)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আর অন্য দেশ নয়, এবার খোদ নিজের দেশেই ঘোর প্রতিরোধের মুখে পড়লেন ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump)! সম্প্রতি ভারতের (India) উপর বিপুল শুল্ক চাপিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প(Donald Trump)! রাশিয়া থেকে তেল আর অস্ত্রশস্ত্র কেনার সাজা হিসেবেই তিনি ভারতের ঘাড়ে এই শুল্কবোঝা চাপিয়েছেন বলে তিনি নিজেই জানিয়েছেন। অন্য দেশের পণ্যেও রয়েছে এই শুল্কবোঝা। তবে, তা ভিন্ন-ভিন্ন। কেন? এবার এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল মার্কিন আদালতই (US court)। কী বলল তারা?
গোড়ায় গলদ
আদালতে করা এক মামলার সূত্রে মার্কিনি আদালত পরিষ্কার করে জানিয়ে দিল, মার্কিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে বিভিন্ন মানের শুল্ক বিভিন্ন দেশের উপর চাপিয়েছেন, তা ঠিক নয়। এই শুল্কনীতির জেরে আমেরিকার বিদেশনীতি নিয়েও তাহলে নতুন করে ভাবতে হবে কি? মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেভাবে বিভিন্ন দেশের উপরে শুল্ক চাপিয়েছেন, তাকে স্পষ্ট বেআইনি বলে দাগিয়ে দিল মার্কিন আপিল আদালত। তবে এখনই সেই শুল্ক বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে না। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সুপ্রিম কোর্টে এই শুল্ক নিয়ে লড়াই করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
আমেরিকার আপিল আদালতে
আমেরিকার আপিল আদালতের তরফে বলা হয়, বিভিন্ন দেশের উপরে শুল্ক চাপাতে ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার বা জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতার অতিরিক্ত ব্যবহার করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী অক্টোবরের ১৪ তারিখ পর্যন্ত সমস্ত দেশেই কার্যকর থাকবে মার্কিন শুল্ক। এই সময়ের মধ্যে ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে পারবেন। আর ট্রাম্প নিজেও জানিয়েছেন যে, শুল্ক-লড়াই লড়তে তিনি সুপ্রিম কোর্টে যাবেন।
যা-খুশি-তাই
শুল্ক নিয়ে ট্রাম্প আসলে নিজের মর্জিমতো যা-খুশি-তাই করে গিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনও দেশের উপরে ১২ শতাংশ, কোনও দেশের উপরে ৩১ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন। ভারতের উপরে ৫০ শতাংশ! কিন্তু, কেন এরকম? সেটা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছেই। এর পাশাপাশি ট্রাম্পের এই শুল্ক-স্বেচ্ছাচারিতাকে মান্যতা দিতে চাইছে না মার্কিন আদালতই। শুক্রবার (৩০ অগাস্ট) মার্কিন আপিল আদালত রায় দেয়, বিশ্ব বাণিজ্যের উপর প্রভাব ফেলেছে এমন অনেক শুল্কই বেআইনি। যদিও আপাতত সেগুলি বহাল রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। যার ফলে সুপ্রিম কোর্টে লড়াই করার জন্য সময়ও দেওয়া হয়েছে।
ট্রাম্পের জবাব
মার্কিন আদালতের এই রায়ে অবশ্য দমেননি ট্রাম্প! তিনি এর প্রতিক্রিয়া দিয়ে নিজের সোশ্যাল মাধ্যম প্লাটফর্মে লিখেছেন, সমস্ত ট্য়ারিফ কার্যকর রয়েছে! অনায্যভাবে আপিল আদালত আমাদের ট্যারিফ সরানোর কথা বলেছে, কিন্তু তারাও জানেন যে, শেষ পর্যন্ত আমেরিকাই জিতবে। যদি এই ট্যারিফ তুলে নেওয়া হয়, তবে দেশের পক্ষে তা এক মহা বিপর্যয়ের মতো অবস্থা হবে। এই সিদ্ধান্ত আমাদের আর্থিকভাবে অনেক দুর্বল করে দেবে। এর সঙ্গেই ট্রাম্প যোগ করেন, আমেরিকা বিপুল বাণিজ্যঘাটতি আর বরদাস্ত করবে না। অন্য দেশের চাপানো অনায্য শুল্ক সে মানবে না। বিনা শুল্কে বাণিজ্যের নিয়ম সে মানবে না। যদি তাদের সুযোগ দেওয়া হয়, তবে তা আমেরিকাকে ধ্বংস করে দেবে! তাঁর যুক্তি, আমেরিকার কর্মী, বিভিন্ন দেশীয় সংস্থা, যারা 'মেড ইন আমেরিকা' পণ্য তৈরি করে, তাদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য এই শুল্কই হল সব চেয়ে ভাল উপায়।
কেন শুল্ক চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প?
শুল্ক টাপানোর কথা ঘোষণা করে সোশ্যালে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছিলেন-- 'মনে রাখতে হবে, ভারত আমাদের বন্ধু হলেও আমাদের দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য খুবই কম। কারণ ওদের শুল্কহার খুব বেশি। তাছাড়াও, ওদের যুদ্ধাস্ত্রের অনেকটাই ওরা রাশিয়া থেকেই কেনে। রুশ শক্তিসম্পদের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ভারত এবং চিন। বিশেষ করে সেই সময়ে, যখন কি না সকলে বলছে, রাশিয়ার উচিত ইউক্রেনে গণহত্যা বন্ধ! যাই হোক, এসবের জন্যই ভারত এবার ২৫ শতাংশ শুল্ক দেবে। রাশিয়া থেকে তেল কেনার শাস্তিও পেতে হবে ভারতকে।' যদিও পরে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান ট্রাম্প। যার জেরে শুল্ক দাঁড়ায় ৫০ শতাংশ! বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন করতে আমেরিকার তরফে চূড়ান্ত সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল ১ আগস্ট। তবে নানা জটিলতায় আটকা পড়ে এখনও পর্যন্ত আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করা হয়ে ওঠেনি ভারতের। ঠিক এই পরিস্থিতিতেই ভারতের উপর শুল্ক চাপানো হবে কি না, জানতে চাওয়া হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পরিষ্কার বলে দেন-- 'হ্যাঁ এটা হতেই পারে'! পাশাপাশি ট্রাম্প জানান, 'ভারত আমাদের বন্ধু দেশ। তবে যে কোনও দেশের চেয়ে ভারত বেশি শুল্ক আরোপ করেছে। এটা চলতে পারে না। তাই ভারতের উপর এবার বেশি পরিমাণ শুল্ক চাপাবে আমেরিকা!'
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)