Iran USA Ceasefire: হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরের সাথে যুক্ত করেছে। এই নৌপথটি বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধে এখন সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালী। এই জলপথটি বন্ধ করে দেওয়াও সব চাপ এখন গিয়ে পড়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপরে। ২১ মাইল চওড়া এই জলপথ দিয়ে দুনিয়ায় ২০ শতাংশ তেল সরবারহ হয়। আর তা আটকে যেতেই নাভিশ্বাস উঠেছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলি ও কাতার, বাহারিনের মতো তেল উত্পাদকারী দেশগুলির। এখন আমেরিকা যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এখন বেশ বিপাকে পড়েছে ইরান। কেন? জানলে অবাক হয়ে যাবেন।
হরমুজ প্রণালীর মধ্যে ৩ মাইল একটি জায়গা রয়েছে যেখান সাগরের নাব্য়তা সবচেয়ে বেশি। এই অংশ দিয়েই যাতায়াত করে বিশাল বিশাল তেলবাহী ট্যাঙ্কার। আর জাহাজ আটকাতে সেখানেই মাইন পেতে রেখেছিল ইরান। উপরে ছিল ইরানের এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের নজরদারী। এখন যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়ে যাওয়ার পর সেইসব মাইন এখন সরিয়ে নিতে হবে হরমুজ প্রণালী থেকে। কিন্তু ঘটনা হলে সেইসব মাইন এখন খুঁজে পাচ্ছে না ইরান। সরাবে কী? এমনটাই দাবি করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি রিপোর্ট।
গত মাসে ইরান হরমুজ প্রণালীতে মাইন বসাতে ছোট ছোট নৌকা ব্যবহার করেছিল। তবে নিউ ইয়র্ক টাইমসের ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরান এই মাইনগুলো কোথায় কোথায় বসিয়েছে তার কোনো সঠিক হিসাব বা রেকর্ড রেখেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। ইরান বলেছিল জাহাজ চলাচল শুরু হলেও তার উপরে নজরদারি থাকবে ইরানের। পাশাপাশি ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, যাই হোক হরমুজ খুলতেই হবে ইরানকে।
হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর এবং আরব সাগরের সাথে যুক্ত করেছে। এই নৌপথটি বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভারতের জন্য এর গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ দেশটির মোট জ্বালানি আমদানির ৮০ শতাংশই এই পথ দিয়ে আসে।
ইরানের ইসলামি রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) আগেই সতর্ক করেছিল যে, এই প্রণালী দিয়ে যাওয়ার সময় জাহাজগুলো সমুদ্রের মাইনের সাথে ধাক্কা খেতে পারে। তবে তারা একটি বিকল্প পথ খোলা রেখেছিল, যা দিয়ে টোল বা মাশুল দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে পারত।
চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে, ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খুলে দিতে রাজি হয়। কিন্তু মাইন পুঁতে রাখার সমস্যার কারণে দ্রুত এই নৌপথটি পরিষ্কার করা সম্ভব না হওয়ায়, ইরান বিকল্প রুটের ঘোষণা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের মূল এলাকায় মাইন বিস্ফোরণের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে তারা এই সিদ্ধান্ত নেয়।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)