)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ক্যালিফোর্নিয়ার (California) বাসিন্দা এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবক মার্কিন (Indian Origin US young man) এক নাগরিককে কুপিয়ে (Murder by stabbing) খুন করেছে। অভিযুক্ত যুবক জানিয়েছে, সে বছরখানেক ধরে একজন যৌন হেনস্তায় (Sexual Harrasment) অভিযুক্তকে খুনে জন্য অপেক্ষা করছিল। ২৯ বছরের ভারতীয় বংশোদ্ভূত ওই যুবকের ক্যালিফোর্নিয়ার ফ্রেমন্ট-এ সে ৭১ বছর বয়সি ডেভিড ব্রিমারকে (David Brimmer) ছুরি দিয়ে একের পর এক আঘাত করে খুন করেছে বলে নিজেই স্বীকার করেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বরুণ সুরেশ (Varun Suresh) নামে ওই ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবক এক রেজিস্টার্ড যৌন অপরাধীকে (sex offender) হত্যার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিসের কাছে অভিযুক্ত যুবক দাবি করেছেন যে, তিনি যৌন অপরাধীদের সরকারি ডেটাবেসে ওই ব্যক্তির নাম খুঁজে পাওয়ার পরেই এই সিদ্ধান্ত নেন এবং তার মতে, ওই ব্যক্তির 'মৃত্যুই প্রাপ্য ছিল'।
আত্মসমর্পণ ও অনুশোচনা:
ঘটনার পর বরুণ সুরেশ নিজেই পুলিসের কাছে আত্মসমর্পণ করেন বলে জানা গেছে। জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি তার কাজের জন্য কোনো রকম অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। বরং তিনি তদন্তকারীদের জানান যে, সমাজে এই ধরনের অপরাধীদের বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই এবং তিনি যা করেছেন তা ন্যায়বিচার বলে মনে করেন।
অভিযুক্তের বক্তব্য:
অভিযুক্ত জানিয়েছে, ব্রিমারের উপর আলাদা করে কোনও রাগ তার ছিল না। কিন্তু, সে চাইছিল একজন যৌন হেনস্তায় অভিযুক্তকে খুন করে মজা পেতে। উল্লেখ্য, পুলিস ঘটনাস্থল থেকেই সুরেশকে গ্রেফতার করে, ছুরিটিও উদ্ধার করা হয়েছে। ব্রিমারের বিরুদ্ধে শিশুকে যৌন হেনস্থার অভিযোগ ছিল। তাই তাকে অসংখ্যবার ছুরি মারে সুরেশ। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি ব্রিমারকে।
পুলিসকে সুরেশ বলেছে, তার অনেকদিন ধরে সুপ্ত বাসনা ছিল যে, সে একনজ যৌন হেনস্থাকারীকে খুন করবে। তার যুক্তি, এরা শিশুকে কষ্ট দিয়েছে এবং তাদের বাঁচার কোনও অধিকার নেই। তদন্তে জানা গিয়েছে, সুরেশ ক্যালিফোর্নিয়ার মেগানস ল ডেটাবেস থেকে ব্রিমারকে চিহ্নিত করে এবং তার তথ্যতালাশ করে। ১৯৯৫ সালে শিশু যৌন হেনস্তার অপরাধে ব্রিমারের ৯ বছর কারাবাস হয়েছিল। পুলিস আরও জানিয়েছে, সুরেশ ও ব্রিমারের মধ্যে আগের কোনও শত্রুতা বা পরিচিতি ছিল না।
খুনের দিনের বর্ণনা:
খুনের দিন সুরেশ ব্যাগে ছুরি নিয়ে একজন সার্টিফায়েড পাবলিক অ্যাকাউন্ট্যান্টের বেশে দরজায় দরজায় কাজ খোঁজার ছদ্মবেশে বেরোয়। তার কাছে ছিল অফিস ব্যাগ, নোটবুক। ডেভিড ব্রিমারের বাড়ি পৌঁছে সে তার পরিচয় দেয়। সৌজন্য বিনিময়ের জন্য করমর্দন করে এবং বলে, আমি জানি আমি ঠিক মানুষটির কাছেই এসেছি।
তা শুনেই ব্রিমার ছুটে পালানোর চেষ্টা করেন। কয়েকটি বাড়ি টপকে একটি গ্যারাজে লুকিয়ে পড়ার চেষ্টা করেও। কিন্তু সুরেশ তাঁকে ধাওয়া করে ছুরি মারে। ব্রিমার চিৎকার করার চেষ্টা করলে তাঁর নলি কেটে দেয় সুরেশ। সুরেশের ফোন থেকে ব্রিমারের বেশ কয়েকটি ছবি মিলেছে, যেগুলি ল ওয়েবসাইটে আপলোড করা ছিল। ধরা পড়ার পর সুরেশ পুলিসকে জানিয়েছে, ব্রিমারকে সে বেছে নিয়েছিল তাঁর বয়সের কথা ভেবে। এমনকী ব্রিমারকে খুন করে সে নির্ভেজাল আনন্দ পেয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিসকে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আইন:
এই ঘটনাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার বিতর্ককে নতুন করে উস্কে দিয়েছে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সুরেশের উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, মার্কিন আইন অনুযায়ী এটি একটি গুরুতর হত্যাকাণ্ড। সরকারি ডেটাবেস তৈরির উদ্দেশ্য হলো জনগণকে সচেতন করা এবং সম্ভাব্য বিপদ থেকে দূরে রাখা, ব্যক্তিগতভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়া নয়।
বর্তমানে বরুণ সুরেশকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে ফার্স্ট-ডিগ্রি মার্ডারের (first-degree murder) অভিযোগ আনা হয়েছে। দোষী সাব্যস্ত হলে তার কঠোর শাস্তি হতে পারে। এই ঘটনাটি স্থানীয় ভারতীয় কমিউনিটিতেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)