)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নেপাল পরিস্থিতি নিয়ে এবার মুখ খুললেন ভারতের প্রধান বিচারপতি (CJI)। সুপ্রিম কোর্ট বুধবার ভারতের সংবিধানের শক্তি তুলে ধরতে গিয়ে গত দু’দিন ধরে চলতে থাকা নেপালের অশান্তির প্রসঙ্গ টেনে আনে। প্রেসিডেন্ট রেফারেন্স মামলার শুনানির সময় ভারতের প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই এবং বিচারপতি বিক্রম নাথের বেঞ্চে এই আলোচনা হয়। প্রধান বিচারপতি গাভাই নেপালের উত্তপ্ত পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, 'আমরা আমাদের সংবিধান নিয়ে গর্বিত, দেখুন পাশের দেশে কী হচ্ছে।'
তিনি উল্লেখ করেন, দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এরপর বিচারপতি বিক্রম নাথ যোগ করেন, 'আর বাংলাদেশও', — প্রতিবেশী দেশের ছাত্র আন্দোলনের দিকে ইঙ্গিত করে, যে আন্দোলনের জেরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। দুই প্রতিবেশী দেশেই সহিংস বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। তরুণ প্রজন্মের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীদের পদত্যাগের দাবি উঠেছে, আর তাতে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাস্তাঘাট।
নেপালে সোমবার ভয়াবহ দৃশ্যের সাক্ষী হয় রাস্তা-ঘাট, যখন জেনারেশন জেড-এর তরুণ-তরুণীরা দুর্নীতি ও সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে এবং প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি ও তাঁর সরকারের পদত্যাগ দাবি করে। এই বিক্ষোভ দ্রুতই সহিংস রূপ নেয়, আন্দোলনকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এখন পর্যন্ত নেপালে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে এই অশান্তিতে। মঙ্গলবার ক্ষুব্ধ বিক্ষোভকারীরা আগুন ধরিয়ে দেয় সংসদ ভবন, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দফতর এবং শীর্ষ নেতাদের বাড়িতে। পরিস্থিতি এতটাই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় যে প্রাক্তন চারবারের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার স্ত্রী এবং বর্তমান নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. অর্জু রানা দেউবার বাড়িতেও হামলা চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা। কাঠমান্ডুর সেই বাড়িতে ঢুকে তাঁকে আক্রমণ ও মারধর করা হয়।
বিক্ষোভের ফলে বড়সড় অগ্নিসংযোগ, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালী দফতরগুলিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি ক্রমশই আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে জেনারেশন জেড-এর নেতৃত্বে দুর্নীতি, রাজনীতিতে স্বজনপোষণ এবং সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞার (যা পরে প্রত্যাহার করা হয়) বিরুদ্ধে চলা আন্দোলনের মধ্যেই।
বাংলাদেশ সংকট
ভারতের অপর পূর্ব প্রতিবেশী বাংলাদেশেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত তা সরকার পরিবর্তনের দিকে গড়ায়। ছাত্র আন্দোলনের জেরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রাণ বাঁচাতে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়। ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঢাকায় সরকারি চাকরিতে মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের জন্য সংরক্ষণের বিরুদ্ধে ছাত্ররা আন্দোলন শুরু করে। তাদের অভিযোগ ছিল, এই কোটা ব্যবস্থায় স্বজনপোষণ করা হচ্ছে এবং হাসিনার আওয়ামী লীগের সমর্থকরাই বেশি সুবিধা পাচ্ছে।
এরপর বিরোধী দল এবং মৌলবাদী সংগঠনগুলোও আন্দোলনে যোগ দেয় এবং সেটিকে গণআন্দোলনের রূপ দেয়, যার মূল দাবি ছিল হাসিনা সরকারের পতন। ঢাকার সেই আন্দোলনও ভয়াবহ আকার নেয়। আগুন লাগানো, সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের পাশাপাশি বহু বাড়িঘরেও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এক বছর পর ভারতের নিকটবর্তী আরেক প্রতিবেশী দেশেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল।
বাংলাদেশে বিক্ষোভকারীদের হত্যার পর অ্যান্টি-হাসিনা আন্দোলনের আগুন ছড়াতে কয়েক সপ্তাহ লেগেছিল, কিন্তু তুলনায় ছোট দেশ নেপালে সেই আগুন কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। দুই দেশের ঘটনাপ্রবাহে বিস্ময়কর মিল দেখা যায়, যা শেষ পর্যন্ত সরকার পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যায়। তবে তার আগে বহু মানুষের প্রাণ গেছে এবং কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস হয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)