)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বাড়ছে উদ্বেগ। সব কিছু উজাড় করে দিয়ে গ্রাম ছাড়ছেন বাসিন্দারা। জনমানসশূন্য হয়ে যাচ্ছে একের পর এক এলাকা। এই ছবি বাংলাদেশের। সেখানে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় মাথা চাড়া দিয়েছে মৌলবাদ। যার বলি সাধারণ মানুষেরা। পরপর দু’দিন ধরে কমপক্ষে ১৪টি বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে মৌলবাদীরা। অত্য়াচারে ঘরছাড়া হয়েছেন কত হিন্দু, এমনটাই অভিযোগ।
অভিযোগ:
ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের আলদাদপুর বালাপাড়া গ্রামে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলার দুই দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো মামলা হয়নি, এ ঘটনায় কোনও আটক বা গ্রেফতার নেই। শনিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত দফায় দফায় হামলার পর মঙ্গলবার এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি সত্বেও মানুষজনের মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আতঙ্কের বাংলাদেশ:
ফের হামলা হতে পারে এমন আশঙ্কার কথা বলেছেন লোকজন। কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভও প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। যদিও উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা রয়েছে। এমন কোনো আশঙ্কা নেই।
টার্গেট হিন্দু:
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেছে বেছে এই হিন্দুদের বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে মৌলবাদীরা। ছাড়ছে মহিলা-শিশুদের। ভেঙে ফেলা হচ্ছে ঘর-বাড়ি। চলছে লুঠপাট।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো বেগ পেতে হয়েছে পুলিশ-প্রশাসনকে। শনিবার রাতে উত্তেজনা খবর ছড়িয়ে পড়ে। যা চলে টানা রবিবার পর্যন্ত। অবশেষে সেদিন বিকাল চারটা নাগাদ ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সেনা। যার জেরে প্রশ্ন উঠছে একটা গ্রাম অশান্তিতে ছারখার হয়েছে, তারপরেও সেনা পৌঁছতে কেন এত দেরি হল? প্রশ্ন উঠছে, কেনই বা এই অশান্তি, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটল?
সাম্প্রদায়িক ইন্ধন:
একদিকে যেমন মৌলবাদী ও ধর্মের ভিত্তিতে হামলার অভিযোগ তুলেছে একাংশ। অন্যদিকে, আর এক অংশের দাবি, এতে সাম্প্রদায়িক ইন্ধন রয়েছে। ওই গ্রামেরই এক কিশোরের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। শনিবার রাতে সেই উত্তেজনার বশেই গঙ্গাচড়ায় ওই গ্রামে ঢুকে পরপর ১৪টি ঘর-বাড়ি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় দুষ্কৃতীরা। ইতিমধ্য়েই সেই নাবালককে আটক করেছে পুলিস। রবিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে সম্মিলিত শিশু পুনর্বাসনকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে তাকে।
বাড়ি ছাড়া অসহায় মানুষ:
হামলার পর থেকেই অনেক পরিবারের লোকজনই বাড়িঘর ছেড়ে যায়। মঙ্গলবার সকালে অনেককে বাড়িঘরে ফিরতে দেখা গেছে। তারা বাড়িঘর মেরামতের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মামলা করার ব্যাপারে তারা কোনো মন্তব্য করতে চাননি। মামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে গঙ্গাচড়া মডেল থানার ওসি আল এমরান বলেন, 'আমরা পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তারা একটি অভিযোগ দেবে। অভিযোগ পেলেই মামলা নথিভুক্ত করা হবে।
কারা হামলা করেছে, তাদের শনাক্ত করা গেছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, 'পাশের উপজেলার (নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা) লোকজন এসে হামলা করেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। ফলে আমরা তাদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছি। যারা দায়ী, তাদেরই মামলার আসামি করা হবে।'
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত:
হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে বাড়িঘর মেরামতের জন্য টিন, বাঁশ-কাঠ, মিস্ত্রি দিয়ে সহায়তা দিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। সকাল থেকেই সেই কাজের তদারকির জন্য ঘটনাস্থলে ছিলেন গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান মৃধা।
তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, 'মামলার বিষয়টি পুলিশ প্রশাসন দেখছে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এটি নিয়ে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছে। আমরা তাদের সব ধরনের সহায়তা করছি।'
ধর্ম অবমাননার অভিযোগ এনে শনিবার গ্রামের এক কিশোর শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই কিশোরকে থানায় নেওয়ার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেদিন সন্ধ্যায় পাশের এলাকা থেকে শতাধিক লোক লাঠিসোঁটা নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে ছেলেটির গ্রামে প্রবেশ করে। তারা বাড়িঘরে হামলা চালায়।
ভিডিয়ো-
https://x.com/Zee24Ghanta/status/1950189020559884537
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)