)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নেপালে (Nepal Unrest) সম্প্রতি বিক্ষোভের আঁচ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। নেপালের তরুণ প্রজন্ম, যারা 'জেনারেশন জেড (Gen Z)' বা 'জেন-জি' নামে পরিচিত। এই আন্দোলন অনলাইন থেকে শুরু হয়ে এখন রাজপথে এসে পড়েছে। এই বিক্ষোভ ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। বিক্ষোভের প্রধান কারণগুলো হলো:
১. সরকারের দুর্নীতি,
২.দুর্বল শাসন ব্যবস্থা এবং
৩. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ওপর সরকারের হঠাৎ নিষেধাজ্ঞা।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট:
এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে নেপালের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দ্রুত পরিবর্তন এসেছে। বিক্ষোভকারীদের তীব্র চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি (K P Sharma Oli) পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন এবং প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পাউডেলও পদত্যাগ করেছেন। এই বিক্ষোভে ১৯ জনের বেশি মানুষ নিহত এবং শত শত আহত হয়েছেন।
Zen G-এর দাবি:
নেপালের তরুণ প্রজন্ম মূলত সরকারের দুর্নীতি, দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা এবং বেকারত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করছে। তাদের মতে, রাজনৈতিক নেতাদের সন্তানরা (তথাকথিত 'নেপো কিডস') বিলাসবহুল জীবনযাপন করছে, অথচ বেশিরভাগ তরুণ কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর নেপালে বেকারত্বের হার ছিল প্রায় ২০%, এবং প্রতিদিন ২০০০-এর বেশি তরুণ কাজের খোঁজে দেশের বাইরে চলে যাচ্ছে।
আন্দোলনের লক্ষ্য:
এই আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এটি রাজনীতিবিদদের ব্যক্তিগত জীবনকেও প্রভাবিত করেছে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবা এবং তার স্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরজু রানা দেউবা বিক্ষোভকারীদের আক্রমণের শিকার হয়েছেন।
রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের টার্গেট:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োতে দেখা যায়, বিক্ষোভকারীরা তাদের বাড়িতে ঢুকে হামলা চালায়। আরজু রানা দেউবাকে বাড়ি থেকে টেনে বের করে আনা হয় এবং মারধর করা হয়। এক ভাইরাল ভিডিয়োতে দেখা গেছে, তাকে মারধর করা হচ্ছে এবং তিনি চিৎকার করে বলছেন যে তারা (বিক্ষোভকারীরা) তার ভবিষ্যত চুরি করেছে। অন্য একটি ভিডিওতে আহত অবস্থায় শের বাহাদুর দেউবাকে দেখা গেছে, যাকে নিরাপত্তারক্ষীরা ঘিরে রেখেছেন।
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রীকে হত্যা:
এছাড়াও, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ঝালা নাথ খানালের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে তার স্ত্রী রাজলক্ষ্মী চিত্রকর আটকা পড়ে গুরুতর আহত হয়েছিলেন এবং পরে মারা যান। বিক্ষোভকারীরা অর্থমন্ত্রী বিষ্ণু প্রসাদ পাউডেলকেও তাড়া করে এবং তাকে মারধর করে।
নেপালের বিক্ষোভের সূত্রপাত:
সরকার প্রথমে ২৬টিরও বেশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম (যেমন: ফেসবুক, এক্স, ইউটিউব) বন্ধ করে দিয়েছিল, কারণ তারা সরকারের নিয়ম মেনে নিবন্ধন করেনি। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞা জনগণের, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভের আগুনকে আরও বাড়িয়ে দেয়। বিক্ষোভকারীরা 'কেপি চোর, দেশ ছোড়' (কেপি চোর, দেশ ছাড়) স্লোগান দিতে থাকে। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে, পুলিস গুলি চালাতে বাধ্য হয়।
উপসংহার:
এই আন্দোলন নেপালের রাজনীতিতে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সামরিক বাহিনী এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জনগণকে সংযম এবং আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। তবে, এই আন্দোলন প্রমাণ করেছে যে নেপালের তরুণ প্রজন্ম দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ এবং হতাশার বিরুদ্ধে সোচ্চার। তারা তাদের ডিজিটাল স্বাধীনতা এবং একটি দুর্নীতিমুক্ত সমাজ চায়।