জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আস্তিন থেকে একের পর এক তাস বের করছে ইরান। ইসলায়েল-আমেরিকা মতো প্রবল শক্তিধর দেশের সঙ্গে অসম এক লড়াইয়ে পিছিয়ে নেই খামেইনির দেশ। এবার তারা লঞ্চ করল তাদের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি সেজ্জিল ২ ক্ষেপক্ষাস্ত্র। সলিড ফুয়েল চালিত, ২ স্টেজের এই মিসাইলের পাল্লা ২০০০ কিলোমিটার। ফলে খুব সহজেই এটির পাল্লায় চলে আসছে ইসরায়েল। ২৮ ফেব্রুায়রি যুদ্ধ শুরু পর এই প্রথম ইরান এরকম এক শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করল। এমনটাই দাবি করেছে ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি।
Add Zee News as a Preferred Source
ইরানের সেজ্জিল ২ একটি টু স্টেজের কঠিন জ্বালানিচালিত মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। এটি প্রায় ৭০০ কিলোগ্রাম ওজনের পেলোড বহন করতে পারে। উচ্চতায় কৌশলগতভাবে দিক পরিবর্তন করার ক্ষমতার কারণে একে অনেক সময় ড্যান্সিং মিসাইল বলা হয়। অর্থাৎ এটি এমনভাবে চলাচল করতে পারে যে আইরন ডোমের মতো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এড়িয়ে যাওয়া এর পক্ষে সহজ হয়।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (CSIS)–এর তথ্য অনুযায়ী, এই ক্ষেপণাস্ত্রটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১৮ মিটার, ব্যাস প্রায় ১.২৫ মিটার, এবং ওজন প্রায় ২৩,৬০০ কিলোগ্রাম।
কঠিন জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে এই ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় কৌশলগত সুবিধা রয়েছে। এতে পুরোনো তরল জ্বালানিচালিত ক্ষেপণাস্ত্র—যেমন শাহাব সিরিজের তুলনায়—এটিকে দ্রুত উৎক্ষেপণ করা যায়।
আরও পড়ুন-মরিয়া ট্রাম্পের মোজতবা খামেইনির মাথার মূল্য ঘোষণা; কত দাম ইরান-সুপ্রিমোর, জানেন?
আরও পড়ুন-ভয়ংকর অচলাবস্থার মুখে গোটা বিশ্ব! হরমুজের পর এবার বাবেল প্রণালী বন্ধ হলেই হাহাকার বাণিজ্যে
সেজ্জিল ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কাজ শুরু হয় ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে। সিএসআইএস-এর তথ্য অনুযায়ী, এর প্রথম পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ হয় ২০০৮ সালে। তখন ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করেছিল বলে জানা যায়। এরপর ২০০৯ সালের মে মাসে দ্বিতীয়বার উৎক্ষেপণ করা হয়, যেখানে উন্নত নেভিগেশন ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হয়।
২০০৯ সালের পর থেকে আরও চারটি ফ্লাইট টেস্ট করা হয়েছে। ষষ্ঠ পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ১,৯০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে ভারত মহাসাগরে গিয়ে পড়েছিল বলে জানা যায়।
সাজ্জিলকে এমন একটা সময় উত্ক্ষেপন করা হয়েছে যখন ইরান-ইসারায়েল যুদ্ধে ১৬ দিনে পড়েছে। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল একসঙ্গে ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর এই সংঘাত আরও তীব্র হয়ে ওঠে। সেই হামলায় ইরানের ৮৬ বছর বয়সী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। এরপর মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে যুদ্ধ আরও বড় আকার ধারণ করে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলিতে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিতে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন খবরে বলা হচ্ছে এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে ২,০০০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই ইরানের। পেন্টাগন জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বাহিনী ইরানে ১৫,০০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)