)
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ফের উত্তাল বাংলাদেশ। ছাত্রনেতা শরীফ ওসমান হাদি-র মৃত্যুতে ব্যাপক সংঘর্ষ ও বিক্ষোভ। গুলিতে গুরুতর আহত হওয়া এই নেতা শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুরে মারা যান। তাঁর মৃত্য়ুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঢাকা-সহ রাজশাহী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্র ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে পড়ে বিক্ষোভ করতে। ইতোমধ্যেই জানা গিয়েছে, বঙ্গবন্ধু হলের নামের ফলকে ওসমান হাদি হল। ব্যানার টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছে সেখানে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও শাহবাগ গোলচত্বরে রাতভর বিক্ষোভ চলে। শিক্ষার্থীরা রাস্তা অবরোধ ও মিছিল করে এবং তারা 'আমরা সবাই হাদি হইবো', 'অধ্যাদেশ নয়, স্বাধীনতা' জাতীয় স্লোগান উঁচিয়ে দাবি করছে হাদির হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও শাস্তির বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, উত্তেজিত জনতা প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার-সহ বড় বড় সংবাদপত্রের অফিসে ভাঙচুর করে। সেখানে ঢুকে লুঠপাট চালায় হাদি-অনুগামীরা। এমনকী সেখানে আগুনও ধরিয়ে দেয়। সংবাদপত্র অফিসের কর্মীরা প্রাণভয়ে ছাদে উঠে যায়। পরে তাদের ক্রেনের সাহায্যে কার্যালয়ের উপর থেকে কর্মীদের উদ্ধার করা হয়। রাজশাহীতে আওয়ামী লীগ অফিস ও শেখ মুজিবের বাড়ি‑র মতো স্থাপনায় বিক্ষোভাকারীরা হামলা চালায় বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় দিকে দিকে ফের ভারতের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়াচ্ছে একদল। ভারত - বিরোধী স্লোগান তোলা হচ্ছে দিকে দিকে। কট্টরপন্থীরা বৃহস্পতিবার রাতেই ভারতীয় সহকারী-হাইকমিশনারের বাসভবনের সামনে ইটপাটকেল ছোড়ে। রাজশাহীতে বিক্ষোভকারীরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ি এবং আওয়ামী লীগ অফিসে আগুন ধরায়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, হাদির হত্যাকারীরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে। এবং যতক্ষণ না পর্যন্ত হাদির হত্যাকারী এবং শেখ হাসিনাকে তাদের হাতে তুলে দেয়,ততক্ষণ পর্যন্ত বাংলাদেশে ভারতীয় দূতাবাসের অফিস বন্ধ থাকবে।
এই আবহেই বাংলাদেশের অর্ন্তর্বতী সরকার মহম্মদ ইউনূস সকলকে শান্তি বার্তা দিয়েছে। এবং হাদির মৃত্যুতে একদিনের শোক দিবস ঘোষণা করেছেন তিনি হাদিকে 'স্বাধীনতার সংগ্রামী' হিসেবে উল্লেখ করে বলেছেন, যারা তাঁর আওয়াজ বন্ধ করার চেষ্টা করেছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিছু ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে এবং তদন্ত দ্রুত অগ্রসর করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, হাদি গত বছরের জুলাই আন্দোলনের মূল নেতৃত্বের অংশ ছিলেন, যা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বৈরশাসক শাসন শেষ করেছিল। তিনি ফেব্রুয়ারি ২০২৬ নির্বাচনের প্রার্থী ছিলেন। ১২ ডিসেম্বর ঢাকার একটি মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় তিনি গুলিতে আহত হন এবং পরে সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে মারা যান।
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)