)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: গাজায় আটক সব ইসরায়েলি পণবন্দিদের ছেড়ে দিতে রাজি হামাস। শুক্রবার সংগঠনের তরফে সংবাদমাধ্যমে জানানো হয়েছে, দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলেই ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হামাসের ওই সিদ্ধান্তের পরই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ইসরায়েলকে বলেছেন, এক্ষুনি গাজায় বোমবর্ষণ বন্ধ করুন।
হামাসের ওই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর মুখ খুলেছেন ইসারায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতেনিয়াহুও। তাঁর অফিস থেকে বলা হয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা প্ল্যান অনুয়ায়ী কাজ করতে চাইছি।
উল্লেখ্য়, শুক্রবারই গাজা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ২০ দফা সমাধানে সাড়া দেয় হামাস। গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা নিয়ে হামাসকে রবিবার পর্যন্ত সময় দেন ট্রাম্প। তা নইলে বড় পরিণতির হুমিক দিয়েছিলেন। ট্রাম্প বহুদিন থেকেই দাবি করে আসছেন যে তিনিই একমাত্র গাজার দু বছরের লড়াই থামাতে পারেন। এরক জন্য শেষপর্যন্ত প্রবল চাপ সৃষ্টি করেন হামাসের পাশাপাশি ইসরায়েলের উপরেও।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় হামলা শুরু করে ইসরায়েল। হামাসের হাতে আটর ২৫১ পণবন্দির মধ্যে এনেকেই ফেরাতে পেরেছে ইসরায়েল। তবে এখনও ৪০ জন হামাসের হাতে বন্দি। তবে তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের। ইসরায়েলের হানায় এখনওপর্য়ন্ত ৬৬০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে গাজায়। অধিকাংশ ঘর মাটির সঙ্গে মিশে গিয়েছে ইসরায়েলি বোমায়। খাবার নেই, জল নেই, নরকের অবস্থা গাজার।
গাজার পরিস্থিতি থামানো সম্পর্কে সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্প লেখেন, ইসরায়েলের উচিত এক্ষুনি গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করা। এর ফলে সেখানে বন্দি ইসরায়েলিদের আমরা নিরাপদে বের করে আনতে পারব। এটা শুধু গাজার বিষয় নয় বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘমেয়াদী শান্তির বিষয়।
হামাস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওই প্রস্তাবে বন্দিবিনিময় প্রক্রিয়া মেনে জীবিত ও মৃত সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে রাজি আছে হামাস। তবে বন্দিবিনিময়ের জন্য শর্ত মানতে হবে।
হামাসের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, এই পরিস্থিতিতে বিস্তারিত আলোচনার জন্য মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে অবিলম্বে টেবিলে ফিরতে প্রস্তুত আছে হামাস। তারা গাজা উপত্যকার শাসনভার একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি সংস্থার (টেকনোক্র্যাট) কাছে হস্তান্তর করতে চায়। এই সংস্থা ফিলিস্তিনি জাতীয় ঐকমত্য এবং আরব ও ইসলামি বিশ্বের সমর্থনের ভিত্তিতে গঠিত হবে।
হামাস স্পষ্ট করে দিয়েছে, ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনার পুরোটায় তাদের সম্মতি নেই। আংশিক সম্মতি রয়েছে। বেশ কয়েকটি দফা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল গাজাকে সেনামুক্ত করা। হামাস কর্মকর্তা মুসা আবু মারজুক আল–জাজিরাকে বলেন, ইসরায়েলি দখলদারত্ব পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা (গাজায়) নিরস্ত্রীকরণ করবে না।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)