)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: নেপালে (Nepal) গণবিক্ষোভ, কাঠমান্ডুতে (Kathmandu) কারফিউ (Carfew) জারি, পুলিসের গুলিতে নিহত ৫। কিছুদিন আগেই প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশের অচলাবস্থা দেখেছে সারা বিশ্ব। কোটা বিরোধী আন্দোলনে উত্তাল হয়ে বাংলাদেশের শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। নেপালের এই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যান আর তার জেরে নেপালের রাস্তায় জনবিক্ষোভ, আরেকবার বাংলাদেশের কথা মনে করাচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত:
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে সমস্ত সোশ্যাল মিডিয়া মাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এর জেরে প্রশাসন সোমবার নিউ বানেশ্বর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় কারফিউ জারি করেছে। এই ঘটনায় পুলিসের গুলিতে একজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ:
নেপালের কেপি শর্মা ওলি সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-সহ একাধিক অভিযোগ ছিলই। সম্প্রতি সেদেশে ফেসবুক (Facebook), ইউটিউব (You tube), এক্স (X)-সহ প্রায় সব ধরনের সোশাল মিডিয়া (Social Media App) নিষিদ্ধ হওয়ায় আগুনে ঘি পড়েছে। ব্যাপক প্রতিবাদ আন্দোলনে নেমেছে নেপালের তরুণ প্রজন্ম। রাস্তায় নেমে কেপি শর্মা ওলি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখাচ্ছে তাঁরা। এমন কী একদল উত্তেজিত জনতা সংসদ ভবনের ভিতরে ঢুকে পড়েছে। বিক্ষোভকারীদের সরাতে লাঠিচার্জ করে পুলিস। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঠমাণ্ডতে কারফিউ জারি করেছে প্রশাসন।
ঘটনার কারণ:
ঘটনার সূত্রপাত হয় হাজার হাজার যুবক রাস্তায় নেমে আসায়। তারা সরকারের সাম্প্রতিক দুর্নীতি এবং ২৬টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব এবং স্ন্যাপচ্যাট নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করছিল। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন বিক্ষোভকারীরা একটি নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করে। নিউ বানেশ্বর এলাকায় পুলিসের গুলিতে একজন নিহত হয় এবং আহতদের এভারেস্ট, সিভিল ও অন্যান্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বিক্ষোভকারীদের চিকিৎসার জন্য মাইতিঘরে একটি ফার্স্ট এইড ক্যাম্পও স্থাপন করা হয়েছে।
কাঠমাণ্ডর প্রধান জেলা কর্মকর্তা ছবির লাল রিজাল স্থানীয় প্রশাসন আইন ৬ ধারার অধীনে সোমবার দুপুর ১২:৩০ থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত এই কারফিউ জারি করেছেন।
কারফিউ জারির নির্দেশিকা
কারফিউ আদেশ অনুযায়ী নিউ বানেশ্বর চত্বর থেকে পশ্চিম দিকে এভারেস্ট হোটেল এবং বিজুলিবাজার আর্চ ব্রিজ পর্যন্ত, এবং পূর্ব দিকে মিন ভবন ও শান্তি নগর হয়ে তিনকুণে চত্বর পর্যন্ত সব ধরনের চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া নিউ বানেশ্বর চত্বর থেকে উত্তর দিকে আইপ্লেক্স মল হয়ে রত্ন রাজ্য মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং দক্ষিণ দিকে শঙ্খমূল হয়ে শঙ্খমূল সেতু পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে। এই এলাকাগুলোতে যেকোনো ধরনের জনসমাবেশ, বিক্ষোভ বা ঘেরাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
পুলিসের ভূমিকা:
বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ জল কামান ও টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করে। অন্যদিকে বিক্ষোভকারীরা গাছের ডাল এবং জলের বোতল ছুঁড়ে মারতে থাকে। তারা সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগানও দেয়। কিছু বিক্ষোভকারী নিউ বানেশ্বরে অবস্থিত সংসদ ভবনের চত্বরেও প্রবেশ করেছিল।
কেন এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধ?
নেপাল সরকার গত বৃহস্পতিবার ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং ইউটিউব-এর মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে নিষিদ্ধ করে, কারণ তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে নিজেদের নিবন্ধন করাতে ব্যর্থ হয়েছিল। মন্ত্রণালয় থেকে ২৮ আগস্টের মধ্যে ৭ দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু মেটা (ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ), গুগল (ইউটিউব), এক্স (আগে টুইটার) সহ কোনো বড় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমই নিবন্ধন করেনি।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি বলেছেন, "দেশের সার্বভৌমত্বকে ক্ষুণ্ণ করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।" তিনি আরও বলেন, নেপাল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিরুদ্ধে নয়, বরং যেসব সংস্থা নেপালে ব্যবসা করছে এবং টাকা উপার্জন করছে, অথচ দেশের আইন মানতে রাজি নয়, তাদের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)