জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: উত্তাল ইরান (Iran Unrest)। বহুদিন ধরেই উদারপন্থীদের সঙ্গে কট্টরপন্থীদের সংঘাত চলছিল। এবার সেখানে অবশ্য ইকনমিক প্রোটেস্ট (Iran's Economic Protests) চলছে। জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধি ঘিরে দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে বিক্ষোভ-প্রতিবাদ। এবং তার সূত্রে দমন-প্রতিরোধ। এবং মৃত্যু। সংঘর্ষে এখনও পর্যন্ত ২৫০০ জনের মৃত্যু ঘটেছে!
Add Zee News as a Preferred Source
আরও পড়ুন: Oldest Cremation: প্রায় ১০ হাজার বছর আগে দাহ হয়েছিল, এখন মিলছে সেই রহস্যময়ীর পোড়া দেহাংশ! কিন্তু দাঁত নেই কেন?
২৫০০ মৃত্যু
ইরানে বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য-সহ প্রায় আড়াই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। দুসপ্তাহ ধরে চলা দেশব্যাপী অস্থিরতা দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার পরে এই প্রথম সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এত বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যুর কথা স্বীকার করে নিল। এক ইরানি কর্মকর্তা দাবি করেছেন, বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা কর্মী-- উভয় পক্ষের মৃত্যুর পিছনে দায়ী সন্ত্রাসীরা।
অশান্ত ইরান
ইরানে ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এই অস্থিরতার সূত্রপাত। গত তিন বছরের মধ্যে এটিই ইরান সরকারের পক্ষে সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে। গত বছর ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর থেকে ইরান এমনিতেই তীব্র আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে এই মৃত্যুর সংবাদ।
কারা সন্ত্রাসী?
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা ইরানের ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ এই আন্দোলন মোকাবিলায় দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করেছে। তারা অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে হওয়া প্রতিবাদ-বিক্ষোভকে বৈধ বলে অভিহিত করলেও বাস্তবে অত্যন্ত কঠোরভাবে তা দমন করছে। ইরান সরকার এই অস্থিরতা উসকে দেওয়ার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে দাবি করেছে, তথাকথিত সন্ত্রাসীরা এই আন্দোলনকে দখল করে নিয়েছে। কয়েকদিন ধরে তেহরান সরকারের তরফে ইন্টারনেট বন্ধ রাখা হয়েছে। এর উপর সব ধরনের যোগাযোগের উপরই নানা বিধিনিষেধ। ফলে তথ্য সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
খামেইনির উপর চাপ
ইরানের সাম্প্রতিক এই বিক্ষোভ মূলত পশ্চিম ইরানের কুর্দি ও লোর জনগোষ্ঠী-অধ্যুষিত এলাকাতেই কেন্দ্রীভূত। তবু এটি নিঃসন্দেহে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেইনির উপর নতুন চাপ তৈরি করেছে। কারণ, গত জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে ইরানের পারমাণবিক পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নিরাপত্তা বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা নিহত হন। ৮৬ বছর বয়সী খামেইনি ১৯৮৯ সাল থেকে ক্ষমতায় আছেন।
ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ
কয়েকদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, বিক্ষোভকারীদের প্রাণহানি অব্যাহত থাকলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। ইরান যদি অতীতের মতো গণহত্যা শুরু করে, তাহলে আমেরিকা কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখাবে!
আরও পড়ুন: Nipah Virus Deaths: 'নিপা'য় ৪৩৭ মৃত্যু! ৭৫ শতাংশ ফ্যাটালিটি রেট নিয়ে 'ইবোলা'র থেকেও ভয়ংকর এই বাদুড়ে রোগ...
সূত্রপাত
গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানের রাজধানী তেহরানে দোকানদারদের ধর্মঘটের মধ্য দিয়ে বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। গত রবিবার তেহরান দক্ষিণের শহর শিরাজ এবং পশ্চিম ইরানের কয়েকটি এলাকায় রাতভর বিক্ষোভ হয়েছে। বিক্ষোভে বর্তমান ধর্মীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে স্লোগান শোনা গিয়েছে। চলতি বিক্ষোভে ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে অন্তত ২৩টিই আলোড়িত। অন্তত ৪০টি শহরে বিভিন্ন মাত্রায় চলছে বিক্ষোভ।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)