)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: শুল্কগুঁতোর পরে এবার ভিসা-বোমা! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রীতিমতো ব্যতিব্যস্ত করে তুলেছেন ভারতীয়দের। এইচ-ওয়ানবি ভিসা (The H-1B visa programme) এখন মার্কিন দেশে বসবাস করা ফরেন প্রফেশনালদের জন্য ট্রাম্পের তুরুপের তাস (highly skilled foreign professionals)। প্রযুক্তি, ইঞ্জিনিয়ারিং এবং গবেষণা (technology, engineering, research) ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় মস্তিষ্ক কাজ করে আসছে মার্কিন মুলুকে। কিন্তু ১৯ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রশাসন (US administration) এক নাটকীয় পদক্ষেপে এইচওয়ান বি ভিসার ক্ষেত্রে কোটি টাকা মূল্য ধার্য করার কথা ঘোষণা করেছে। এটা নিয়ে সব থেকে চিন্তায় পড়েছে ভারতই। কী হবে মার্কিন মুলুকে কর্মরত তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রের লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি কর্মীর?
H1B ভিসা
এই আকস্মিক পরিবর্তনটি ভারত এবং অন্যান্য দেশের প্রযুক্তি পেশাদারদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই ফি বৃদ্ধির ফলে ভারতীয় তথ্য-প্রযুক্তি (IT) শিল্প এবং সেখানে কর্মরত পেশাদাররা ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে। অনেক সংস্থা এবং অভিবাসন বিষয়ক আইনজীবী এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। H1B ভিসার নতুন নিয়মের ঘোষণাপত্রে বলা হচ্ছে, H1B ভিসা পেতে নতুন আবেদনকারীদের অতিরিক্ত 100,000 টাকা ফি দিতে হবে। এই পরিবর্তনটি আজ ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হয়েছে। এটি প্রাথমিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা নতুন H1B ভিসা আবেদনকারীদের জন্যই প্রযোজ্য।
আমেরিকার দিক থেকে এই নতুন নিয়মটির মূল লক্ষ্য:
আমেরিকান শ্রমিকদের চাকরি রক্ষা করা।
আমেরিকানদের জায়গায় কম বেতনের বিদেশি শ্রমিকদের দিয়ে কাজ চালাবার যে অভিযোগ, তা প্রতিরোধ করা
উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন এবং উচ্চ বেতনের কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া
কিন্তু এ তো গেল মার্কিনি লক্ষ্য। আমরা সেটা জানতে তত আগ্রহী নই। আমরা এতে ভারতীয়দের স্বার্থ কীভাবে ক্ষুণ্ণ হল সেটাই জানতে চাই। তাহলে আসুন, একটু খুঁটিয়ে বিষয়টির তত্ত্ব-তালাশ করা যাক। প্রথম থেকেই শুরু করা যাক:
কী এই H-1B ভিসা?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম বিভাগ অনুযায়ী, H-1B ভিসা কর্মসূচি আমেরিকান নিয়োগকর্তাদের সেই-সেই পেশাক্ষেত্রের জন্যই বিদেশি কর্মীদের নিয়োগের অনুমতি দেয়, মূলত যেগুলির জন্য উচ্চস্তরের দক্ষতা এবং কমপক্ষে একটি স্নাতক ডিগ্রি প্রয়োজন। ১৯৯০ সালের অভিবাসন আইন (Immigration Act of 1990) অনুযায়ী এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল, এমন নিয়োগকর্তাদের সাহায্য করা, যাঁরা আমেরিকানদের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় দক্ষ শ্রমিক পাচ্ছেন না! এর মাধ্যমে যোগ্য বিদেশি পেশাদারদের সাময়িকভাবে নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়।
কারা পান H-1B ভিসা?
H-1B কর্মসূচিটি মূলত প্রযুক্তি, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা এবং অন্যান্য বিশেষায়িত (স্পেশালাইজড) ক্ষেত্রে কর্মরত অত্যন্ত দক্ষ বিদেশি পেশাদারদের জন্য তৈরি।
এতে ভারত কী ভাবে যুক্ত?
এই ভিসার সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী শ্রেণি হল ভারতীয় নাগরিকেরা। ২০১৫ সাল থেকে প্রতি বছর অনুমোদিত H-1B আবেদনের ৭০% এরও বেশি পেয়েছেন ভারতীয় নাগরিকেরা! ভাবা যায়! এর পরে আছেন চিনা নাগরিকেরা। তাঁরা এক্ষেত্রে দ্বিতীয় বৃহত্তম গোষ্ঠী, যাঁরা অনুমোদিত আবেদনের প্রায় ১১% পান।
H-1B কর্মসূচিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তন কী?
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে মার্কিন প্রশাসন H-1B কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, বার্ষিক ভিসা ফি ১,০০,০০০ মার্কিন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা) পর্যন্ত বৃদ্ধি করা। এই নতুন ফি প্রাথমিকভাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা নতুন H-1B কর্মীদের প্রভাবিত করবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরিত একটি ঘোষণাপত্র অনুযায়ী, ২১ সেপ্টেম্বর থেকে H-1B কর্মীদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হবে, যদি না তাঁদের নিয়োগকর্তা ১,০০,০০০ মার্কিন ডলারের এই ফি পরিশোধ করেন। এই শর্ত এবং প্রবেশ-নিষেধাজ্ঞা ২১ সেপ্টেম্বর, রাত ১২:০১-এর পর থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশকারী যেকোনো H-1B কর্মীর জন্য প্রযোজ্য হবে, যার মধ্যে নতুন ভিসা আবেদন, মুলতুবি থাকা আবেদন, এবং ভবিষ্যতে দাখিল করা আবেদনগুলিও অন্তর্ভুক্ত।
তাহলে সংক্ষেপে কী দাঁড়াল? আসুন, এবার একেবারে জলের মতো সহজ করে সংক্ষেপে পয়েন্ট করে-করে বিষয়টি আর একবার ঝালিয়ে নেওয়া যাক:
কবে থেকে কার্যকর?
২১ সেপ্ট ২০১৫ থেকে।
কতদিন লাগু নিয়ম?
আপাতত আগামী ১২ মাস।
সকলের জন্য কার্যকর?
না। যাঁরা এখন মার্কিন মুলুকের বাইরে আছেন, শুধুমাত্র তাঁদের ফ্রেশ বা রিনিউয়াল অ্যাপ্লিকেশনের উপরে এটি প্রযোজ্য।
এটা কি বার্ষিক খরচ?
আপাতত ওয়ানটাইম এক্সপেন্স। পরবর্তী বছরগুলিতেও লাগবে কি না, তা বলা যাবে ১২ মাস পরের রিভিউ-র পরে।
এই নিয়মই কি এবার বরাবরের জন্য বহাল রইল?
সেটাও বলা যাচ্ছে না। কেননা, ১২ মাস পরের রিভিউ আছে। তা ছাড়া, এ নিয়ে মার্কিন আদালতে মামলা হয়েছে। মামলার পরে জানা যাবে, পাকাপাকি ভাবে এ বিষে কী হল।
ভিসার ক্যাটেগরি কি বদলানো যাবে?
না, ট্রাম্প প্রশাসন পরিষ্কার করে বলে দিয়েছে, ক্যাটেগরি চেঞ্জ করা যাবে না। এর অর্থ, এখন যদি কেউ এটা থেকে বাঁচতে অন্য ভিসা ক্যাটেগরি মানে, এইচ ওয়ান বি ভিসা থেকে বিজনেস বা ট্যুরিস্ট ভিসায় চলে আসেন, সেটা হবে না। অর্থাৎ, বদল হবে না।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)