)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: সম্প্রতি ইসরায়েল (Israel) দাবি করেছে যে ইরান তাদের বিরুদ্ধে ক্লাস্টার বোমা (cluster bombs) ব্যবহার করেছে। ইসরায়েল ও ইরানের চলমান এই যুদ্ধের (Israel Iran War) সপ্তম দিনে প্রথমবারের মতো এই ধরনের মারণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ। এই ঘটনার পর বিশ্বব্যাপী ক্লাস্টার বোমার মানবিক বিপর্যয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ক্লাস্টার বোমা কী?
ক্লাস্টার বোমা হচ্ছে একটি বিস্ফোরক অস্ত্র যা আকাশপথে ফেলা হয় বা ভূমি থেকে নিক্ষিপ্ত হয়। এটি মাঝ আকাশে ফেটে শত শত ছোট ছোট বোমা (সাবমিউনিশন) ছড়িয়ে দেয়, যা কয়েকটি ফুটবল মাঠের সমান এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এই ছোট বোমাগুলোর একটি বড় অংশ সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরিত হয় না এবং বছরের পর বছর অবিস্ফোরিত অবস্থায় থেকে যায়, যা সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।
বিপজ্জনক দিক
যুদ্ধ শেষ হওয়ার অনেক বছর পরও অবিস্ফোরিত বোমা শিশু, কৃষক বা সাধারণ পথচারীর মৃত্যু বা পঙ্গুত্বের কারণ হতে পারে। এসব বোমা খুঁজে বের করা ও নিষ্ক্রিয় করা খুব ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ। ক্লাস্টার বোমা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে না। বাতাস, আবহাওয়া বা টেকনিক্যাল ত্রুটির কারণে এটি বেসামরিক এলাকায়ও পড়ে যেতে পারে।
ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক অবস্থান
ক্লাস্টার মুনিশন প্রথম ব্যবহৃত হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে। ঠান্ডা যুদ্ধের সময় এ ধরনের অস্ত্র ব্যাপকমাত্রায় মজুত হয়। ২০০৮ সালে গৃহীত হয় "Convention on Cluster Munitions"— একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি যা এই অস্ত্র ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। বর্তমানে ১২৩টি দেশ এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউক্রেন এখনও সই করেনি।
সাম্প্রতিক উদাহরণ
২০২৫ সালের মার্চ মাসে রাশিয়া ইউক্রেনের ডব্রোপিলিয়া শহরে ক্লাস্টার বোমা হামলা চালায়, যাতে অন্তত ১১ জন নিহত ও ৪০ জন আহত হয়। এটি যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার জন্য আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা হয়।
ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে বর্তমান পরিস্থিতি
ইসরায়েল দাবি করেছে, ইরান একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে যা ক্লাস্টার বোমা বহন করছিল। লক্ষ্য ছিল বেসামরিক এলাকায় বেশি ক্ষয়ক্ষতি ঘটানো। যদিও ইরান এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি, তবে এই অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
ক্লাস্টার বোমা যুদ্ধক্ষেত্রে সামরিক লক্ষ্যবস্তুর জন্য তৈরি হলেও বাস্তবে এটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে সাধারণ মানুষের। দীর্ঘমেয়াদে এটি একটি মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিতে পারে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে এই অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তবে তা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও যুদ্ধনীতির মারাত্মক লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)