)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বহুতল থেকে পড়ে মৃত্যু অনলাইন ইনফ্লুয়েন্সারের (Death of Online Influencer)! মর্মান্তিক! ঘটনাটি অবশ্য ভারতের নয়, লাতিন আমেরিকার। লাতিন আমেরিকার ব্রাজিলের সাও পাওলোর (Sao Paulo) এক বহুতলের ১০ তলার ব্যালকনি থেকে পড়ে মৃত্যু ঘটে ২৫ বছর বয়সী এই ব্রাজিলীয় অনলাইন ইনফ্লুয়েন্সারের। হতভাগ্য তরুণীর নাম মারিয়া কাতিয়ানে গোমেজ দা সিলভা (Maria Katiane Gomes da Silva)।
ঝগড়ার পরে আত্মহত্যা?
মারিয়া কাতিয়ানে গোমেজ দা সিলভা ইনস্টাগ্রামে ইনফ্লুয়েন্সার ছিলেন। আগের মাসে ২৯ নভেম্বর মারিয়ার অ্যাপার্টমেন্টের নীচে তাঁকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাঁর স্বামীর নাম অ্যালেক্স লিয়েনড্রো বিস্পো দস স্যান্টোস। তাঁর বয়স চল্লিশের মতো। ছবিতে দেখা যায়, অ্যাপার্টমেন্টের নীচের মেঝেতে স্ত্রী মারিয়ার দেহ ধরে বসে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। তিনি পুলিসকে জানান, তাঁদের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল। আর ঝগড়ার পরে তাঁর স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন।
সন্দেহ! হত্যার অভিযোগ?
না, পুলিস অবশ্য বিষয়টিকে ঠিক এভাবে বিশ্বাস করেনি। তারা শুরু থেকেই বিষয়টিকে সন্দেহজনক ভাবেই দেখছিল। তাছাড়া তদন্তকারী পুলিস স্যান্টোসের বক্তব্যে অসংগতি খুঁজে পায়। এর ১০ দিন পরে ৯ ডিসেম্বর তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়।
আসলে কী ঘটেছিল?
জানা যায়, ঘটনার দিন ওই বাড়ির বাইরে বিকট শব্দ শোনা গিয়েছিল। তার কিছুক্ষণ আগে প্রতিবেশীরা অবশ্য মারিয়া-স্যান্টাসের অ্যাপার্টমেন্ট থেকে ওঁদের চিৎকার-চেঁচামেচিও শুনতে পেয়েছিলেন। পরে তদন্ত শুরু করে পুলিস আবিষ্কার করে স্যান্টাস মারিয়াকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছনা করে। অভিশপ্ত অ্যাপার্টমেন্টের ভেতরের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে পুলিস। ভিডিয়োতে দেখা যায়, ঘটনার দিন সকালেই বাড়িটির পার্কিং গ্যারাজে স্যান্টোস তাঁর স্ত্রীকে লাঞ্ছিত করছেন। আরেকটি ভিডিয়ো ফুটেজে দেখা যায়, লিফটের ভেতরে তাঁরা তুমুল ঝগড়া করছেন! ছবিতে দেখা যায়, স্যান্টাস মারিয়ার ঘাড় ধরে জোর করে লিফট থেকে টেনে বের করে দিতে চেষ্টা করছেন! এর কিছুক্ষণ পরেই তাঁকে লিফটে একা ফিরে আসতে দেখা যায়।
একটি স্বপ্নের মৃত্যু
মারিয়া ইনস্টাগ্রামে খুবই সক্রিয় ছিলেন। তিনি ভ্রমণ, রূপচর্চা এবং দৈনন্দিন জীবনের নানা ঘটনা-মুহূর্ত ইত্যাদি শেয়ার করতেন ইনস্টাগ্রামে। প্রসঙ্গত, গত ৮ নভেম্বর মারিয়া তাঁর শেষ পোস্টটি করেছিলেন। ইনস্টাগ্রামে তাঁর প্রায় সাড়ে ছ'হাজার ফলোয়ার। মারিয়া কাতিয়ানে গোমেজ দা সিলভা ব্রাজিলের ক্রাটেউসের এক গ্রামাঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন। উন্নত জীবনযাপনের স্বপ্ন ও আশা নিয়ে তিনি সাও পাওলোতে আসেন। এর আগে তিনি একটি রেস্তোরাঁ ও সুপারমার্কেটে কাজ করতেন। আর সেখানেই তাঁর সঙ্গে স্যান্টোসের পরিচয়। পরে, তা থেকে তাঁদের বিয়ে। কিন্তু সেই মধুর দিনগুলির পরিণতি যে এমন মর্মান্তিক হবে, কে জানত?
আপনি কি অবসাদগ্রস্ত? বিষণ্ণ? চরম কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না। আপনার হাত ধরতে তৈরি অনেকেই। কথা বলুন প্লিজ...
iCALL (সোম-শনি, ১০টা থেকে ৮টা) ৯১৫২৯৮৭৮২১
কলকাতা পুলিস হেল্পলাইন (সকাল ১০টা-রাত ১০টা, ৩৬৫ দিন) ৯০৮৮০৩০৩০৩, ০৩৩-৪০৪৪৭৪৩৭
২৪x৭ টোল-ফ্রি মানসিক স্বাস্থ্য পুনর্বাসন হেল্পলাইন-- কিরণ (১৮০০-৫৯৯-০০১৯)
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)