)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের (India) উপর বিপুল শুল্ক চাপিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump)! রাশিয়া থেকে তেল আর অস্ত্রশস্ত্র কেনার সাজা হিসেবেই তিনি ভারতের ঘাড়ে এই শুল্কবোঝা চাপিয়েছেন বলে নিজেই জানিয়েছেন। এদিকে এ নিয়ে ভারতেও যেমন, তেমনই সারা বিশ্বেও সাড়া পড়ে গিয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ে গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (GTRI) একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখান থেকে ভয় ধরানো নানা তথ্য পাওয়া যাচ্ছে!
৬০.২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য ক্ষতি
গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (GTRI)-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন প্রশাসন কর্তৃক ভারতের উপর ৫০% শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তটি বিশ্ব-অর্থনীতির পঞ্চম বৃহত্তম দেশ ভারতের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য রফতানি চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। এই অতিরিক্ত শুল্কটি ২৫ অগাস্ট ২০২৫ থেকে কার্যকর। মার্কিন মুলুকের এই পদক্ষেপের ফলে ভারত থেকে প্রায় ৬০.২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের মোট রফতানির প্রায় ৬৬%।
ক্ষতিগ্রস্ত প্রধান খাতগুলি হল:
পোশাক এবং বস্ত্র, রত্ন এবং অলঙ্কার, চিংড়ি এবং অন্যান্য সামুদ্রিক খাবার,
কার্পেট এবং আসবাবপত্র, জিডিপি বৃদ্ধিতে হ্রাস।
এই শুল্কের কারণে ভারতের রফতানি প্রায় ৭০% পর্যন্ত কমে যেতে পারে। এর ফলে, বড় আকারের কর্মসংস্থান হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অন্য দিকে, চিন, ভিয়েতনাম, মেক্সিকো এবং তুরস্কের মতো দেশগুলি এই পরিস্থিতিতে বাজার দখল করে লাভবান হতে পারে। জিটিআরআই-এর মতে, এই শুল্কের ফলে ভারতের ২০২৩-২৪ সালের জিডিপি বৃদ্ধি ০.৯ শতাংশ কমে যেতে পারে।
অন্যায্য এবং অযৌক্তিক
মার্কিন প্রশাসনের এই পদক্ষেপটি রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেল কেনার প্রতিক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে। তবে ভারত এই শুল্ক আরোপকে প্রথম থেকেই অন্যায্য এবং অযৌক্তিক বলে অভিহিত করে এসেছে এবং জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা তাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করেই চলবে।
৮৬.৫ বিলিয়ন ডলার
জিটিআরআই-এর (গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ) মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক আরোপ ভারতের অর্থনীতির পক্ষে বড় বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে। মার্কিনি এই পদক্ষেপের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের মোট রফতানির প্রায় ৬৬%, ব্যাহত হবে। যা প্রায় $৮৬.৫ বিলিয়নের সমান!
চ্যালেঞ্জ
এটা অবশ্যই চ্যালেঞ্জ ভারতের কাছে। এই পরিস্থিতি ভারতের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি বজায় রাখা এবং পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও শিল্পোন্নয়ন জারি রাখা কঠিন হবে। কঠিন হবে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা। এসবের প্রভাব সামলাতে কৌশলগত সমন্বয়সাধন জরুরি।
ট্রাম্পীয় ব্যাখ্যা
শুল্ক টাপানোর কথা ঘোষণা করে সোশ্যালে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছিলেন-- 'মনে রাখতে হবে, ভারত আমাদের বন্ধু হলেও আমাদের দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য খুবই কম। কারণ ওদের শুল্কহার খুব বেশি। তাছাড়াও, ওদের যুদ্ধাস্ত্রের অনেকটাই ওরা রাশিয়া থেকেই কেনে। রুশ শক্তিসম্পদের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ভারত এবং চিন। বিশেষ করে সেই সময়ে, যখন কি না সকলে বলছে, রাশিয়ার উচিত ইউক্রেনে গণহত্যা বন্ধ! যাই হোক, এসবের জন্যই ভারত এবার ২৫ শতাংশ শুল্ক দেবে। রাশিয়া থেকে তেল কেনার শাস্তিও পেতে হবে ভারতকে।' যদিও পরে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক চাপান ট্রাম্প। যার জেরে শুল্ক দাঁড়ায় ৫০ শতাংশ! বাণিজ্যচুক্তি সম্পন্ন করতে আমেরিকার তরফে চূড়ান্ত সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল ১ আগস্ট। তবে নানা জটিলতায় আটকা পড়ে এখনও পর্যন্ত আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করা হয়ে ওঠেনি ভারতের। ঠিক এই পরিস্থিতিতেই ভারতের উপর শুল্ক চাপানো হবে কি না, জানতে চাওয়া হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পরিষ্কার বলে দেন-- 'হ্যাঁ এটা হতেই পারে'! পাশাপাশি ট্রাম্প জানান, 'ভারত আমাদের বন্ধু দেশ। তবে যে কোনও দেশের চেয়ে ভারত বেশি শুল্ক আরোপ করেছে। এটা চলতে পারে না। তাই ভারতের উপর এবার বেশি পরিমাণ শুল্ক চাপাবে আমেরিকা!'
শুল্কচাপের মুখে মোদী
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অবশ্য ট্রাম্পের এই খেয়ালি আচরণের কাছে মাথা নত করেননি। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, তিনি মোটেই বিষয়টা নিয়ে আপস করবেন না। যেখানে কৃষকদের ঝুঁকি রয়েছে, ডেয়ারি ফার্মগুলির বিপদ রয়েছে, মৎস্যজীবীদের সংকটের আশঙ্কা রয়েছে, সেখানে আপস নয়। হয়তো এজন্য ভারতকে অনেক মূল্য চোকাতে হবে, কিন্তু আমি সেজন্য প্রস্তুত আছি।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)