাজার এলাকায় আজিজুর রহমান নামে ওই শ্রমিক নেতাকে বুধবার ভর সন্ধেয় গুলি করে হামলাকারীরা। আজিজুর বিএনপির শাখা সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা। তাঁর সঙ্গে থাকা সুফিয়ান নামে আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে সাধারণ নির্বাচন। ইতিমধ্যেই নির্বাচনী আচরণবিধি লাগু হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যেই হিংসা বেড়ে যাওয়ায় এই ঘটনাটি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর গত বুধবার স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টার দিকে আজিজুর রহমান, আবু সুফিয়ানসহ কয়েকজন স্টার কাবাবের গলিতে আড্ডা দিচ্ছিলেন। দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেলে এসে এলোপাতাড়ি গুলি করে পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পরপরই দুজনকে বিআরবি (BRB) হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে মোসাব্বিরকে পান্থপথ এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে সেখানে তিনি মারা যান। তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ফজলুল করিম স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, আজিজুরের পেটে গুলি লেগেছিল।
আজিজুরের হত্যাকাণ্ড গত কয়েক সপ্তাহের ধারাবাহিক হিংলারই অংশ। মাত্র কয়েক দিন আগেই পৃথক এক ঘটনায় এক যুবদল নেতাকে গুলি করা হয়েছিল। এছাড়া গত ১২ ডিসেম্বর ওসমান হাদী নামে পরিচিত এক ভারত-বিরোধী নেতাকেও গুলি করে হত্যা করা হয়।
নিরাপত্তা কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই সর্বশেষ হামলার পেছনে দায়িদের শনাক্ত করতে এবং তাদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে। তবে বুধবার সকাল পর্যন্ত এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, ভোটের আগে খুনোখুনি যেন থামছেই না বাংলাদেশে। বিশেষকরে চট্টোগ্রামের অবস্থা মারাত্মক। গত ১৬ মাসে খুন হয়েছেন ১৯ জন। তাঁদের মধ্যে ৮ জন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান (পদ স্থগিত) গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং একজন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খন্দকারের অনুসারী। এই দুই নেতাই চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসন থেকে বিএনপির প্রাথমিক মনোনয়ন পাওয়া। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আরও রক্ত ঝরার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর চট্টগ্রামের রাউজানে ক্ষমতা বিস্তারের লড়াইকে কেন্দ্র করে একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেই চলেছে। এতে ৪ জন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী নিহত হন। আর বিএনপি-যুবদলের নিহত হন ৯ জন। পুলিশ সূত্র বলছে, আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও মাটি-বালির ব্যবসাকে কেন্দ্র করে হানাহানির ঘটনা ঘটছে। এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত শতাধিক মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)