)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইরানের একের পর লক্ষ্যবস্তুর উপরে হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। ট্রাম্প তো হুমকিই দিয়ে দিয়েছেন, তেহরান ছেড়ে মানুষের চলে যাওয়া উচিত। ইসরায়েল ইতিমধ্যেই ইরানের একাধিক সেনা পরিকাঠামোর উপরে আঘাত হেনেছে। পাশাপাশি আইডিএফের কার্যালয়, হাইফা বন্দর ও মোসাদের সদর দফতরের উপরে হামলা চালিয়েছে ইরান। এর পরও আরও বড় আকারের যুদ্ধের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি। তবে এরকম এক পরিস্থিতির মধ্যেই একটা খবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্য়মে ভাসছে। সেটি হল মধ্যপ্রচ্যে তৈরি হতে চলেছে এক ইসলামিক আর্মি।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে একটি ইসলামিক আর্মি গঠন করার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। লক্ষ্য মধ্য প্রাচ্যের দেশগুলির নিরাপত্তা। ইরান নাকি প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব, ইরান, তুর্কিয়ে, পাকিস্তান ও অন্যান্য কয়েকটি দেশ মিলে তৈরি হোক 'ইসলামি আর্মি'।
কোথা থেকে এমন কথা উঠে আসছে? ইরানের প্রাক্তন আইআরজিসি(IRGC) কমান্ডার মহসেন রেজাইয়ের এক পুরনো বিবৃতি তুলে ধরা হচ্ছে। সেখানে মহসেন বলেছিলেন, ইসলামিক আর্মি তৈরি হলে তা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। মুসলিম দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আত্মরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
মহসেনের ওই সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ২০২৩ সালের ১ নভেম্বর "To Palestine’s Horizon" অনুষ্ঠানে মহসেন রেজাই ওই কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ফিলিস্তিনের ইন্তিফাদা চলতে থাকলে একটি আন্তর্জাতিক ইসলামিক সেনাবাহিনী গঠন করা হবে। ইসরায়েলি আগ্রাসনের কারণে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা জরুরি। ২০২৪ সালের ১৫ অক্টোবর আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজাই বলেন, মুসলিম সরকারগুলোকে একটি ইসলামিক সেনাবাহিনী গঠনের আহ্বান জানাচ্ছি, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
কাতারের রাজধানী দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই আশঙ্কার কথা বলেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি। তিনি ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলার কড়া নিন্দা জানান। পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে সহিংসতার পথ পরিহারের আহ্বান জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলের হামলার ঘটনাকে ‘অবিবেচনাপ্রসূত পদক্ষেপ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। মাজেদ আল-আনসারি বলেন, এই হামলার সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ ইরান যখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে ইতিবাচক পথে আলোচনার প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাচ্ছিল ঠিক তখনই এই হামলা চালানো হয়েছে। আর ওই আলোচনায় আঞ্চলিক অনেক দেশ সরাসরি যুক্ত ছিল।
এদিকে, মঙ্গলবার ইসরায়েলে বড়সড় আঘাত হেনেছে ইরান। এমনটাই দাবি আইআরজিসির। ইরানি সেনার দাবি, ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা কেন্দ্র ও মোসাদের একটি অভিযান পরিকল্পনা কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করেছে তারা। আইআরজিসির দাবি, তাদের অ্যারোস্পেস ফোর্স ইউনিটগুলি মোসাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে। অত্যন্ত উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দ্বারা সুরক্ষিত থাকা সত্ত্বেও তারা ইসরায়েলের হার্জেলিয়ার গোয়েন্দা ভবন, মোসাদ এবং আমান সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এই দাবির কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)