)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: অশান্ত মধ্যপ্রাচ্য। ইরানের বিরুদ্ধে পুরোদস্তুর যুদ্ধ ঘোষণা ইসরায়েলের (Israel Iran War)। জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী। শুক্রবার ভোর রাতের দিকে প্রথমে ইরানের তেহরানে পরমাণু ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল (Israel Strikes on Iran)। ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন ইরানের সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল মহম্মদ বাঘেরি (Mohammad Bagheri)। বাঘেরির মৃত্যু খবর নিশ্চিত করেছে ইরানি সরকারি টিভি চ্যানেল। এরপর পালটা জবাবি হামলা চালিয়েছে ইরানও।
ইসরায়েলের উদ্দেশে পালটা ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান। ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকা টার্গেট করে ১০০টি ড্রোন নিয়ে হামলা চালিয়েছে তেহরান। ইরানি ড্রোন নিষ্ক্রিয় করার জন্য সিরিয়া ও ইরাকের আকাশপথে আমেরিকা, ইসরায়েল ও ব্রিটিশ যুদ্ধবিমানগুলিকে সক্রিয় করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ওদিকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের "অপারেশন ট্রু প্রমিস-৩" (Operation True Promise-3) শুরুর কথা ঘোষণা করেছে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলি। ওমানে ষষ্ঠ দফার আলোচনায় ইরান যোগ দেবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছে ইরান।
প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর বক্তব্য
ইরানের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, ইসরায়েল ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচির কেন্দ্রবিন্দুতে আঘাত হেনেছে। নাতাঞ্জের পারমাণবিক ঘাঁটি এবং পারমাণবিক বিজ্ঞানীদের লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তেহরানের বসতি এলাকায় ইজরায়েলি হামলায় নারী ও শিশু সহ বেসামরিক নাগরিকরা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের সংবাদমাধ্যগুলি। ওদিকে বাঘেরির পাশাপাশি ইরানের আধাসামরিক বিপ্লবী গার্ডের প্রধান হোসেইন সালামিও হামলায় নিহত হয়েছেন বলেও ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে।
মহম্মদ বাঘেরি কে? (Who is Mohammad Bagheri)
উল্লেখ্য, এদিন ইসরায়েলের বিমান হামলার পর প্রথমে বাঘেরির নিহত হওয়ার কথা স্বীকার করেনি ইরান। ইরানের সরকারি গণমাধ্যমে প্রথমে দাবি করা হয়েছিল যে বাঘেরি জীবিত রয়েছেন ও একটি সামরিক যুদ্ধ কক্ষে রয়েছেন। পরে অবশ্য ইরানি স্টেট চ্যানেলের তরফে বাঘেরির মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। মেজর জেনারেল বাঘেরি ইরানের শীর্ষ সামরিক কর্তা। মহাম্মদ-হোসেইন আফশোর্দি নামে তেহরানে বাঘেরির জন্ম। তবে তাঁর জন্ম সাল নিয়ে নিশ্চিত করে কিছ জানা যায় না। বাঘেরি তারবিয়াত-ই মোদারেস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেন। পরে রাজনৈতিক ভূগোলে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন।
২০১৬ থেকে বাঘেরি ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ২০১৬ সালে বাঘেরিকে গোয়েন্দা ও অপারেশন বিভাগের ডেপুটি চিফ অফ স্টাফের পদ থেকে তুলে সশস্ত্র বাহিনী (AFGS)-র নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করা হয়। পদোন্নতি ঘটে বাঘেরির। এটি-ই ইরানে সর্বোচ্চ সামরিক পদ। বাঘেরি একজন সামরিক গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞও। ১৯৮০ সালে বাঘেরি আইআরজিসিতে যোগ দেন। আশির দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধে অংশ নেন।
বাঘেরি ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)-এর একজন ঊর্ধ্বতন ইরানি সামরিক কর্তা। আইআরজিসি কমান্ড নেটওয়ার্ক হিসাবে চিহ্নিত দলের সদস্য ছিলেন বাঘেরি। বাঘেরি, মহম্মদ আলি জাফারি, আলি ফাদাভি ও গোলাম আলি রশিদ সহ অন্যান্য IRGC কমান্ডার গোষ্ঠী ইরানের সামরিক বাহিনীর আধিপত্য বিস্তার, অভিযান পরিকল্পনার পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করত।
বাঘেরির কার্যকলাপ ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লবের সময় থেকেই শুরু হয়। বলা হয়ে থাকে, তিনি ইরানে মার্কিন দূতাবাস আক্রমণ ও দখলকারী ছাত্রদের মধ্যে একজন ছিলেন। বাঘেরির দাদা হাসান বাঘেরিও একজন বিশিষ্ট আইআরজিসি কমান্ডার ছিলেন।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)