)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: তাঁর নামে মামলা চলছে। তিনিই কিনা দেশ ছেড়ে চলে গেলেন নিরাপত্তার ফাঁক গলে! বুধবার রাতে বাংলাদেশ ছেড়েছেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। তিনি সম্ভবত থাইল্যান্ড গিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এনিয়ে শোরগোল শুরু হয়ে গিয়েছে বাংলাদেশে।
বিমানবন্দর সূত্রে খবর, ইমিগ্রেশনে কূটনৈতিক সুবিধার বিশেষ লাল পাসপোর্ট ব্যবহার করেন সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। শুধু তাই নয়, বিমানবন্দরে তিনি এসেছিলেন ছদ্মবেশে। তার পরনে ছিল লুঙ্গি ও গেঞ্জি এবং মুখে ছিল মাস্ক।
২০২০ সালের ২১ জানুয়ারি আবদুল হামিদের নামে ১০ বছর মেয়াদি কূটনৈতিক পাসপোর্ট ইস্যু করা হয়। ২০৩০ সালের পয়লা জানুয়ারি পর্যন্ত এর মেয়াদ রয়েছে। শেখ হাসিনা-সহ তার সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের লাল পাসপোর্ট ইতিমধ্যে বাতিল হলেও আবদুল হামিদের পাসপোর্ট বাতিল হয়নি। আবদুল হামিদের লাল পাসপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। রবিবার সমাবেশে তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ফ্যাসিবাদের প্রতিনিধি। কিন্তু তার লাল পাসপোর্ট বাতিল করা হয়নি। সরকারের শক্তিশালী উপদেষ্টারা থাকা সত্ত্বেও কিভাবে পালালেন আবদুল হামিদ?
বিমানবন্দর সূত্রে খবর, জনরোষ এড়াতেই আবদুল হামিদ বিমানবন্দরে যান অনেকটা ছদ্মবেশে। পাসপোর্ট দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতিরা আমৃত্যু বিচারপতির পদমর্যাদা ভোগ করে থাকেন। এ ছাড়া বর্তমান আইনেও সাবেক রাষ্ট্রপতিদের ব্যবহৃত পাসপোর্ট সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা নেই।
বুধবার মাঝরাতে লুঙ্গি, গেঞ্জি ও মুখে মাস্ক পরে শাহজালালের ভিআইপি টার্মিনালে হাজির হন আবদুল হামিদ। এরপর কঠোর গোপনীয়তায় তাকে বিমানবন্দরের ভেতরে ঢোকানো হয়। একপর্যায়ে সব ধরনের নিরাপত্তা তল্লাশি এড়িয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাকে নির্বিঘ্নে বিমানে তুলে দেন। বুধবার রাত ৩টা ৫ মিনিটে থাই এয়ারওয়েজের এক ফ্লাইটে ব্যাঙ্ককের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন আবদুল হামিদ। সেখানে যাওয়ার পর ইমিগ্রেশনে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে দেশ ছাড়ার সবুজ সংকেত পান তিনি।
সূত্রের খবর, আবদুল হামিদের সুবিধার জন্য তাকে বহনকারী থাই এয়ারওয়েজের বিমানটিকে ভিআইপি টার্মিনালের কাছাকাছি আনা হয়। এরপর বিমান ছাড়ার ঠিক আগ মুহূর্তে বিশেষ গাড়িতে করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় বিমানবন্দরের ১২ নম্বর আউট-বে এলাকায়। আবদুল হামিদ বিমানে ওঠার বেশ কিছুক্ষণ পর সফরসঙ্গী ছেলে রিয়াদ আহমেদ এবং শ্যালক ডাক্তার এনএম নওশাদ খান বিমানে ওঠার অনুমতি পান।
এদিকে, আবদুল হামিদের দেশত্যাগে কারা জড়িত, তা জানতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার। তিন দিনের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে কমিটিকে। তদন্তে যারা দায়ী প্রমাণিত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)